বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই বড়সড় ধাক্কা খেল পর্তুগাল। তুলনামূলকভাবে দুর্বল প্রতিপক্ষ কঙ্গোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দলকে। পুরো ম্যাচে পর্তুগিজ মহাতারকাকে কার্যত খুঁজেই পাওয়া যায়নি। আর এই ম্যাচ ড্রয়ের পর রোনাল্ডোর বর্তমান অফ-ফর্ম এবং রণকৌশল নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক।
কঙ্গোর ফুটবলারদের যেমন রোনাল্ডোকে নিয়ে কোনো বাড়তি ভয় ছিল না, তেমনই ফ্রান্সের প্রাক্তন তারকা থিয়েরি অঁরি পর্তুগালের এই ব্যর্থতার পেছনে রোনাল্ডোর ‘স্বার্থপরতা’কেই দায়ী করেছেন। তবে সব সমালোচনার মাঝে সিআর সেভেন (CR7)-এর পাশেই দাঁড়িয়েছেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ়।
“রোনাল্ডোর এখন বয়স হয়েছে, ওকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই”: এনগালায়েল মুকাউ
ম্যাচ শেষে কঙ্গোর ফুটবলার এনগালায়েল মুকাউ স্পষ্ট জানান, রোনাল্ডোকে আটকানোর জন্য তাঁরা বিশেষ কোনো পরিকল্পনা করেননি। মুকাউয়ের মতে, রোনাল্ডো এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা হলেও সময়ের সাথে সাথে তাঁর ধার কমেছে।
“রোনাল্ডোর জন্য আমাদের আলাদা কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আমরা জানতাম ও আর আগের মতো নেই। এখন ওর বয়স হয়েছে। ওর প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, বয়স হয়ে গেলে আগের মতো খেলা বা মাঠে সেই প্রচেষ্টা বজায় রাখা সম্ভব হয় না।” — এনগালায়েল মুকাউ, কঙ্গোর ফুটবলার
রোনাল্ডোর ‘স্বার্থপরতা’ নিয়ে তোপ দাগলেন থিয়েরি অঁরি
কঙ্গো শিবির রোনাল্ডোর বয়স নিয়ে কথা বললেও, ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি সমালোচনা করেছেন রোনাল্ডোর খেলার মানসিকতা নিয়ে। অঁরির মতে, রোনাল্ডো দলের চেয়ে নিজের গোল করাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন, যা দলের ক্ষতি করছে।
অঁরি কড়া ভাষায় বলেন, “একটা বিষয় রোনাল্ডোকে বুঝতে হবে—দলের গোল করাটা জরুরি, রোনাল্ডোর নিজের গোল না করলেও চলবে। কিন্তু রোনাল্ডো নিজেই গোল করতে মরিয়া। এমনকি ব্যাক পাসের সময়ও ও সামনে চলে আসে, যার ফলে প্রতিপক্ষের পক্ষে ওকে আটকানো সহজ হয়ে যায়। রোনাল্ডোর উচিত নিজের চেয়ে দলকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া।”
সমালোচকদের পাল্টা জবাব কোচ মার্তিনেজ়ের
রোনাল্ডোকে নিয়ে চারদিকে এত সমালোচনা তৈরি হলেও ম্যাচ শেষে শিষ্যের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন পর্তুগালের হেড কোচ রবার্তো মার্তিনেজ়। ম্যাচ চলাকালীন রোনাল্ডোকে কেন তুলে নেওয়া হলো না, এই প্রশ্নের জবাবে সমালোচকদের একহাত নেন তিনি।
মার্তিনেজ় সাফ জানিয়ে দেন, “বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলদাতাকে আমরা এমন একটা ম্যাচে মাঠ থেকে তুলে নেব যেখানে আমাদের গোল দরকার? এটা কখনও হয় নাকি!” কোচ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ম্যাচ চলাকালীন রোনাল্ডোকে তুলে নেওয়ার কথা তিনি একবারের জন্যও ভাবেননি।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট নষ্ট করায় এখন পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ রবার্তো মার্তিনেজ় ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সামনে।

