উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থানার আটঘরা এলাকায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে খুনের অভিযোগে তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দুই স্ত্রীকে নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃতার নাম রেহেনা বিবি (৩৬)। তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। শুক্রবার সকালে রেহেনার স্বামী শাহাবুদ্দিন মণ্ডল তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে জানান যে রেহেনা অসুস্থ এবং তাঁকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। খবর পেয়ে রেহেনার ভাইপো রাজিবুল মণ্ডল দ্রুত পিসির বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তিনি রেহেনাকে ঘরের মেঝেতে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পরিবারের অভিযোগ
মৃতার পরিবারের দাবি, এটি সাধারণ মৃত্যু নয় বরং পরিকল্পিত খুন। রাজিবুল মণ্ডলের বয়ান অনুযায়ী:
“বাড়ি গিয়ে দেখি পিসি অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছে। তাঁর কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। দ্রুত রুদ্রপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।”
মৃতার কাকা সিরাজুল মণ্ডলের অভিযোগ, শাহাবুদ্দিনের দুটি বিয়ে এবং রেহেনা ছিলেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। দুই স্ত্রীকে কেন্দ্র করে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। সেই বিবাদের জেরেই অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শাহাবুদ্দিন খুন করেছেন বলে তাঁদের দাবি।
পুলিশি তৎপরতা
খবর পেয়ে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী শাহাবুদ্দিন মণ্ডলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রতিবেশী এবং অন্যান্য আত্মীয়দের বয়ানও রেকর্ড করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

