ধূমপান করেন না বা তামাকজাত দ্রব্যের কোনো নেশা নেই—এর মানে এই নয় যে আপনার ফুসফুস সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। চিকিৎসকদের মতে, প্রাত্যহিক জীবনের এমন বেশ কিছু পরিচিত অভ্যাস ও পরিবেশগত কারণ রয়েছে, যা অজান্তেই ফুসফুসে ক্যানসারের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বিপজ্জনক অভ্যাস ও কারণগুলি সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
যে অভ্যাস ও কারণে বাড়ছে ফুসফুসের ঝুঁকি
- পরোক্ষ ধূমপান (প্যাসিভ স্মোকিং): নিজে ধূমপান না করলেও পাশে থাকা কোনো ধূমপায়ীর সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়া শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে। এই ধোঁয়াতে থাকা হাজার হাজার ক্ষতিকর রাসায়নিক ফুসফুসে টক্সিন হিসেবে জমা হয় এবং কোষের জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্যানসার কোষের জন্ম দিতে পারে।
- রান্নার ধোঁয়া: অপর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে এমন রান্নাঘরে জ্বালানি থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড ফুসফুসের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। পাশাপাশি, রান্নার সময় তেল বা মশলা পোড়ার ধোঁয়া থেকে বেঞ্জিন ও ফরম্যালডিহাইডের মতো ক্যানসার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক ছড়ায়।
- ধুলোবালির মধ্যে মাস্কহীন যাতায়াত: শিল্পাঞ্চলের বিষাক্ত ধোঁয়া বা রাসায়নিক কণার সংস্পর্শে দীর্ঘক্ষণ সুরক্ষা বা মাস্ক ছাড়া থাকলে ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্মাণস্থলের আশপাশে যাতায়াত কিংবা পেশাগত কারণে ধুলো-ধোঁয়ায় থাকাকালীন মাস্ক ব্যবহার না করলে বিপদ বাড়তে পারে।
- দীর্ঘদিনের কাশি ও শ্বাসকষ্টের অবহেলা: একটানা শুকনো কাশি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যাকে অনেকেই সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে এড়িয়ে যান। চিকিৎসকদের মতে, ফুসফুসের কোষে অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা পরিবর্তনের প্রাথমিক উপসর্গ এটি হতে পারে। তাই সময়মতো পরীক্ষা করানো দরকার।
- মশা মারার কয়েল বা ধূপের ধোঁয়া: ঘরোয়া নানা উপকরণের ধোঁয়াও ফুসফুসের জন্য বিষতুল্য। গবেষণা অনুযায়ী, বদ্ধ ঘরে একটি মশার কয়েল জ্বালানো মানে প্রায় একশোটি সিগারেটের সমান ধোঁয়া ও বিষাক্ত কণা গ্রহণ করা। সুগন্ধি মোমবাতি বা কয়েলের ধোঁয়াতেও ফরম্যালডিহাইড ও বেঞ্জিনের মতো বিষাক্ত গ্যাস থাকে।

