​’ জয় বাংলা ‘ এই কথাটির সঙ্গে বাঙালির পরিচয় কবে ?

সেটা বাঙালি কি কোন দিন জানার চেষ্টা করেছে ? আপামর বাঙালি মনে করে এটি পূর্ববঙ্গে যখন মুক্তি যুদ্ধ নাম ক্ষমতা দখলের আন্দোলন শুরু হয় তখন এর উৎপত্তি হয় । এই ভাবে এক ইতিহাস রচনা করে ফেলেছে এক শ্রেণীর বাঙালি এবং ওপার এবং দেশ ভাগের সময় প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ের খোঁজে এপারে চলে আসা বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের গন্যমান ব্যক্তিরা ।

একটু পিছিয়ে যাই সময় টা ১৯০৫ ঢাকার বাঙালি মুসলিম নবাব সালিমুল্লা যিনি ১৯০৬ সালে ৩১ শে ডিসেম্বর ‘ মুসলিম লিগ ‘ নামক বিষ বৃক্ষের চারা বাংলাতে রোপণ করে সেই চারা কে বৃক্ষে রূপান্তরিত করতে সৈয়দ আহমেদ উৎসাহিত করেছিলেন যিনি সেই সময় ঢাকাতে এসে মুসলমান নেতৃত্বের সাথে সভার আহ্বান করেন। এই সলিমুল্লা সেই সময় কার্জন সাহেবের কাছ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা পান নাম মাত্র সুদে । আমরা বঙ্গভঙ্গের মুল কে চক্রী হিসাবে সবাই কার্জন কে জানি কিন্তু মুসলিম লিগের প্রতিষ্ঠাতা ঢাকার এই বাঙালি মুসলিম নবাব সলিমুল্লা কে কেউ দায়ী করিনা। বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব নাকচ করার জন্য ১৯০৫ সাল থেকে বাংলার যে স্বদেশী আন্দোলনের জোয়ার এসেছিল তাঁর উত্তাল তরঙ্গ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ল । মহান বিপ্লবী বিপিন চন্দ্র পালের সঙ্গে মাদ্রাজের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল তাঁরই মাধ্যমেই দক্ষিণ ভারতে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের জয়ধ্বনি ” বন্দেমাতরম ” এবং স্বদেশী গ্রহণ সংকল্প প্রচারিত হয় ।

মাদ্রাজের বিখ্যাত স্বনামধন্য কবি সুব্রহ্মণ্য ভারতী ‘ বন্দেমাতরম ‘ মন্ত্রে প্রবুদ্ধ হলেন । তিনি ছিলেন ভগিনী নিবেদিতার একান্ত ভক্ত । কবি সুব্রহ্মণ্য ভারতী ভগিনী নিবেদিতার অনুপ্রেরণায় তিনি লিখলেন ও উচ্চারণ করলেন কালজয়ী ‘ জয় বাংলা ‘ ।তাঁর পর তাঁরই তিনটি গীত কবিতা “বন্দেমাতরম ” ” নমো ভারত ” ভারত আমদের দেশ ” বিখ্যাত প্রকাশ জি .এ নটেশন বিনামূল্যে ১৫ হাজার কপি মুদ্রিত করে প্রচারের ব্যবস্থা করলেন।

এই জয় বাংলা শ্লোগান ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত হওয়া দেশ পকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বাংলা ভেঙ্গে​​ পূর্ব পকিস্তান হওয়া,এর পর পাকিস্তানের অধীনতা থেকে পূর্ব পকিস্তানে নতুন রাষ্ট্র গঠনের যে আন্দোলন শুরু হয় যার হোতা ছিল ৪৬ এর দাঙ্গার সময় সুরাবর্দী সহযোগী ক্ষমতা লোভী মুজিবর রহমান। সেই সময় মুক্তি যুদ্ধের সময় মাদ্রাজের বিখ্যাত স্বনামধন্য কবি সুব্রহ্মণ্য ভারতী এই ” জয় বাংলা ” শ্লোগান নতুন উচ্চারিত হতে থাকে এবং মুক্তি যুদ্ধের শ্লোগানে পরিণত হয় সেই । আদতে এটি ছিল বঙ্গভঙ্গের সময় নিবেদিতা অনুপ্রেরণায় রচিত হওয়া মাদ্রাজের বিখ্যাত স্বনামধন্য কবি সুব্রহ্মণ্য ভারতী র একটি লেখা ।

সৌমেন ভৌমিক

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.