বাংলা ও জাতীয় সংবাদপত্রগুলিতে মাঝে মধ্যেই খবর বেরোয় যে রাজস্থানের তপশিলী জাতি উপজাতির কোনো বিবাহে বর ওখানকার প্রথা অনুযায়ী ঘোড়ায় চড়ে বিবাহ করতে গেলে কিছু দুষ্কৃতী জাতের দোহাই দিয়ে ঘোড়ায় চড়বার জন্য বর ও বরযাত্রীদের হেনস্থা করে। তাছাড়া রাজস্থানের খবর প্রকাশ করবার বিশেষ উৎসা্ দেখা যায় না সংবাদসংস্থাগুলির মধ্যে।

কিন্তু উপরোক্ত ঘটনা কিছু ক্ষেত্রে সত্য হলেও, বিগত দশ বছরে তপশিলী জাতি ও উপজাতিদের অন্তত ১৫০০ বিবাহ যথেষ্ট আড়ম্বরপূর্ণভাবে গণবিবাহ দেওয়া হয়েছে সেই খবর এই সংবাদসংস্থা কোনোদিনই দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না। গত সোমবার সীতানবমীর দিন ৪১ জোড়া দম্পতির শুভবিবাহ সম্পন্ন হল এক গণবিবাহের অনুষ্ঠানে, যথারীতি জাঁকজমক ও আড়ম্বর সহযোগে।

এই গণবিবাহগুলির আয়োজন করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ, এবং রাজস্থানই একমাত্র রাজ্য যেখানে আর এস এস এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে। সম্প্রতি আসামেও এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে সঙ্ঘ। ২০১০ সালে ঝালাবাড় জেলার ভবানী মন্ডিতে সেবা ভারতীর তরফ থেকে তেরো জন দম্পতির শুভপরিণয়ের আয়োজন করা হয়, এবং তারপর থেকে রাজস্থানের কোটা, ঝালাবাড়, বুঁদী, দৌসা, আলোয়ার, ভরতপুর, জয়পুর, টঙক ও যোধপুর জেলাগুলির বিভিন্ন স্থানে গণবিবাহের আয়োজন করা হয়। এখনো অবধি ১৭৯৭ দম্পতির শুভবিবাহ সুসম্পন্ন হয়েছে।

বিবাহে ঘোড়ায় চড়া বরকে কোনোদিনও নামানো হয়নি

রাজস্থানের তপশিলী জাতি ও উপজাতির বিবাহের পাত্রদের ঘোড়া থেকে নামিয়ে হেনস্থা করবার কথা মাঝে মধ্যেই শোনা যায়। সেবা ভারতীর এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত প্রচারক তুলসী নারায়ণ জানান, আজ অবধি হওয়া পঞ্চাশেরও বেশি গণবিবাহের ঘটনায় একবারের জন্যেও কোনো বরকে ঘোড়া থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি, এমনকি এই গণবিবাহে যে সমস্ত দম্পতিদের বিবাহ দেওয়া হয় তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ তপশিলী জাতি ও উপজাতির দম্পতি গরীব পরিবার থেকেই আসেন। বিবাহ পুরো জাঁকজমকের সাথে করা, উনি জানান।

বিবাহেচ্ছুক প্রেমিক প্রেমিকেরা নিজেরাই আসেন, তা সত্ত্বেও পরিবারের সংহতিও জরুরী

সেবা ভারতীর অধিকাংশ কাজ এই পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্যই করা হয়। সেবা ভারতীর কার্যকর্তারা প্রেমিক প্রেমিকাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন ও গণবিবাহে ওনাদের অংশগ্রহণের জন্য আসতে বলেন। তুলসী নারায়ণ জী বলেন, পরিবারের সাথে সম্পর্কের কাজ পরিবারের অভিভাবকেরাই করেন, আমরা কেবলমাত্র বিবাহ অনুষ্ঠান আয়োজন করি। প্রেমিক প্রেমিকারদেরও আমরা বিবাহ দিই, কিন্তু তাদের গণবিবাহে অংশগ্রহণের জন্য পিতামাতার সম্মতি ও উপস্থিতি জরুরী। এখনো অবধি আমরা ১৫ জোড়া প্রেমীদের ইন্টারকাস্ট বিবাহের ব্যবস্থা করেছি। এই ধরনের বিবাহের জন্য জন্ম ও বয়স ইত্যাদির প্রমাণপত্র খতিয়ে দেখবার পরই এই ধরনের বিবাহের ব্যবস্থা করা হয়।

সংসার পাতবার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রেরও ব্যবস্থা করা হয় নবদম্পতিদের জন্য

বিবাহের পর সংসার সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করবার জন্য নবদম্পতিদের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবস্থা করা হয় সেবা ভারতীর ব্যবস্থাপনায়। দম্পতিদের পরিবার থেকে ন্যুনতম রাশি নেওয়া হয় ও বাকি খরচ দানশীল মানুষদের থেকে সংগ্রহ করে প্রতি দম্পতিকে গড়ে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার দ্রব্যাদি দিয়ে সাহায্য করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.