৫ই এপ্রিল অন্ধকারকে সম্মুখ সমরে আহ্বান করতে হবে: শ্রী নরেন্দ্র মোদি

আমার প্রিয় দেশবাসীরা, সকলকে নমস্কার। বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী লকডাউনের আজ নবম দিন। এই সময়ে, আপনারা সবাই যেভাবে নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলার এবং সেবা মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন, তা এক কথায় অভূতপূর্ব। শাসন, প্রশাসন এবং জনগণ- সকলে মিলে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার যথেষ্ট প্রচেষ্টাই করছেন। আপনারা যেভাবে ২২ মার্চ রবিবার, করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত সৈনিকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন, সেটিও আজ বিশ্বের সব দেশের কাছেই উদাহরণ স্থাপন করেছে। আজ অনেক দেশই আমাদের দেখানো পথ অনুসরণও করছে। সে জনতা কার্ফু বা ঘণ্টা বাজানো যাই হোক না কেনো, ওইসব কার্যক্রম এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের সংঘবদ্ধ শক্তির পরিচয় দিয়েছিল। সেই কর্মসূচি থেকে এই ভাবটাই প্রকট হয়েছিল যে, দেশের মানুষ এক হয়ে, সংঘবদ্ধ ভাবে এই করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে

এখন ঘরবন্দীর (লকডাউন) সময়েও দেশের মানুষের এই সামাজিক দায়বদ্ধতা, সংঘবদ্ধ থাকার মানসিকতাই দিকে দিকে পরিস্ফুট হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে। সাথীরা, আজ যখন দেশের কোটি কোটি মানুষ ঘরে বন্দী, তখন যে কারুরই মনে হতে পারে যে ও একলা কি এমন করে ফেলবে (এভাবে বন্দী থেকে)। কিছু মানুষ এটাও হয়তো ভাবছেন যে, এই এতো বড় যুদ্ধে তিনি একা কি করে লড়াই করবেন! এই প্রশ্নও হয়তো মনে আসতে পারে যে, আর কতদিন এভাবে বন্দী অবস্থায় কাটাতে হতে পারে! সাথীরা, আমরা নিজেরা নিজেদের বাড়িতে একলাই হয়তো বন্দী আছি, কিন্তু আমরা কেউ আসলে একলা নই। ১৩০ কোটি দেশবাসীর সংঘবদ্ধ শক্তি কিন্তু আমাদের প্রত্যেকের সাথে আছে। এই শক্তিই আসলে প্রতিটি অসহায় মানুষের সহায় সম্বল। কিছু কিছু সময় এতটাই কঠিন হয়ে ওঠে যে, তখন দেশবাসীর এই সংঘবদ্ধ শক্তির বিশালতা, সৌন্দর্য এবং এর অলৌকিক ক্ষমতার সাথে সকলের পরিচয় করানো দরকারি হয়ে পড়ে। সাথীরা, আমাদের এই দেশে আমরা মেনে চলি যে, জনগণ আসলে ঈশ্বরের রূপ। তাই যখন গোটা দেশ এতো বড় লড়াই লড়ছে, তখন বার বার জনতার রূপের এই বিরাট শক্তির স্বরুপের সাথে সাক্ষাৎ করানোর প্রয়োজন।

এই সাক্ষাৎ আমাদের মনোবল যোগায়, জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে সাহায্য করে এবং এবং ওই লক্ষ্য পূরণের জন্য সাহায্যও করে। লক্ষ্যপূরণের রাস্তা খুঁজে নিতে আত্মবিশ্বাসের যোগান দেয়। সাথীরা, করোনা মহামারীর ফলে সৃষ্ট অন্ধকারের মধ্যে থেকে আমাদের ক্রমাগত আলোর প্রকাশের দিকে যেতে হবে। এই সঙ্কটের ফলে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত যারা; আমাদের গরীব ভাইবোনেরা, তাদের এই নৈরাশ্য থেকে আশার দিকে আমাদেরই নিয়ে যেতে হবে। এই সঙ্কটের থেকে তৈরি হওয়া অন্ধকার এবং অনিশ্চয়তাকে অগ্রাহ্য করে আমাদের উজ্বলতা এবং নিশ্চয়তার দিকে অগ্রসর হতে হবে। এই অন্ধকার ময় করোনা সঙ্কটকে পরাজিত করতে, আমাদের এই আলোর জ্যোতিকে চারিদিকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।

তাই এই রবিবার, ৫ই এপ্রিল আমাদের সকলকে একসাথে এই অন্ধকারকে সম্মুখ সমরে আহ্বান করতে হবে, আমাদের সকলের সম্মিলিত মহাশক্তির পরিচয় করাতে হবে। তাই আমাদের সকলের সঙ্কল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আমি আপনাদের সকলের কাছে নয় মিনিট চাইছি। ৫ই এপ্রিল, রবিবার রাত নয়টার সময় ঘরের সব আলো বন্ধ করে, ঘরের দরজায় বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমরা নয় মিনিটের জন্য মোমবাতি, প্রদীপ, টর্চ বা মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালাবো। ওই সময় যখন সমস্ত বাড়ির বৈদ্যুতিক আলো বন্ধ হয়ে যাবে; চারিদিকে জ্বলে উঠবে মোমবাতি বা মোবাইলের আলো। তখনই একতা বোধের ওই মহাশক্তি অনুভুত হবে। আমরা সকলেই যে একই লক্ষ্যে, একই লড়াই (বাড়িতে গৃহবন্দী থেকে যে লড়াই, ডাক্তার নার্সরা হাসপাতালে লড়ছেন, প্রশাসকরা প্রশাসন চালাতে গিয়ে লড়ছেন, ব্যাঙ্কাররা পরিষেবা দিতে গিয়ে লড়ছেন) লড়ছি, সেই মিলিত চেতনার অস্তিত্ব জাগরিত হয়ে উঠবে। আসুন, নিজেদের মনে এই বিশ্বাস আনি, যে আমরা একলা নই, কেউ একলা নেই

সাথীরা, আপনাদের কাছে আমার আরও একটি আবেদন। এই আয়োজন করার সময় কাউকে অন্যদের সাথে একজোট হয়ে এটা পালন করতে হবে না। তাই দয়া করে রাস্তায়, গলিতে, পাড়াতে জমায়েত করে এটা পালন করবেন না। যে যার নিজের বাড়িতে বসে, বারান্দা বা ছাদ থেকেই এই কাজটা করে ফেলতে পারবেন। সামাজিক দুরত্বের গণ্ডিটাকে কোন অবস্থাতেই পার করা যাবে না। করোনার একমাত্র চিকিৎসা হল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। অতএব, রবিবার রাত ৯টার সময় কিছু ক্ষণ একলা বসে ভারতমাতার স্মরণ করুন। যারা এই লড়াইটা সামনা-সামনি লড়ছেন তাদের কথা ভাবুন। আমাদের ১৩০ কোটি মানুষের একতাবোধের, সংঘবদ্ধ বোধের মহাশক্তির কথা ভাবুন ও অনুভব করুন। এটাই আমাদের এই সঙ্কটের সাথে লড়াই করার শক্তি দেবে, পরাজয়ের উৎকণ্ঠা সরিয়ে জয়ের আত্মবিশ্বাস দেবেআমাদের সম্মিলিত স্ব- উৎসাহ, স্ব- দীপ্তির থেকে বড় কোনো শক্তি হয় না। দুনিয়াতে কোনো শক্তি নেই যে এই মহাশক্তিকে পরাজিত করে। আসুন আমরা আমাদের মহাশক্তিকে অনুভব করি। একসাথে নিজেদের বাড়ি থেকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা শুরু করি। নমস্কার।

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)

মূল ভাষণ: শ্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)
বাংলা অনুবাদ: চন্দ্রিমা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chandrima Bandyopadhyay)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.