আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের কর্মসূচি শেষ করে কলকাতা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার দুপুর সোয়া ১টা নাগাদ তাঁর বিমানটি দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করলেও, প্রায় ৪৫ মিনিট সেখানে অপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর কনভয়। মূলত নিট (NEET-UG) পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে যাতে কোনও ট্রাফিক বিভ্রাট না ঘটে, সেই কারণেই দুপুর ২টোর পর বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী।
পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে কনভয় নিয়ন্ত্রণ
রবিবার দুপুর ২টো থেকে শুরু হয়েছে মেডিক্যালের স্নাতকে ভর্তির যোগ্যতা নির্ধারক পরীক্ষা ‘নিট’। পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী। সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর কনভয় যাতায়াতের সময় নির্দিষ্ট রুটে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর ফলে পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনওরকম সমস্যার মুখে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতেই এই সংবেদনশীল পদক্ষেপ নেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ২টোয় পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর তাঁর কনভয় বিমানবন্দর থেকে বাসভবনের দিকে রওনা দেয়।
প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর কড়া নিরাপত্তায় পুনঃপরীক্ষা
গত ৩ মে দেশজুড়ে নিট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ১২ তারিখ কেন্দ্র সরকার প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত করে পূর্বের পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করে। সেই কারণেই রবিবার নতুন করে এই প্রবেশিকা পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। এবার যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা বা কারচুপি না ঘটে, তার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিকে বহুস্তরীয় নিরাপত্তাবলয়ে মুড়ে ফেলেছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)।
এবারের পরীক্ষার মূল খুঁটিনাটি নিচে তুলে ধরা হলো:
- পরীক্ষার্থীর সংখ্যা: দেশজুড়ে মোট ২২ লক্ষ ৭৯ হাজার পরীক্ষার্থী এই পুনঃপরীক্ষায় বসেছেন।
- সময়সীমা: দুপুর ২টোয় শুরু হয়ে পরীক্ষা শেষ হয় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে।
- বায়োমেট্রিক ও পরিচয় যাচাই: প্রতিটি কেন্দ্রে বায়োমেট্রিক উপস্থিতির ব্যবস্থা ছিল। কঠোরভাবে সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করার পরই পরীক্ষার্থীদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
- কড়া পোশাকবিধি ও নিষেধাজ্ঞা: পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাকবিধি (Dress Code) বাধ্যতামূলক করেছিল এনটিএ। মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব, স্মার্ট ওয়াচ বা ব্লুটুথ ডিভাইসের মতো যে কোনও ধরনের বৈদ্যুতিন যন্ত্র বহনের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ছিল।
নজরদারিতে ২ লক্ষ কর্মী
সার্বিক পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিশ্ছিদ্র রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ২ লক্ষ কর্মী ও আধিকারিককে মোতায়েন করা হয়েছিল। বিভিন্ন কেন্দ্রে নজরদারির জন্য ছিলেন ৬,৬৬৯ জন পর্যবেক্ষক (Observers)। এছাড়াও শহরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলির সমন্বয় সাধনে ৬৭৪ জন সিটি কো-অর্ডিনেটর দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার সাহায্যে কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি প্রতিটি হলের ওপর নজরদারি চালানো হয়।

