শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র আক্রমণ তৃণমূল নেতৃত্বকে: মমতা ও অভিষেককে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, পাল্টা তৃণমূলের

শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র আক্রমণ তৃণমূল নেতৃত্বকে: মমতা ও অভিষেককে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, পাল্টা তৃণমূলের

বিধানসভার পর এবার বারুইপুরের সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান মাঠের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লিতেই স্থানান্তরিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি, আগামী নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পরাস্ত করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।

বুধবার বিধানসভায় নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে জয়ী বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র ধরে রাখা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছিলেন যে, প্রবীণ নেত্রীর এই বয়সে আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। শুক্রবার বারুইপুরের সভা থেকে সেই আক্রমণ আরও শাণিত করে তিনি বলেন, ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লির রামলীলা ময়দানে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তাঁর আর কোনও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই, তাই তাঁর দিল্লিতেই থাকা উচিত।

এর পাশাপাশি, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কড়া চ্যালেঞ্জ জানান বিরোধী দলনেতা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার থেকে রেকর্ড ৭ লক্ষ ১০ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন অভিষেক। তবে শুভেন্দু দাবি করেন, আগামী নির্বাচনে তিনি দাঁড়ালে তাঁকেও পরাজয়ের মুখ দেখতে হবে। সাতগাছিয়া এবং ফলতা বিধানসভা এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি ইঙ্গিত দেন যে ওই অঞ্চলে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি ঘটেছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগ তোলার জাবাবেও সুর চড়ান বিরোধী দলনেতা।

শুভেন্দু অধিকারীর এই জোড়া আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় পালটা জবাবে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিরকাল লড়াইয়ের রাজনীতিতেই বিশ্বাস করেন এবং কারও নির্দেশে তাঁর রাজনৈতিক পদক্ষেপ নির্ধারিত হয় না। তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে “প্রতিহিংসাপরায়ণ” বলেও আখ্যা দেন।

অন্যদিকে, বিজেপি নেতার চ্যালেঞ্জের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, দল সুযোগ দিলে তিনি পুনরায় ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি পাল্টা দাবি করেন, অন্যায় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধী দল জয়ের অসার আশায় বুক বাঁধছে।

বারুইপুরের এই জনসভা থেকে বিরোধী দলনেতা বামপন্থী ও অন্যান্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধেও সুর চড়ান এবং অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বার্তা দেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাদানুবাদ চরম রূপ নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.