প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড়সড় বিনিয়োগের সাক্ষী থাকল বাংলা। গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একসঙ্গে ৫টি নতুন প্রকল্পের ‘ভূমিপূজন’ ও শুভ সূচনা হলো। এই প্রকল্পগুলির হাত ধরে রাজ্যে মোট ৩,৪০৪ কোটি টাকার বিনিয়োগের জোরালো ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
৫টি মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের লক্ষ্যেই মূলত এই প্রকল্পগুলির কাজ শুরু হতে চলেছে। যে ৫টি প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:
- রায়চক ও টিম্বার পন্ড শিপবিল্ডিং ফেসিলিটি
- রেডিয়াল ফরজিং প্ল্যান্ট
- ৩,০০০ টনের ওপেন ডাই ফরজিং প্ল্যান্ট
- পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির অন্যান্য পরিকাঠামো মূলক প্রকল্প।
খুব শীঘ্রই এই সমস্ত প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত গতিতে শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
শিল্পের স্থবিরতা ও ‘ডবল ইঞ্জিন’ প্রসঙ্গে সরকারের বার্তা
এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে রাজ্যের শিল্প ও পরিকাঠামোর অনুন্নয়নের জন্য পূর্ববর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের কেন্দ্র ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার কোনো সদিচ্ছা ছিল না, যার ফলে রাজ্য অনেক পিছিয়ে পড়েছিল।
বাংলার অমিত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে পর্যাপ্ত জমি, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো এবং কাঁচামাল— সবই মজুত রয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর ১০৬ দিন পার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এখন বাতাবরণ বদলাচ্ছে এবং রাজ্য বিনিয়োগের সঠিক দিশা খুঁজে পাচ্ছে। জিআরএসই-র সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করলে ভবিষ্যতে রাজ্যে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগ আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় ও সীমান্ত সুরক্ষা
কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং রাজ্য প্রশাসন একসঙ্গে মিলে কাজ করলে জিআরএসই-র সামনে বিরাট সুযোগ তৈরি হবে বলে মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে রাজ্যের জন্য আরও সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে উত্তরপ্রদেশের মতো বাংলাকেও শিল্প ও উৎপাদনে বিশেষভাবে দাঁড় করানো যায়। প্রতিরক্ষামন্ত্রীও সেই বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।
পাশাপাশি, বর্তমান সরকার গঠনের পরেই সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০১৬ সালে রাজনাথ সিং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন রাজ্যকে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য জমি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই বিএসএফ-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমির প্রায় ৯৯ শতাংশ তুলে দিয়ে সীমান্তকে সুরক্ষিত করেছে।

