পশ্চিম এশিয়ার জলপথে পণ্যবাহী জাহাজে ফের বড়ো ধরনের হামলার ঘটনা ঘটল। রবিবার ওমান উপকূলের কাছাকাছি ‘এমটি এল গাইয়া’ (MT El Gaila) নামক একটি বাণিজ্যিক জাহাজে এই আক্রমণ চালানো হয়। ওই জাহাজে মোট ১৪ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। হামলার পর তাঁদের মধ্যে ১৩ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এক জন ভারতীয় নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ঠিক কারা এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি কোনো পক্ষ। এর আগে শনিবারই নয়াদিল্লি থেকে প্রকাশিত ব্রিক্স জোটের এক যৌথ ঘোষণাপত্রে পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক জলপথে পণ্যবাহী জাহাজে কর্মরত নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবিও জানানো হয়। সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এই হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
রবিবারের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত সরকার। দেশের বিদেশ মন্ত্রক একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিখোঁজ ভারতীয় নাবিকের সন্ধানে জোরালো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পুরো পরিস্থিতির ওপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নজর রাখছে। নিখোঁজ নাবিককে দ্রুত খুঁজে বের করতে ওমান প্রশাসনের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রেখে চলেছে দূতাবাস।
উক্ত বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক আরও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, বাণিজ্যিক জলযান, নাবিক, সাধারণ নাগরিক কিংবা কোনো অসামরিক এলাকায় আক্রমণ কোনো অবস্থাতেই বরদাস্ত করা যায় না। আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করে পণ্যবাহী জাহাজগুলো যাতে সম্পূর্ণ অবাধে ও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে, তা নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি।
অন্যিদিকে, রবিবার বিকেলেই ইরান দাবি করেছে যে হরমুজ প্রণালির কাছে কাশেম দ্বীপের নিকট তাদের একটি জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তবে আক্রান্ত ওই ইরানি জাহাজের সুনির্দিষ্ট নাম এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

