বালাকোটে জঙ্গি শিবিরগুলিতে কি সত্যিই মোক্ষম আঘাত হেনেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা? মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমানের কার্পেট বম্বিংয়ে কতটা ক্ষতি হয়েছিল জইশ শিবিরের, তা নিয়ে গত মঙ্গলবার থেকেই চলছে চাপানউতোর। দাবি, পাল্টা দাবি, গণমাধ্যমগুলির নানা পোস্ট ঘিরে উত্তাল পরিস্থিতিতে এ বার জইশ জঙ্গি শিবির ধ্বংসের কথা মেনে নিল জইশ-মাথা মৌলানা মাসুদ আজহারের ছোট ভাই মৌলানা অমর। ভারতীয় সেনার দাবি যে মিথ্যে নয় ভিডিও বার্তায় সেটা স্বীকার করেছে অমর।

ভিডিও বার্তায় তাকে বলতে শোনা গেছে, আইএসআই বা পাকসেনার উপর বোম ফেলেনি বায়ুসেনার মিরাজ ফাইটার জেট, বরং সোজাসুজি টার্গেট করেছিল বালাকোটের জইশ প্রশিক্ষণ শিবিরগুলিতে। বোমার আঘাতে গুঁড়িয়ে গেছে একটি মাদ্রাসা, যেখানে বহুবছর ধরে জিহাদি হওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। পাশাপাশি, ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে জঙ্গি ক্যাম্পগুলিও। অমরের দাবি, এই মাদ্রাসাতে আধুনিক অস্ত্রের ট্রেনিং দেওয়া হতো।

মৌলানা অমর নিজেও জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত। আফগানিস্তান ও কাশ্মীরে জইশ-ই-মহম্মদের হয়ে কাজ করে সে। বালাকোটে জইশ শিবির ধ্বংসের খবর সামনে আসার পরই ভারতীয় সেনার তরফে দাবি করা হয়, এই হামলায় মাসুদ পরিবারের তিন সদস্য নিকেশ হয়েছে। মাসুদের বড় ভাই ইব্রাহিম আজহার, ছোট ভাই মৌলানা তলহা সইফ এবং শ্যালক ইউসুফ আজহার।১৯৯৯ সালে কন্দহর বিমান হাইজ্যাকের ঘটনার অন্যতম চক্রী ছিল এই ইউসুফ ও ইব্রাহিম। সেই সঙ্গে এয়ার স্ট্রাইকে খতম হয় অন্তত ২৫ জন জইশ প্রশিক্ষক। তাদের মধ্যে ছিল মৌলানা মুফতি আজহার। মুফতি জইশের কাশ্মীর মডিউলের প্রধান।

মাসুদের ছোট ভাই অমরকে এও বলতে শোনা যায় যে, জইশ প্রশিক্ষকদের পাশাপাশি আইএসআই কলোনেল সালিম কোয়ারি এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞ মৌলানা ময়েনেরও মৃত্যু হয়েছে এই এয়ার স্ট্রাইকে। জঙ্গি শিবির ধ্বংসের কথা স্বীকার করার পাশাপাশি ভারতীয় বায়ুসেনার কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে ছেড়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নিন্দাও শোনা গেছে অমরের মুখে।

মঙ্গলবার ভোর রাতে পাকিস্তানের বালাকোটে জইশ ই মহম্মদের সব থেকে বড় জঙ্গি শিবির বিমান গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। তার পর চব্বিশ ঘন্টা না কাটতেই ঘরোয়া রাজনীতিতে অনেকে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন, বালাকোটে অপারেশনের প্রমাণ দিচ্ছে না কেন মোদী সরকার? ঘটনাচক্রে তার পরই এ দিন দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিন বাহিনীর কর্তারা। এয়ার ভাইস মার্শাল আরজিকে কাপুর বলেন, মঙ্গলবার সন্ত্রাসবাদ দমনে পদক্ষেপ করেছিল নয়াদিল্লি। যেখানে আঘাত হানার লক্ষ্য ছিল ঠিক সেখানেই আঘাত করা হয়েছে। জঙ্গি শিবিরগুলির যতটা ক্ষতি করার উদ্দেশ্য ছিল সাফল্যের সঙ্গে ততটাই করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। উল্টো দিকে পাকিস্তানের দাবি ছিল, ভারতীয় বোমায় দু’একটা গাছ ও ফসল ছাড়া কিছুই সেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

প্রতিরক্ষা কর্তাদের মতে, পাকিস্তান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে। আর তা নিয়ে আমাদের দেশের কোনও কোনও মহলে রঙ চড়িয়ে নানা খবর ছড়ানো হচ্ছে। পাকিস্তান যে বারবার মিথ্যে কথা বলছে তা গত ৭২ ঘণ্টায় প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.