পাকিস্তানে দুই হিন্দু কিশোরীকে অপহরণ করে বিয়ে ও ধর্মান্তরের অভিযোগ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তারপরেই পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। জানা যাচ্ছে, তিনি দুই কিশোরীর বিয়ে দিতে সাহায্য করেছিলেন। অপহৃতারা পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। দু’জনের আর্জি, কোর্ট তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুক।

অপহৃত কিশোরীদের মধ্যে রবিনার বয়স ১৩ এবং রিনার বয়স ১৫। তাদের বাড়ি সিন্ধু প্রদেশের ঘোটকি জেলায়। হোলির আগে স্থানীয় এক প্রভাবশালী পরিবারের লোকজন তাদের অপহরণ করে। দু’জনের বিয়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। তাতে ক্ষোভ দেখা যায় পাকিস্তানের সর্বত্র।

পাকিস্তানে শাসক তেহরিক ই ইনসাফ দলের হিন্দু সংসদ সদস্য রমেশ কুমার ভানকওয়ানি জানিয়েছেন, সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে জোর করে ধর্মান্তকরণের বিরুদ্ধে বিল পেশ করবেন। সেই বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, সংসদের মাননীয় সদস্যদের উচিত অপহরণ ও জোর করে ধর্মান্তকরণের নিন্দা করা। ২০১৬ সালে সিন্ধু প্রদেশের বিধানসভায় জোর করে ধর্মান্তকরণের বিরুদ্ধে একটি বিল পাশ হয়েছিল। কিন্তু কট্টরপন্থীদের চাপে সেই বিল কার্যকর করা যায়নি। সেই বিলটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। যারা জোর করে ধর্মান্তকরণ সমর্থন করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

দুই কিশোরীকে অপহরণ, জোর করে ধর্মান্তকরণ ও কম বয়সে বিবাহ দেওয়া নিয়ে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরির সঙ্গে রীতিমতো তর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

অপহরণের খবর জানাজানি হওয়ার পরেই তিনি পাকিস্তানে ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে এসম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছিলেন। তিনি টুইটারে লিখেছিলেন, ওই ঘটনা নিয়ে জানতে চেয়েছেন।

ফাওয়াদ চৌধুরী সুষমার সেই টুইট দেখে মন্তব্য করেন, এটা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। প্রধানমন্ত্রী জানতে পেরেছেন, মেয়েদু’টিকে পাঞ্জাবের রহিম ইয়ার খান অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশের সরকারকে যৌথভাবে এবিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। আগামী দিনে যাতে এমন আর না ঘটে সেজন্যও ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

দুই কিশোরী অপহরণের পর পাকিস্তানে হিন্দুরা ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায়। প্রধানমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, তিনি গত বছর ভোটের প্রচারে বলেছিলেন, হিন্দু মেয়েরা যাতে নির্যাতনের শিকার না হয়, তার ব্যবস্থা নেবেন।

পাকিস্তানে ৭৫ লক্ষ হিন্দু বাস করেন। তাঁদের বেশিরভাগই থাকেন সিন্ধু প্রদেশে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, সিন্ধু প্রদেশের উমেরকোট জেলাতেই গড়ে মাসে ২৫ টি মেয়েকে জোর করে বিবাহ দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.