এরকম কখনও ঘটেনি যে বায়ুসেনার পক্ষ থেকে টুইটারে সেনাদের অভিনন্দন সূচক কবিতা লিখে প্রসারিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশের সংবাদমাধ্যম তাকে মান্যতা দিয়ে খবর ছেপেছে। যখন দেশের উপর বাইরে থেকে হামলা হয় বা দাসত্বের বিরুদ্ধে আওয়াজ ওঠে— সাধারণত তখন দেশভক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। এটাও বাস্তব সত্য যে ভগৎ সিংহ যখন ফাঁসিতে ঝুলছে তখন দেশের রায়বাহাদুর নিজের দরবারে সবাইকে নিয়ে বিলাস করছে।
আজকের পরিস্থিতি আলাদা, বর্তমানে দেশভক্তির পরিচয় কেবলমাত্র দেশের সীমা রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ দেওয়া নয়, শত্রুর দেশের মধ্যে প্রবেশ করে যেসব জঙ্গি আড্ডা তৈরি করেছে তা নষ্ট করা নয় বরং সংবাদ জগতের বিভিন্ন নেতাদের দ্বারা রাষ্ট্রীয় বিশ্বাসের উপর হামলার কড়া জবাব দেওয়া। এই প্রথমবার দেখা গেল যে তথাকথিত সেকুলারবাদীরা মুখ লুকিয়ে রক্ষণাত্মক ভূমিকা নিয়েছে— গত সাত দশক ধরে এযাবৎ যারা দেশের বৌদ্ধিক পরিবেশে একচ্ছত্র রাজ করছিল। এইরকম স্থিতি কদাচিৎ দেখা যায়, যেমন ঔরঙ্গজেবের পতনের পর মহারাজা শিবাজীর উত্থান হয়েছিল।
দেশের বেশির ভাগ মানুষ হিন্দু, সেইজন্য সকল মত ও সম্প্রদায়ের সমান অধিকার। হিন্দুদের উপর রেগে যাওয়া বা হিন্দুদের নিয়ে মজা করার অধিকার সবারই আছে। দু’লাখের বেশি কাশ্মীরি মুসলমান ছাত্র-ছাত্রী সারাদেশে পড়ছে— কেউ কেন্দ্রীয় সরকারের ছাত্রবৃত্তি পাচ্ছে বা নিজের খরচে এবং বিভিন্ন শহরে বাস করছে। অনেক ছেলেমেয়ে শাল বা হস্তকলার জিনিস বিক্রি করছে, সরকারি বেসরকারি মাধ্যমে সংবাদদাতার কাজ করছে। লক্ষ্ণৌতে একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে আর সেকুলার মাধ্যমগুলি ‘কাশ্মীরিদের উপর হামলা’ বলে সারাদেশে হল্লা ফেলে দিয়েছে। অথচ সারাদেশে তারা সুরক্ষিত নির্ভয়ে আছে—তার কোনো চর্চা নেই। আমি নিজে দেরাদুনে কাশ্মীরি মুসলমান ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি— তারা পুলিশের থেকে সবরকম সুরক্ষা পেয়েছে। এই ধরনের ঘটনা ও হিন্দু বিরোধিতাকে যারা সেকুলারবাদ আখ্যা দিয়েছে, রাফাল বিমান কেনার বিষয়টিও তার এক উদাহরণ। এসব তারাই করছে যারা আর্থিক অপরাধে অপরাধী বা বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থায় ফেঁসে গেছে, যারা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা মজবুত করার ব্যাপারে উৎসাহ দেখায়নি। এরা আংশিক বা অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে যেসব কথাবার্তা বলছে তাতে ভারতীয় সৈন্যদের মনোবল বাড়ছেই না, বরং বাড়ছে শত্রুপক্ষের।
হিন্দুদের অপমান করে যেমন দেশ চলানো সম্ভব নয় তেমনই কোনো জাতি বা সম্প্রদায়কে তিরস্কার করে সংবিধান বাঁচনো সম্ভব নয়। বিভিন্ন দল ব সংগঠনে হিন্দু মানসিকতা ভারতের শক্তি, দুর্বলতা নয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত হিন্দুর সংবেদনশীলতাকে প্রগতিশীলতার মাপদণ্ড ধরে আসা হয়েছে—এখন খবরে দেখানো হচ্ছে যে দেশের প্রধানমন্ত্রী এই প্রথমবার কুম্ভ স্নান করলেন বা কাশীবিশ্বনাথ মন্দিরের ভূমি পূজন করলেন। আমেরিকার জনগণ এই প্রথম জানল যে ভারতে এবার একজন প্রধানমন্ত্রী আছেন যিনি হোয়াইট হাউসের বিখ্যাত লোভনীয় খাবার ত্যাগ করে নবরাত্রি পালন করছেন, শুধু জলপান করে দিনপাত করছেন এবং লন্ডন থেকে সাংহাই সর্বত্র ভারতীয় ভাষায় কথা বলছেন।
যে সমস্ত কাশ্মীরি মুসলমানরা ওখানকার হিন্দুদের (যাদের মুসলমানেরা পূর্বজ মনে করত) বিভাজনের সময় মায়াকান্না করছিল, ওরা আশা করেছিল যে দেশের হিন্দুরা ওদের সঙ্গে প্রেম ও আত্মীয়তাপূর্ণ ব্যবহার করবে। হয়েছেও তাই। অন্যদিকে আজ পর্যন্ত কোনো মুসলমান বা দিল্লির কোনো সেকুলার পত্রকার পাঁচ লাখ হিন্দুদের কাশ্মীর থেকে বর্বরতার সঙ্গে বিতাড়নের বিরোধিতা করেছে কিংবা মুসলমান জেহাদির কট্টরতা বিরোধ করেছে কি?
দেশভক্তি বর্তমানে হিন্দুর উত্থানের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে অধিক প্রভাবিত হয়েছে। এখন চার্চের আর্চ বিশপ, বিভিন্ন সম্প্রদায়ভুক্ত ইসলামি মৌলানারা স্থানীয়ভাবে ছোটো ছোটো একতার পরিবেশ তৈরি করছে, কারণ ওদের ভয় হচ্ছে— ধীরে ধীরে হিন্দুদেরকে ধর্মান্তরণ করা এবং ওদের উপর জনসংখ্যাসম্বন্ধী প্রভাব বাড়ানোর ষড়যন্ত্র ক্রমশ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংবিধানের প্রাধান্য, রাষ্ট্রের মধ্যে হিন্দু, মুসলমান, শিখ, খৃস্টান সকলে সমান ভাব তখনই সম্ভব যতক্ষণ ভারত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে। যেদিন হিন্দু সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে তখন ভারত অভারত হয়ে যাবে। যারা এসব কথা বলতে শুনতে চায় তারা ১৯৪৭-এর নরসংহার, মীরপুর বা বহাবলপুরে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের কাহিনি স্মরণ করতে চায় না। তারা সেই রকম নিয়মাবলী চায় যাতে ধনীব্যক্তিরা আরও সুরক্ষিত হয় যা ইংরেজ আমলে রায়বাহাদুররা করতেন।
গত কয়েকদিন পূর্বে এক প্রমুখ দেশের বরিষ্ঠ রাজদূতের সঙ্গে নিমন্ত্রণ পার্টিতে বসে কথা হচ্ছিল। তিনি বলছিলেন– এই প্রথমবার ভারতের প্রতি দেখার বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ বদল হলো। এমন একদিন ছিল যখন ‘পোখরান-২’ বিস্ফোরণ ঘটানো হলো তখনও এটা সম্ভব ছিল না যে ভারত পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে কয়েক হাজার কিলো বোমা ফেলে আসবে, অবিশ্বাস্যও ছিল। কারণ সবাই মানতে যে ভারত এক ভীতু দেশ, যুদ্ধের পরেও সমঝোতা করেও চলতে চায়, দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিলাসী রাজনেতাদের দেশ।
দেশভক্তি হলো ভারতের ধর্ম। এখানে গুরু তেগবাহাদুর ‘হিন্দু কী চাদর’ বলেছেন, শিখদের বা পঞ্জাবের নয়। তামিলনাড়ুতে শিবাজীর নামে নিজেদের নাম রাখে। বিবেকানন্দ যখন ধর্মের কথা বলেন তখন প্রতি বাক্যে ভারতের কথাই উঠে আসে। লোকে গর্বের সঙ্গে নিজের ছেলের নাম ভারত রাখে। এসব অন্য কোনো দেশে হয় না।
বর্তমানে দেশভক্তি গণতন্ত্রে উৎসব পালনের মুখ্য বিন্দুতে এসে গেছে—এটা শুভ। এই প্রথম দেশের বিভিন্ন দলের নেতারা নিজেকে প্রকৃত হিন্দু, প্রকৃত দেশভক্ত বলার চেষ্টা করছে। জয় হো।

তরুণ বিজয়

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.