প্রথমার্ধে একটিও গোল হয়নি। তাই দ্বিতীয়ার্ধেও একঘেয়ে ফুটবল দেখার আশঙ্কা করেছিলেন সমর্থকেরা। কিন্তু বিরতির পর ছবিটা যে এ ভাবে বদলে যাবে, তা কেউই ভাবতে পারেননি। একের পর এক গোল, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা—সব মিলিয়ে সুইডেনের ঘরোয়া লিগের ম্যাচটি হয়ে উঠল স্মরণীয়। ৫-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও সমতা ফিরিয়েছিল এআইকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সংযুক্তি সময়ের নবম মিনিটে গোল করে ব্রম্মাপোজকার্নাকে ৬-৫ ব্যবধানে জয় এনে দেন ম্যাডস হানসেন।
সুইডেনের ১৬ দলের ঘরোয়া লিগে ম্যাচের আগে ব্রম্মাপোজকার্না ছিল নবম স্থানে। অন্য দিকে, এআইকে ছিল ১১ নম্বরে। লিগের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা দুই দলের লড়াইয়ের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকায় ম্যাচের উত্তেজনা নিয়ে খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না সমর্থকদের। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় গোলের বন্যা।
এক সময় ৫-১ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ব্রম্মাপোজকার্না। মনে হচ্ছিল, ম্যাচের ফলাফল প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু হাল ছাড়েনি এআইকে। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে একের পর এক গোল শোধ করে তারা। শেষ পর্যন্ত ৫-৫ গোলে সমতা ফিরিয়ে ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করে এআইকে।
সংযুক্তি সময়ের সপ্তম মিনিটে গোল করে জোহান হোভের মনে হয়েছিল, এআইকে-কে মূল্যবান একটি পয়েন্ট এনে দিতে পেরেছেন তিনি। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র দু’মিনিট। সংযুক্তি সময়ের নবম মিনিটে গোল করে ব্রম্মাপোজকার্নার জয় নিশ্চিত করেন ম্যাডস হানসেন। শেষ মুহূর্তের ওই গোলে ৬-৫ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় ব্রম্মাপোজকার্না।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলবন্যার নজির রয়েছে আগেও
একটি ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে এতগুলি গোল হওয়ার ঘটনা অবশ্য ফুটবলে নতুন নয়। ১৯৮২ সালের নভেম্বরে জার্মানির ঘরোয়া লিগে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ১১-১ গোলে হারিয়েছিল আর্মিনিয়া বিলেফিল্ডকে। সেই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেই ১০টি গোল করেছিল ডর্টমুন্ড।
এ ছাড়াও, ২০০৯ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যাম হটস্পার ৯-১ গোলে হারিয়েছিল উইগান অ্যাথলেটিককে। সেই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে সাতটি গোল করেছিল টটেনহ্যাম। হ্যাটট্রিক-সহ একাই পাঁচটি গোল করেছিলেন জারমেন ডিফো।
তবে ব্রম্মাপোজকার্না ও এআইকে-র ম্যাচের নাটকীয়তা ছিল অন্য জায়গায়। পাঁচ গোলের ব্যবধান মুছে সমতা ফিরিয়েও শেষ মুহূর্তে জয় হাতছাড়া হল এআইকে-র। অন্য দিকে, সংযুক্তি সময়ের শেষ দিকে গোল করে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিল ব্রম্মাপোজকার্না।

