‘বাংলায় দাঁড়িয়ে বন্দেমাতরম শুনলে আবেগ ধরে রাখতে পারি না।’ কলকাতায় এক অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমনটাই বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ। দর্শকাসন থেকে যখন ‘বন্দেমাতরম’ স্লোগান উঠতে শুরু করেছে, তখন নিজেও গলা মেলালেন নির্মলা। চোখের জল মুছলেন তিনি।

রবিবার সল্টলেকে এক অনুষ্ঠানে এসে বক্তব্য রাখতে মঞ্চে ওঠেন তিনি। বিজেপি নেত্রী হিসেবে মঞ্চে উঠতেই সমর্থকদের গলায় স্বভাবসিদ্ধভাবেই শোনা গেল, ‘ভারত মাতা কি জয়, বন্দেমাতরম।’ চুপ করে সেই স্লোগান শুনলেন সীতারামন। এরপর নিজেও উচ্চারণ করলেন ‘বন্দেমাতরম।’ কিছুটা থেমে বললেন, বাংলাব দাঁড়িয়ে বন্দেমাতরম শুনলে কতটা রোমাঞ্চ হয়, তা তিনি ভাষায় বলতে পারবেন না।

বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা ‘বন্দেমাতরম’ শব্দটি যে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল, সেকথা মনে করিয়ে দেন তিনি।

এই কথা থেকেই বাংলার জাতীয়বাদী মনোভাবের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে কটাক্ষ করেন সীতারামন। বলেন, পুলওয়ামাকাণ্ডের পর পাকিস্তানের বালাকোটে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। আর পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা-নেত্রীরা এই ঘটনার প্রমাণ চাইছেন! রাজ্যের শাসকদলের উদ্দেশে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রশ্ন, আপনারা কি ভারতের পক্ষে, না শত্রুদেশকে সমর্থন করছেন?

তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ আমলে এই বাংলা থেকেই জাতীয়তাবোধের শিক্ষা নিত গোটা ভারত অথচ সেই রাজ্য থেকে খোদ দেশের সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠছে। দেশভাগের যন্ত্রণার ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে নির্মলা বলেন, পূর্ব বঙ্গ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে এদেশে এসেছিলেন। কত মহিলা ধর্ষিতা হয়েছিলেন, তা কি ভুল গিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.