কাশ্মীরে পুলওয়ামায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও গৃহশত্রুরা

১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯ অপরাহ্নকাল। ৭৬ টি সামরিক ট্রাকে জম্মুর সেনা ছাউনি থেকে কাশ্মীর উপত‍্যকার দিকে রওনা দিয়েছিলেন ২৫০০ সি আর পি এফ জওয়ান। আক্ষরিক অর্থেই সেই বাল্যকালের ছন্দ মিলিয়ে ‘নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান’ পদ‍্যটির মর্যাদা রক্ষাকারী সমগ্ৰ ভারতের প্রতিনিধি তাঁরা। পরের কথা সকলেই অশ্রুসিক্ত নয়নে পড়েছেন ও দেখেছেন। কম বেশি ২৫০ কিলো প্রাণঘাতী আরডিএক্স সমেত পুলওয়ামায় পাক মদতপুষ্ট জেহাদি আদিল আমেদের স্করপিও গাড়ি কাম মারণাস্ত্র ভারতীয় সেনা-ট্রাকে আছড়ে পড়ে। একে অপরের কোলে ঢলে পড়ার মুহূর্তে হিন্দুস্থানের সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি জওয়ানদের অনেকের দেহই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
মহাভারত যুদ্ধ শেষে যেমন সমগ্র ভারত থেকে সমাগত নৃপতিদের শব কুরুক্ষেত্র ভূমিতে ধূলি শয্যায় ছিল সম্ভবত ভারত রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার পর একই স্থানে এত জন বীর সৈনিকের মৃতদেহ এই প্রথম ভারতের মাটিকে রক্তস্নাত করল।
দেশব্যাপী হাহাকার অগ্নিশিখার চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পঞ্জাব, অসম, হিমাচল, উত্তর প্রদেশ ( সর্বাধিক ১২), বিহার, বাংলা, মহারাষ্ট্র প্রভৃতি বহু রাজ‍্যের সেনার রক্তরঞ্জিত মরদেহগুলি রাজ‍্যে রাজ‍্যে পৌঁছবার সময় সকলেই দেখেছেন শোকাতুর কিন্তু প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ভারতের বিষাদ মূর্তি। প্রথম দিনেই দেশের প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ‘বীর জওয়ানদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না’।
সেই সময় সমস্ত রাজনৈতিক দল নির্দ্বিধায় প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ায়। এক অসামান্য ঐক্যবদ্ধ ভারতের ছবি প্রতিভাত হয়। তবে তা ছিল নেহাতই অপরাহ্নের আলো। নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী। রাজনীতির আলমারির পেছনে লুকনো চেহারাগুলি এই প্রতিবেদন লেখার সময় সন্তর্পণে উঁকি দিচ্ছে।
এখন শেখা দরকার অত্যন্ত অনিশ্চিত ও বেদনার্ত এই সময়েখর মোকাবিলায় সরকার বিগত পক্ষকাল আভ‍্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যে প্রতিক্রিয়া পেয়েছে সেই প্রেক্ষিতে তার ইতিকর্তব্য সম্পাদনে সে কী কী করেছে।
আপৎকালীন অবস্থা বা শোকপক্ষ হয়ত বিরোধীদের হিসেবে ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে। তাই সেই মৃত্যু মিছিলের মধ্যে রাজনীতির মশলা খোঁজায় তাঁরা ত্রুটি রাখছেন না। প্রথমেই প্রশ্ন তুলেছেন, সামরিক কনভয়ের রাস্তায় নাগরিক গাড়ি ঢুকল কী করে? এটা একটু চারিয়ে বলা দরকার। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা থেকে ধারা ৩৫এ বিগত ৭০ বছর ধরে নির্দিষ্ট দু’টি কি তিনটি পরিবারকে যথেচ্ছাচারী হওয়ার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে দিয়েছিল। এর বিশদে যাওয়ার আমাদের প্রয়োজন নেই। কাশ্মীরে কেবল এঁরাই জমি জমা কিনবেন, ব‍্যবসা-বাণিজ‍্য করবেন, সৎ-অসৎ উপার্জনে রাজনীতিটাও নিজেদের মধ্যেই ভাগবাটোয়ারা করে নেবেন। এঁরা মূলত পাকিস্তানপন্থী; কেউ কিছুটা কড়া, কেউ মিঠে-কড়া। যেমন মুফতির পিডিপি আর আবদুল্লার এনসি। কংগ্রেস এদেরই সঙ্গে তামাক ‌খেয়ে নিজেদের আখের গোছায়। ২০১৫তে যখন দীর্ঘ আলোচনার পর পিডিপির সঙ্গে বিজেপি সরকার গড়ল, তখন এদের অনেকেই প্রমাদ গনলেন। দেখুন, কাশ্মীর কিন্তু ৩ টি অঞ্চল নিয়ে– ১) জম্মু ২) শ্রীনগর (কাশ্মীর উপত্যকা), ৩) লাদাখ। আলোচ‍্য দল দু’টি এমন ব‍্যবস্থা করে রেখেছে যে জনসংখ্যা কম হলেও কাশ্মীর বিধানসভায় উপত‍্যকার আসন বেশি। জম্মুর লোকসংখ্যা প্রচুর হওয়া সত্ত্বেও আসন কম, যাতে তারা কখনই উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব না পায়। লাদাখে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা থাকেন। এই অঞ্চলগুলির কথা পরিবারবাদীরা কখনও ধর্তব্যের মধ্যেই আনেন না। এই বার জম্মু ও লাদাখের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা মেটাতে জোট মন্ত্রিসভায় তাদের উপযুক্ত স্থান দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবার সমর্থকরা এই সব কাণ্ডকারখানায় খুবই ক্ষেপে উঠেছিল। তাদের ঠাণ্ডা করতে তিনিই কনভয়ের জন্য পরিষ্কৃত রাস্তায় মানবাধিকার রক্ষার অছিলায় সাধারণ গাড়ি প্রবেশের উপর ছাড়ের ব‍্যবস্থা করেন। পুলওয়ামার নৃশংস হত্যার পশ্চাদপট হিসেবে এই অবিমৃশ্যকারিতাকে কি হেলাফেলা করা যায়!
সকলেই জানেন ৭১-এর যুদ্ধ ও ৯৯-এ কার্গিলে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর পাকিস্তান জেনে গেছে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতের সমকক্ষ হতে পারবে না। আর পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করলে ভারতের বিশাল ক্ষতি নিশ্চয় হবে, কিন্তু পাকিস্তান মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। এই কারণে সন্ত্রাসবাদী ঢুকিয়ে, তাদের বিলাস ব‍্যসনের ব‍্যবস্থা করে, জাল নোট ছড়িয়ে, তারা ভারতকে ভেতর থেকে বেসামাল করে দিতে উদগ্ৰীব। এর মধ্যে আমরা খবর রাখি না সেখানকার ছেলেপুলেরা প্রচুর সোস্যাল মিডিয়া ব‍্যবহারে রপ্ত। সেখানে তাদের ক্ষেপিয়ে তুলতে কাশ্মীরিদের ওপর ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর অত‍্যাচারের মিথ্যা ভিডিও হাজারে হাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অথচ সন্ত্রাসবাদীরা তাদের লালসা চরিতার্থ করতে নিত‍্যদিন সাধারণ বাড়ি থেকে তরুণী মেয়েদের উঠিয়ে নিয়ে যায়। আর ওই মেয়েদের অভিভাবকরা তাঁদের মহার্ঘ সামাজিক ইজ্জত রক্ষা করতে থানায় কদাচ অভিযোগ করেন না। আর এই ভিডিও ভাইরাল হয় না। হাজারে হাজারে গর্ভবতী কাশ্মীরি তরুণী উপত্যকা ছেড়ে, ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। জেহাদিরা এর আগে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ভাগিয়ে তাদের বিপুল সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে। এখন চলেছে লাম্পট্য পর্ব যা সংঘটিত হচ্ছে স্বধর্মীর ওপর, তাদের সম্পত্তিও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সেখানকার হুরিয়ত, জামাত উদ দুয়া বা লস্কর ই তৈবার মতো আইএসআই সমর্থিত সমস্ত সংগঠনই এই বিকৃত আচারে লিপ্ত। সহজ রাস্তায় ভোগদখল করার এমন প্রলোভনে বহু তরুণই এদের অনুগামী। মূলধারার দল দু’টি এদের প্রায় প্রকাশ্য সমর্থন দেয়। কেননা এদের ভোট আছে তা তো অন্য কোনও দল পেতে পারে না। এনসি ও পিডিপি তাই সর্বার্থেই সাম্প্রদায়িককতা ও দেশবিরোধী রাজনীতি করে টিকে আছে। মাথায় উঠতে উঠতে সন্ত্রাসবাদীরা এখন আইএসআই সমর্থক হয়ে উঠেছে।
৪৪ জন শহীদের রক্ত ঝরার পর মেহবুবা এই মৃত্যুর জন্য একটি শোকবাক‍্যও ব‍্যয় না করে বলেছেন, ‘ইমরান শুড বি গিভন এ চান্স’ (ইমরানকে একটা সুযোগ দেওয়া উচিত)। মুফতিদের এটাই জীবিকার প্রশ্ন, এটা না হয় বাদ দিন। এখন এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হয়ে এসেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে। পাকিস্তানের স্বাভাবিক মিত্র চিনও উভয়ের এতকালের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জৈশ-এ-মহম্মদের (এই হামলার দায় নিয়েছে) নাম উল্লেখ করে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করেছে। ৫০ বছরে যা হয়নি তা আজ হল। এটি ভারতের নিরবচ্ছিন্ন সফল কূটনীতিরই জয়। মার্কিন, রাশিয়া, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জার্মানি, যারা রাষ্ট্রপুঞ্জের স্থায়ী সদস্য ও ভেটো প্রদানের অধিকারী, তারা পাকিস্তানকে এই আত্মঘাতী আক্রমণের জন্য দায়ী করেছে। চিন তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পাকিস্তান ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
চারিদিক থেকে কেবল যুদ্ধ করতে হবে, মুণ্ডু চাই সোর তুললেই তো হবে না। এ তো বাজার থেকে দশটা ফুলুরি কিনে আনা নয়। আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে না এগোলে ভবিষ্যৎ পরিণতি প্রতিকূল হয়ে পড়তে পারে। মার্কিন জোড়া মিনার ধ্বংসের ১০ দিন পরেই আমেরিকা পাকিস্তানে গিয়ে বোমা মারেনি। তারপর যা করেছিল তখন কিন্তু আর রা কাড়ার জায়গা ছিল না।
ভারত শতদ্রু(সাতলেজ), বিপাশা(বিয়াস), রাভী নদীর জল পাকিস্তানে ঢোকা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তানে এর তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার খবর আসছে। এগুলি সুদূরপ্রসারী প্রক্রিয়া যার পরিণতিতে কোনও দেশ অদূর ভবিষ্যতে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।
ভারতে ঢোকা পাকিস্তানি পণ্য মূলত টমেটো, টাটকা ফল, তৈরি চামড়া, খনিজ দ্রব্য, পেট্রোলিয়াম জাত পণ্য প্রভৃতির ওপর আমদানি শুল্ক ২০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে শয়ে শয়ে ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। ওই দামে ভারতে কেউই তাদের মাল কিনবে না।
ভারতের অর্থমন্ত্রী তাদের এমএনএফ (মোস্ট ফেভার্ড নেশন)-এর তকমা কেড়ে নিয়েছেন। অর্থাৎ রাম ও শ‍্যাম এক যোগ্যতার হলে রাম(পাকিস্তান)কেইবেছে নেওয়া হত এতকাল।’ভাতে মার’ বা ‘পানিতে মার’-এর শ্লোগানটা ভেবেচিন্তেই পাকিস্তানের ওপর প্রয়োগ করেছিলেন শেখ মুজিব।
প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের সম্বোধন করে আশ্বস্ত করেছেন, ‘তোমার ভিতরে যে দহন চলছে সেই একই দহনে আমিও পুড়ে যাচ্ছি’। বাক্যটি গভীর ইঙ্গিতবহ ও শুশ্রূষাকর। ১৮/২/১১ তারিখে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের নেতা বা তার সমর্থক এমন চারজন ১) মিরওয়াজ ২) ডাট ৩) বিলাল লোন ৪) শাবির আহমেদের যাবতীয় সরকারি নিরাপত্তা ব‍্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে। সরকারি নোটে সুন্দর বলা হয়েছে ‘In view of the terror attack in which 40 CRPF men lost their lives, the government reviewed the wastage of police resources in providing unnecessary to a large number of non govt persons in the state …. particularly relevent in context of security provided to separatist & their sympathisers . প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ওপরের চার মক্কেলের জীবন মূল্য খেলো করে দেওয়া হল। কেননা অন‍্যকে খুনের মন্ত্রণা দেওয়া ছাড়া তাদের জীবনের মূল্য তো কিছু নেই। রাষ্ট্র কি গুপ্তঘাতক বা রাষ্ট্র-শত্রুকে নিরাপত্তা দেয়? জঙ্গি হুরিয়তের বিলাসপ্রিয় বুড়ো নেতা পাকিস্তানপন্থী আরব ঘরানার নামধারী সৈয়দ আলি শা গিলানি ও ইয়াসিন মালিককে দেওয়া সরকারি নিরাপত্তা আগেই প্রত‍্যাহৃত। গিলানি বাড়িতে অন্তরীণ আছেন। পুলিশ খুঁজে দেখছে খাতায় নিরাপত্তাভোগী আর কোনও পাকিস্তানি চর আছে কিনা। তবে এই নির্মম আক্রমণের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় এমন অনেক স্বদেশি চর-চরিত্রের রাজনীতিকদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। রাষ্ট্রকে সেদিকেও নজর
রাখতে হবে। দেশের মানুষ সরকারের পাশে এককাট্টা হয়ে দাঁড়ানোয় ওমর আবদুল্লা, পশ্চিম বঙ্গের মুখ‍্যমন্ত্রী, কংগ্রেস বিপদ সঙ্কেত দেখছে। এই তিন দল নানা কু-যুক্তি দিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করছে যে, ভোটের ঠিক আগেই এই আগ্ৰাসন পরিকল্পনামাফিক। ভোট বাজারে ক্ষতির অনুমান করে তারা দেশের সৈন্যবাহিনীর ওপর আক্রমণ, যা দেশকে আক্রমণেরই সামিল, সেই নৃশংস হত‍্যাকে ভারতের নিজের তৈরি হামলা বলে অভিহিত করার মতো বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিতেও দ্বিধা করেনি। বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে নিজ দেশকে, তার নেতাকে হেয় করতে এমন আচরণ, বিশেষ করে এই আপতকালে, অচিন্ত‍্যনীয়।
পাকিস্তান এখন ১৪ লক্ষ কোটি টাকার আন্তর্জাতিক দেনায় ডুবে আছে। আন্তর্জাতিক অবস্থা Financial Action Task Force (FATF) যারা সন্ত্রাসবাদী কাজ কর্মে মদত দেওয়া (terror funding) দেশগুলির ওপর নজরদারি করে, ভারত সেখানে যথাযোগ্য ভাবে জৈশ-এ-মহম্মদ ও তার নেতা আন্তর্জাতিক জঙ্গি হাফিজ সৈয়দকে পাকিস্তানের তরফে আশ্রয় ও মদত নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরার পর পাকিস্তান ফ‍্যাসাদে পড়ে গেছে। যে কোনও সময় সম্মিলিত অর্থনৈতিক খাঁড়া নেমে আসার আশঙ্কায় তারা তড়িঘড়ি জামাত-উদ-দাওয়া ও স ঈদের আর একটি জঙ্গি সংগঠনকে বেআইনি ঘোষণা করেছে। মিথ্যে হোক সত্যি হোক তারা জৈশ-এর প্রধান কার্যালয় অবরুদ্ধ করেছে বলেও খবর ছড়িয়েছে।
এই ক্রান্তিকারী সময়ে প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি সাপেক্ষে ব‍্যবস্থা নেওয়ার সমস্ত ভার সুযোগ‍্য সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছেন। পোখরান সীমান্তে যুদ্ধ বিমানের মহড়া বেড়েছে। ক্রিকেট মাঠে পাশবিকতা দেখিয়ে ভারত জয়ের অসুস্থ কামনাতেও ছাই পড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “India is looking at something very strong. And I mean India has lost almost 50 people by an attack. So I could understand the situation also”(TOI 24/2)। ১০ হাজার আধা সেনা আকাশ পথে উপত‍্যকায় পৌঁছেছে। মহাশক্তিধর দুর্মুখ ভারতবিদ্বেষী নেতা ইয়াসিন মালিককে আটক করেছে পুলিশ।
আমাদের এখানকার টিভি চ‍্যানেলগুলিতে হঠাৎ বিভিন্ন পাকিস্তানি খবরের পরিবেশন তুলে ধরা হচ্ছে। পাকিস্তানি সঞ্চালকরা ভারতকে তুমুল বিদ্রূপ করেছে। শোনা যাচ্ছে, মোদী তোমার দিন শেষ এবার কংগ্রেস আসছে। এ সবই নিদারুণ চাপা আতঙ্কের বহিঃপ্রকাশ। স্মরণে এসে যাবে পাকিস্তানে গিয়ে কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আয়ারের সেই সাক্ষাৎকার। যেখানে তিনি পাকিস্তানি প্রভুদের কাছে মোদীকে হটাবার শলা চাইছেন। আজকের কংগ্রেস আত্মঘাতী হামলাকে কেন্দ্রের ষড়যন্ত্র আখ্যা দিচ্ছে। মোদী ও তাঁর দল হয়ত আজ ভারত রক্ষার একা কুম্ভ, তবে নির্ভরযোগ্য। চিন্তান্বিত পাকিস্তান ধূসর সীমান্তের দিক চক্রবালের দিকে তাকিয়ে “মহা আশঙ্কা জপিছে, মৌন মন্থরে দূর দিগন্ত অবগুণ্ঠনে ঢাকা”। ঠিকই ভারত এখন অননুমেয় ও প্রায় প্রচ্ছন্ন।
( এই লেখা শেষ হচ্ছে, খবর এসে গেল, পাকিস্তানের আকাশে অতর্কিত হানায় জৈশের জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী।)

সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.