টানা চার বছরের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে চলতি আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে নেমেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কিন্তু দলের অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্যর ভাবনায় এখন অনেক বড় এক ক্যানভাস। শনিবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের আগে টানা দু’দিন দলের অনুশীলনে গরহাজির ছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী চোট এড়াতে এবং আগামী বছরের বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে ১০০ শতাংশ প্রস্তুত রাখতেই এই কৌশলগত বিশ্রামের পথ বেছে নিয়েছেন অধিনায়ক।
১০ ওভার বোলিং ও বিসিসিআই-এর সবুজ সংকেত
‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চার মাস ধরে নিজের বোলিংয়ের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন হার্দিক। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) এবং জাতীয় নির্বাচকদের তিনি এই নিশ্চয়তা দিতে চান যে, বিশ্বকাপে পূর্ণ ১০ ওভার বল করার মতো শারীরিক সক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
- প্রেক্ষাপট: গত ৩ জানুয়ারি বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ শইকীয়া জানিয়েছিলেন, সেন্টার অফ এক্সেলেন্স হার্দিককে ১০ ওভার বল করার অনুমতি দেয়নি।
- পাল্টা জবাব: তার মাত্র পাঁচ দিন পরেই বিজয় হাজারে ট্রফিতে চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে ১০ ওভার বল করে ৬৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে নিজের ফিটনেস প্রমাণ করেন হার্দিক।
চলতি আইপিএলে প্রথম ম্যাচে কেকেআরের বিরুদ্ধে তিনি ৩ ওভার বল করেছেন। মনে করা হচ্ছে, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতেও তাঁকে নিয়মিত বল করতে দেখা যাবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের রণকৌশল
২০২৭ সালের বিশ্বকাপ আয়োজিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে। সেখানকার পিচে গতি ও বাউন্স সামলাতে একজন পেসার-অলরাউন্ডারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিসিসিআই সূত্রের খবর:
“দক্ষিণ আফ্রিকার পিচে দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে হার্দিক অপরিহার্য। তাঁকে প্রতি ম্যাচে ১০ ওভার বল করতে না হলেও, প্রয়োজনে যাতে তিনি পুরো কোটা পূর্ণ করতে পারেন, সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে। নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে হার্দিক নিজেই এই বিষয়ে বিশদে আলোচনা করেছেন।”
বিকল্প ভাবনায় নীতীশ রেড্ডি
হার্দিকের চোটপ্রবণ ইতিহাসের কথা মাথায় রেখে বোর্ড কেবল তাঁর ওপর নির্ভর করে থাকতে চাইছে না। ব্যাক-আপ পেসার-অলরাউন্ডার হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটে নজর কাড়া নীতীশ কুমার রেড্ডিকেও তৈরি রাখা হচ্ছে। নীতীশ ইদানীং ঘরোয়া ম্যাচে বেশি ওভার বল করা শুরু করেছেন, যা নির্বাচকদের রাডারে রয়েছে।
শনিবার অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে দিল্লির বিরুদ্ধে নামার আগে হার্দিকের এই ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’ বা কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণ আদতে ভারতীয় ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থেই বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। আইপিএলের সাফল্যের পাশাপাশি জাতীয় দলের নীল জার্সিতে নিজেকে সেরা ছন্দে রাখাই এখন হার্দিকের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

