প্রথম মরসুমেই বাজিমাত: ডেম্পোকে রুখে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ‘আইএফএল’ চ্যাম্পিয়ন ডায়মন্ড হারবার এফসি

প্রথম মরসুমেই বাজিমাত: ডেম্পোকে রুখে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ‘আইএফএল’ চ্যাম্পিয়ন ডায়মন্ড হারবার এফসি

ভারতীয় ঘরোয়া ফুটবলের নতুন ইতিহাস লিখল ডায়মন্ড হারবার ফুটবল ক্লাব (DHFC)। প্রথম বার অংশ নিয়েই মর্যাদাপূর্ণ ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগ (IFL)-এর খেতাব ঘরে তুলল তারা। রবিবার গোয়ার মারগাঁওয়ে ডেম্পো এফসি-র বিরুদ্ধে ১-১ স্কোরে ম্যাচ ড্র করে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত করল কিবু ভিকুনার ছেলেরা। কলকাতা লিগ, আই-লিগ ২ এবং আই-লিগের পর এবার ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরের এই টুর্নামেন্টের প্রথম মরসুমেই ট্রফি জয়ের বিরল কৃতিত্ব অর্জন করল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ক্লাব।


জেসিটি ও বেঙ্গালুরু এফসি-র এলিট ক্লাবে অভিষেকের দল

ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম মরসুমেই দেশের সর্বোচ্চ লিগ জয়ের নজির এর আগে মাত্র দুটি ক্লাবের ছিল।

  • ১৯৯৭ সাল: তৎকালীন জাতীয় ফুটবল লিগের (NFL) প্রথম মরসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়ে এই কীর্তি গড়েছিল জেসিটি (JCT) ক্লাব।
  • ২০১৩-১৪ মরসুমে: অভিষেক মরসুমেই আই-লিগ (I-League) জিতে দ্বিতীয় দল হিসেবে এই নজির গড়ে বেঙ্গালুরু এফসি।

দীর্ঘ এক দশক পর এবার তৃতীয় ক্লাব হিসেবে সেই এলিট তালিকায় জুড়ল ডায়মন্ড হারবার এফসি-র নাম। মাত্র চার বছরের পথচলায় রাজ্য লিগ থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ ট্রফি জয় কোনো ভারতীয় ক্লাবের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন।


সংযুক্তি সময়ের নাটক ও হুগো দিয়াজের গোল

রবিবার মারগাঁওয়ের মাঠে খেতাব নিশ্চিত করতে ডায়মন্ড হারবারের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ পয়েন্ট। তবে ম্যাচের ৫০ মিনিটে ওডিশা ও মহামেডানের প্রাক্তন স্ট্রাইকার মার্কাস জোসেফের দুর্দান্ত গোলে পিছিয়ে পড়ে কিবু ভিকুনার দল। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ যখন প্রায় ডেম্পোর পকেটে, ঠিক তখনই ডায়মন্ড হারবারের হয়ে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন বিদেশি রিক্রুট হুগো দিয়াজ।

ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষের পর সংযুক্তি সময়ের (Injury Time) প্রথম মিনিটে দুর্দান্ত গোল করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান দিয়াজ। রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই ট্রফি জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে ডায়মন্ড হারবারের ডাগআউট।


“আমরা ইতিহাস তৈরি করেছি” — আবেগাপ্লুত কোচ কিবু ভিকুনা

মোহনবাগানকে আই-লিগ জেতানো এবং বর্তমানে ডায়মন্ড হারবারের স্প্যানিশ কোচ কিবু ভিকুনা এই ঐতিহাসিক জয়ের পর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন:

“অসাধারণ অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমার এখনও স্পষ্ট মনে আছে, এই ক্লাবের দায়িত্ব নিয়ে কলকাতা লিগে পোর্ট ট্রাস্টের বিরুদ্ধে আমরা প্রথম ম্যাচ খেলেছিলাম। সেখান থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে আজ ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরের ট্রফি জেতাটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমরা ইতিহাস তৈরি করেছি। ভারতের আগে কোনও ক্লাব মাত্র চার বছরের মধ্যে এতটা পথ পেরিয়ে এই গৌরব অর্জন করতে পারেনি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.