দিল্লির খসড়া ভোটার তালিকায় থাকা ভোটারদের তথ্যগত অসঙ্গতি ও অসামঞ্জস্যের একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত এই তালিকায় নাম রয়েছে দিল্লির বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরীবাল এবং তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের। এই অসঙ্গতি বা তথ্যের মিল না থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট সকলকে নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।
তালিকার বিশেষ দিক ও অসঙ্গতির কারণ
গত ৩১ অগস্ট নির্বাচন কমিশন দিল্লির ভোটারদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই সময় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৪৭ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছিল। সম্প্রতি কমিশন খসড়া তালিকায় থাকা ৩৩ লক্ষ ১০ হাজার জনের একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে। এই ভোটারদের ক্ষেত্রে হয় তথ্যে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি (তথ্যগত অসঙ্গতি) রয়েছে, অথবা পূর্ববর্তী স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (এসআইআর) ডেটার সঙ্গে বর্তমান তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি (যাঁদের ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে)।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় নাম রয়েছে:
- দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত
- আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীবাল
- সুনিতা কেজরীবাল (অরবিন্দ কেজরীবালের স্ত্রী)
- পুলকিত কেজরীবাল (পুত্র)
- গোবিন্দরাম কেজরীবাল (বাবা)
- গীতা দেবী (মা)
- দিল্লির মন্ত্রী প্রবেশ বর্মা (প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সাহেব সিংহ বর্মার পুত্র; তাঁর নামের তথ্যেও অমিল রয়েছে)
‘দ্য হিন্দু’-র প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির শালিমার বাগ এলাকার ১২৩ নম্বর পার্টের ভোটার তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী রেখার নাম রয়েছে। কমিশনের সফ্টওয়্যার অনুযায়ী, তাঁর ক্ষেত্রে বাবা বা মায়ের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম থাকার বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে, অরবিন্দ কেজরীবাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, কারণ পূর্বের এসআইআর তথ্যের সঙ্গে তাঁদের বর্তমান তথ্যের যোগসূত্র মেলেনি।
নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ
মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নোটিস পাঠানো প্রসঙ্গে শালিমার বাগের ইআরও (ERO) এবং দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
- মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তের নাম: শালিমার বাগের ইআরও-র বিবৃতি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীকে নোটিস পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল আধিকারিক (BLO) সরেজমিনে নথিপত্র যাচাই করেন। সমস্ত তথ্য যাচাইয়ের পরে তাঁর ভোটার তালিকায় যুক্ত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ বৈধ বলে গণ্য করা হয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে, তাতে তাঁর নাম বহাল থাকবে।
- কেজরীবাল পরিবার: কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেজরীবাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের এনুমারেশন ফর্মের তথ্য সম্পূর্ণ ছিল না। সেই কারণেই পূর্ববর্তী এসআইআরের ডেটার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। নিয়ম মেনেই তাঁদের নোটিস পাঠানো হয়েছে। যথাযথ নথিপত্র যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের নামও চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত করা হবে।
দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) অশোক কুমার সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানান, খসড়া তালিকায় যাঁদের নাম ও জন্মতারিখ সংক্রান্ত অসঙ্গতি রয়েছে, তার একটি তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পেশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে মতামত ও আপত্তি সংক্রান্ত শুনানি প্রক্রিয়া চলছে। মূলত দুই ধরনের নোটিস পাঠানো হচ্ছে— একটি ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের জন্য এবং অন্যটি নাম বা জন্মতারিখে সামান্য অসঙ্গতি থাকা ব্যক্তিদের জন্য।

