বছর শেষের আগে একাধিক করোনা ভ্যাকসিন পেতে চলেছে ভারত, দেখে নিন তালিকা

তিনটি করোনা ভ্যাকসিনকে (Covid vaccine) অনুমোদন দিয়েছে ভারত। কোভিশিল্ড (Covishield), কোভ্যাক্সিন (Covaxin) ও স্পুটনিক ভি (Sputnik V )। কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন ইতিমধ্যেই দেওয়া শুরু হয়েছে। পরের সপ্তাহ থেকে শুরু হবে স্পুটনিক ভি দেওয়ার প্রক্রিয়াও। টিকাকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সব রকমভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র সরকার। পাইপলাইনে রয়েছে আরও কয়েকটি ভ্যাকসিন। শীঘ্রই সেগুলি আসবে ভারতে।

এই বছরের শেষের দিকে বেশ কিছু ভ্যাকসিন পেতে চলেছে ভারত। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক সেগুলি কী কী

কোভোভ্যাক্স (Covovax)
পুনের সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া বর্তমানে কোভিশিল্জ উৎপাদন করছে। এটি অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রোজেনেকার ভ্যাকিসন। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছে সেরাম। এবার তারা করোনার NVX-CoV2373 ভ্যাকসিনও তৈরি করবে। এর নামই কোভোভ্যাক্স। এটি তৈরি করেছে মার্কিন বায়োটেকনোলজি কোম্পানি নোভোভ্যাক্স (Novovax)। ইতিমধ্যেই কোভোভ্যাক্স তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে সেরাম। এই ভ্যাকসিন নিয়ে এখনও চর্চা চলছে। নোভোভ্যাক্স প্রয়োজনীয় অনুমতি পেয়ে গেলেই এটি ট্রায়ালে আসবে। ভারতেও সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করবে সেরাম। সম্ভবত আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই আসতে চলেছে এই ভ্যাকসিন। ডিসেম্বরের মধ্যে এর ২০ কোটি ডোজ তৈরি হয়ে যাবে।

HGC019
পুনের অন্য একটি কোম্পানি জেনোভা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস (Gennova Biopharmaceuticals) ভারতে প্রথম mRNA Covid-19 vaccine উৎপাদন করতে চলেছে। এর নাম HGC019 । গত মাসেই এই ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল রান শুরু হয়ে গিয়েছে। ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবক এই ভ্য়াকসিন নিয়েছেন। ভ্যাকসিন তৈরির জন্য সরকারের থেকে ২৫০ কোটি টাকার অনুমোদন পেয়েছে জেনোভা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস। পরের বছর গোড়ার দিকে এই ভ্যাকসিন বাজারে আসতে পারে।

নাসাল ভ্যাকসিন (NASAL VACCINE)
ভারত বায়োটেকের নাসাল ভ্যাকসিনও প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের মধ্যে রয়েছে। প্রস্তুতকারক সংস্থার মতে, এই ইন্টারনাসাল ভ্যাকসিন BBV154 সংক্রমণের জায়গায় (অনুনাসিক মিউকোসায়) প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। এটি করোনার আক্রমণ এবং সংক্রমণ উভয়ই আটকাতে সাহায্য করে। ভারত বায়োটেক বর্তমানে কোভ্যাক্সিন প্রস্তুত করছে।

ZyCoV-D
গুজরাটের কোম্পানি জাইডাস ক্যাডিলা (Zydus Cadila) এই কোভিড ভ্যাকসিন তৈরি করছে। এটি ভারতে প্রথম দেশীয়ভাবে তৈরি DNA ভ্যাকসিন যা শিশুদের উপর পরীক্ষিত হচ্ছে। এ বছরের শেষের মধ্য়ে এর ৫ কোটি ডোজ তৈরি হয়ে যাবে। মনে করা হচ্ছে আর এক মাসের মধ্য়ে বাজারে চলে আসবে ZyCoV-D। আগামী ২ সপ্তাহে মধ্যে এই ভ্যাকসিন জরুরী ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমোদন চাইবে জাইডাস ক্যাডিলা।

কোরবেভ্য়াক্স (CORBEVAX)
হায়দরাবাদের বায়োলজিকাল ই (Biological E) কোরবেভ্য়াক্স নামে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদন করছে। এটির বর্তমানে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। এটি প্রোটিন সাব ইউনিট ভ্যাকসিন (protein sub-unit vaccine)। এটি অনেকটা কোভ্যাক্সিনের মতোই। এখানে ভাইরাসের কোনও জীবন্ত উপাদান দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের তরফে ইতিমধ্য়েই এই ভ্যাকসিন কেনার জন্য কোম্পানিকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ৩০ কোটি ডোজ কোরবেভ্য়াক্স কিনবে সরকার। আগস্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই ৩০ কোটি ডোজ পাওয়া যাবে। আর সেপ্টেম্বরের মধ্য়ে আসবে ৭.৫ কোটি ডোজ।

PTX-COVID19-B
প্রাথমিকভাবে বায়োলজিকাল ই একটি mRNA ভ্যাকসিনও তৈরি করছে। সংস্থাটি ভারতে কানাডিয়ান কোম্পানির mRNA কোভিড ভ্যাকসিন তৈরির জন্য প্রভিডেন্স থেরাপিউটিক্স হোল্ডিংসের (Providence Therapeutics Holdings) সঙ্গে লাইসেন্সিং চুক্তি করেছে। বর্তমানে কানাডায় PTX-COVID19-B ভ্যাকসিনের গবেষণা চলছে।

জানসেন (JANSSEN)
বায়োলজিকাল ই ভারতে জনসন এবং জনসনের কোভিড ভ্যাকসিনও আনছে। সংস্থাটি জানসেন নামে এই ভ্যাকসিনের প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডোজ তৈরি করার চুক্তি করেছে। জনসেন ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয় ইউনিয়ন, থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবহারের জন্য অনুমতি পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.