এশিয়াডে জাপানে আবাসন সংকট: ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের আবাসন নিশ্চিত করতে নাগোয়ার প্রবাসীদের কাছে সাহায্য চাইল ক্রীড়ামন্ত্রক

এশিয়াডে জাপানে আবাসন সংকট: ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের আবাসন নিশ্চিত করতে নাগোয়ার প্রবাসীদের কাছে সাহায্য চাইল ক্রীড়ামন্ত্রক

খরচ কমাতে এশিয়ান গেমস উপলক্ষে কোনো নির্দিষ্ট ‘গেমস ভিলেজ’ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়নি আয়োজক দেশ জাপান। আর তার জেরে প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই তীব্র আবাসন সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদদের। ঘর পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অ্যাথলেটদের, যে তালিকায় বাদ নেই ভারতীয় দলও। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে জাপানের নাগোয়া শহরে বসবাসকারী প্রায় দুই হাজার ভারতীয়ের কাছে ঘর বা আশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক। মন্ত্রকের দাবি, প্রবাসী ভারতীয়দের কাছ থেকে ভালো সাড়াও মিলেছে।

আবাসন সংকটের মূল কারণ ও ভারতীয় দলের ভোগান্তি

এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই ক্রীড়ার আসরে অ্যাথলেটদের থাকার জন্য মূলত শিপিং কন্টেনার, ক্রুজ শিপ এবং কিছু হোটেলের ব্যবস্থা করেছে আয়োজকরা। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। অনেক ক্রীড়াবিদ সময়মতো ঘর না পেয়ে বাধ্য হয়ে স্থানীয় হোটেলে আশ্রয় নিচ্ছেন, যার জন্য আগে থেকে বুকিং না থাকায় নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

ভারতের শেফ দ্য মিশন সহদেব যাদব জানিয়েছেন, ঘর না মেলায় ইতিমধ্যেই ৩৫ জন ভারতীয় ক্রীড়াবিদকে হোটেলে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আগামী দিনে আরও বহু ক্রীড়াবিদের জাপানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, অনেক ভারতীয় ক্রীড়াবিদের নামে ঘর বুক করা থাকলেও আয়োজকেরা অজ্ঞাত কারণে তা বাতিল করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। আয়োজকদের দাবি, আশার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক ক্রীড়াবিদ শহরে এসে পৌঁছানোর কারণেই এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারের পদক্ষেপ ও মন্ত্রকের তৎপরতা

পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নেমেছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক। মন্ত্রকের এক প্রতিনিধি জানান, ক্রীড়াবিদদের হোটেলের ব্যবস্থা করাটাই প্রধান অগ্রাধিকার। তবে ঘর কম পড়লে স্থানীয় প্রবাসী ভারতীয়দের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে এবং অনেকেই এতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।

ইতিমধ্যেই নাগোয়ায় পৌঁছে গেছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবীয়। তাঁকে গোটা পরিস্থিতির কথা বিস্তারিত জানানো হয়েছে। উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, শেফ দ্য মিশন দলের অন্তত দু’জন প্রতিনিধি সবসময় বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন, যাতে দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রীড়াবিদেরা তাঁদের দেখেই স্বস্তি পান এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা না হয়।

অন্যান্য দেশের ক্ষোভ ও আয়োজকদের প্রতিক্রিয়া

শুধু ভারত নয়, অন্য দেশের ক্রীড়াবিদদের অবস্থাও বেশ শোচনীয়। অনেককে ঘর পেতে ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। এই অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে শুরুতে এই অভিযোগগুলি মানতে নারাজ ছিল অলিম্পিক্স কাউন্সিল অফ এশিয়া (OCA)। পরবর্তীতে তীব্র চাপের মুখে পড়ে তারা স্বীকার করেছে যে, আগামী দু’টি এশিয়ান গেমসে সুনির্দিষ্ট ‘গেমস ভিলেজ’ বা খেলোয়াড় নিবাস অবশ্যই তৈরি করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.