টানা তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ় নিশ্চিত করার পর ভারতীয় দলকে সতর্ক করেছিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর। শ্রেয়স আয়ারদের মাটিতে পা রেখে খেলার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা কাজে এল না। চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজ়িল্যান্ডের কাছে ৮৭ রানে হেরে গেল ভারত। শুধু হারই নয়, এই ম্যাচে ২০ ওভারের ক্রিকেটে ভারতের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস গড়ে নতুন নজির তৈরি করল কিউয়ি দল। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রান তুলল তারা। জবাবে ভারত থেমে গেল ৯ উইকেটে ১৭২ রানে।
শুক্রবার টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স। সেই সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও পরে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ঘটায় নিউজ়িল্যান্ড। টিম সেইফার্ট (৩), ফিন অ্যালেন (৩১), ড্যারিল মিচেল (২৪) এবং বেভন জেকবস (৭) বড় রান করতে পারেননি। তবে চার উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ভারতীয় বোলারদের উপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন গ্লেন ফিলিপস ও মিচেল ব্রেসওয়েল।
দুই ব্যাটারের বিধ্বংসী জুটিতে ম্যাচের রং বদলে যায়। মাত্র ৪৯ বলে ১০৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন ফিলিপস। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ছ’টি চার ও ১০টি ছক্কা। অন্য দিকে, মাত্র ২৫ বলে ৬৫ রান করেন ব্রেসওয়েল। চারটি চার ও ছ’টি ছক্কায় সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। পঞ্চম উইকেটে দু’জনে মিলে ১১৫ রান যোগ করেন। তাঁদের দাপটেই ২৫৯ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে নিউজ়িল্যান্ড।
ভারতের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ময়ঙ্ক যাদব। ভুবনেশ্বর কুমারের পরিবর্তে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে ৪৮ রানে তিন উইকেট নেন তিনি। অর্শদীপ সিংহ ৩৮ রানে এবং অক্ষর পটেল ৪৩ রানে একটি করে উইকেট পান। এই ম্যাচেই সব ধরনের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মিলিয়ে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন অক্ষর। প্রিন্স যাদব একটি উইকেট নিতে খরচ করেন ৪৯ রান। অন্য দিকে, এক উইকেট পেলেও চার ওভারে ৬৪ রান দিয়ে যথেষ্ট খরুচে ছিলেন নীতীশ রেড্ডি।
বেশ কিছু দিন ধরেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতীয় দলের বোলিং নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে বোলারদের লাইন ও লেংথ বজায় রাখতে না পারার সমস্যা বার বার সামনে এসেছে। শুক্রবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই ভারতের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস গড়ে নিউজ়িল্যান্ড। এর আগে এই ফরম্যাটে ভারতের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দলীয় রানের নজির ছিল ইংল্যান্ডের। গত ১১ জুলাই সাউদম্পটনে হ্যারি ব্রুকের নেতৃত্বাধীন দল ৩ উইকেটে ২৫৭ রান তুলেছিল। এ বার সেই রেকর্ড ভেঙে দিল কিউয়িরা।
২৬০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। প্রথম বলেই চার মারলেও দ্বিতীয় বলেই আউট হয়ে যান সঞ্জু স্যামসন। তাঁর সংগ্রহ মাত্র চার রান। অভিষেক শর্মা ১৫ বলে ২৭ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। চোট সারিয়ে বৈভব সূর্যবংশীর পরিবর্তে প্রথম একাদশে ফেরা ঈশান কিশন কোনও রান না করেই ফিরে যান।
আগের ম্যাচে আগ্রাসী ব্যাটিং করে ৪৫ রান করা বৈভবকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অন্য দিকে, অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের ব্যাটে রানখরা অব্যাহত। এ দিন তিনি করেন মাত্র ২২ রান। অক্ষর পটেল সাত এবং নীতীশ রেড্ডি ২১ রান করে আউট হন। বড় রান তাড়া করার মতো প্রয়োজনীয় ব্যাটিং পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে।
শেষ দিকে তিলক বর্মা ও নমন ধীর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১৩ বলে ২৮ রান করেন নমন। তাঁর ইনিংসে ছিল দু’টি চার ও দু’টি ছক্কা। তিলক ৩৫ বলে ৩৫ রান করেন। একটি চার ও তিনটি ছক্কা মারেন তিনি। প্রিন্স যাদব ১৭ বলে অপরাজিত ১৮ রান করলেও তত ক্ষণে ম্যাচ ভারতের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৭২ রানেই শেষ হয় ভারতের ইনিংস।
নিউজ়িল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল জেকব ডাফি। ২৩ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন তিনি। অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ২৪ রানে দু’টি এবং ম্যাথু ফিশার ৪০ রানে দু’টি উইকেট পান। অ্যাডাম মিলনে একটি উইকেট নেন ৩৫ রান দিয়ে। ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে ৮৭ রানের বড় জয় তুলে নেয় নিউজ়িল্যান্ড।

