দীর্ঘ ১২ বছর পর দেশে পাসপোর্ট তৈরির খরচ বৃদ্ধি করল কেন্দ্র সরকার। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বড় ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন নিয়মে সাধারণ এবং তৎকাল— উভয় বিভাগেই পাসপোর্ট তৈরির ফি এক ধাক্কায় বেশ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই বর্ধিত হার কার্যকর হতে চলেছে। অর্থাৎ, ১ জুলাই বা তারপরে যাঁরা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন, তাঁদের নতুন নিয়ম মেনেই টাকা দিতে হবে।
প্রসঙ্গ উল্লেখ্য, গত বুধবারই বিদেশ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল যে, পাসপোর্ট দেশবাসীর নাগরিকত্ব বা পরিচয়পত্র হতে পারে না; এটি কেবলমাত্র একটি ভ্রমণের নথি (Travel Document)। এই বিতর্কের আবহেই ‘পাসপোর্ট (সংশোধনী) আইন ২০২৬’-এর অধীনে গত ২০ জুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ফি বৃদ্ধির ঘোষণা করা হলো। এর আগে ২০১২ সালে শেষবার পাসপোর্টের খরচ বাড়ানো হয়েছিল।
এক নজরে সাধারণ ও তৎকাল পাসপোর্টের নতুন খরচ (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে নতুন পাসপোর্ট তৈরি বা রিইস্যু করার খরচ নিচে দেওয়া হলো:
- ৩৬ পাতার পাসপোর্ট (সাধারণ): আগের খরচ ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এখন করা হয়েছে ২,৫০০ টাকা।
- ৩৬ পাতার পাসপোর্ট (তৎকাল): আগের খরচ ৩,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এখন করা হয়েছে ৫,০০০ টাকা।
- ৬০ পাতার পাসপোর্ট (সাধারণ): আগের খরচ ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এখন করা হয়েছে ৩,৫০০ টাকা।
- ৬০ পাতার পাসপোর্ট (তৎকাল): আগের খরচ ৪,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এখন করা হয়েছে ৬,০০০ টাকা।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের (১৮ বছরের কম) পাসপোর্টের নতুন ফি
১৮ বছরের কমবয়সিদের ক্ষেত্রে নতুন পাসপোর্ট তৈরি বা রিইস্যুর খরচও অপরিবর্তিত থাকছে না।
- ৩৬ পাতার পাসপোর্ট (সাধারণ): খরচ হবে ১,৭৫০ টাকা।
- ৩৬ পাতার পাসপোর্ট (তৎকাল): খরচ পড়বে ৪,২৫০ টাকা।
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন জরিমানা
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কিংবা নষ্ট হয়ে গেলে নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রেও খরচের বোঝা অনেকটাই বাড়ছে:
| পাসপোর্টের ধরন | সাধারণ ফি (টাকায়) | তৎকাল ফি (টাকায়) |
| ৩৬ পাতা (প্রাপ্তবয়স্ক) | ৫,০০০ | ৭,৫০০ |
| ৬০ পাতা (প্রাপ্তবয়স্ক) | ৬,০০০ | ৮,৫০০ |
| ৩৬ পাতা (অপ্রাপ্তবয়স্ক) | ৪,২৫০ | ৬,৭৫০ |
অন্যান্য পাসপোর্ট সংক্রান্ত পরিষেবার খরচ
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC), পাসপোর্ট সারেন্ডার (ছেড়ে দেওয়া) শংসাপত্র, গ্লোবাল এন্ট্রি প্রোগ্রামের যাচাইকরণ বা অন্য যেকোনো পাসপোর্ট সংক্রান্ত শংসাপত্রের ফি-ও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
- দেশীয় আবেদনকারীদের জন্য: এই সমস্ত শংসাপত্রের জন্য এখন থেকে ৭৫০ টাকা দিতে হবে।
- বিদেশি প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য: এই একই পরিষেবার জন্য দিতে হবে ৫০ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৩,৭০০ টাকার কাছাকাছি)।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের পর থেকে এত বছর পাসপোর্টের খরচে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। সে বছর ৩৬ পাতার পাসপোর্টের খরচ ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা এবং তৎকাল পরিষেবার খরচ ২,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,৫০০ টাকা করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের এই নতুন সংশোধনী আইন চালুর ফলে সাধারণ মানুষের পকেটে যে অতিরিক্ত চাপ পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

