২০ দিনে পড়ল কলকাতার ধর্মতলায় প্রেস ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় এসএসসির চাকুরীপ্রার্থীদের অনশন। মঙ্গলবার বিকাশ ভবনে ফের অনশনরতরা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

দুপুর আড়াইতে নাগাদ তাঁদের কয়েকজনের প্রতিনিধি দল বিজেপির শিক্ষক নেতা পিনটু পাড়ুইয়ের উদ্যোগে বিকাশ ভবনে আসেন। সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেতা দীপ্তিমান বসু সহ অনেকেই। হবু শিক্ষকদের দুরবস্থার কথা মাথায় রেখে তাঁদের এদিনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যাতে বিষয়টির আপাতত মীমাংসা করে নেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসেও মিলল না আশ্বাস, ফলে ফের অনশনে অনড় অনশনকারীরা।

চাকরি চাই, চাকরি চাই। বেকারত্বের প্রবল ক্ষোভ বুকে আঁকড়ে কলকাতার রাজপথে অনশনে বসেছেন ৪৫০ শিক্ষক পদপ্রার্থী। বিরোধীদলের নেতারা আসছেন -যাচ্ছেন, এসেছেন বুদ্ধিজীবিরাও। আবহাওয়ার চরম খামখেয়ালিপনায় বিপর্যস্ত জীবন, তবু মাথায় ছাদ তোলার অনুমতি দেয়নি পুলিশ।

মাথার ওপর খোলা আকাশ, টানা অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভরতিও হয়েছেন বেশ কয়েকজন। চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মশার কামড় আর দূর্গন্ধে জীবন ওষ্ঠাগত তাঁদের। অনশনে বসে গর্ভের সন্তান হারিয়েছেন এক চাকরিপ্রার্থী। আর আজ সর্বস্ব খোয়ালেন আরও কয়েকজন আন্দোলনকারী। তিনজন আন্দোলনকারীর ব্যাগ চুরি হয়ে গেল অনশনস্থল থেকে। সেখানে তাঁদের যাবতীয় টাকাপয়সা, সার্টিফিকেট প্রয়োজনীয় নথি এবং জামাকাপড় ছিল। অভিযোগ দায়ের হয়েছে ময়দান থানায়। প্রসঙ্গত, অনশনকারীদের নিরাপত্তা দেওয়া তো দূরের কথা মাথায় একটা বাঁশ-ত্রিপলের ছাদ পর্যন্ত বানাতে দেয়নি প্রশাসন।

এদিনের আলোচনা চলে প্রায় আড়াই ঘন্টা। বৈঠক শেষে বেরিয়ে তাঁরা জানান আশ্বাস মেলেনি, ফলে অনশন জারি থাকবে। এদিন উপস্থিত বিজেপি নেতৃত্ব জানান ফিরে গিয়ে তাঁরা অনশনকারীদের সঙ্গে কথা বলবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.