মোদি সরকারের প্রচেষ্টা: হেরিটেজ নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা HRIDAY এর অধীনে গয়া সহ বারোটি শহরের উন্নয়ন

সিন্ধু উপত্যকার সভ্যতা কিংবা মহান গুপ্ত সাম্রাজ্য উভয়েই ভারতের স্বর্ণ যুগকে চিহ্নিত করে। এই মহান সভ্যতা গুলির বিকাশের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নগর বা শহর। নগর কেন্দ্রীক সভ্যতার বিকাশ, উত্থান ও পতনের ইতিহাস গুলির আকর্ষণীয় ঘটনা গুলি আমাদের সঠিক ভাবে বলা হয় না। স্বাধীনতার পরে গ্রাম স্বরাজের কাল্পনিক ভাবনাগুলির বাইরে বেরিয়ে সাধারন মানুষ থেকে দেশের নীতিনির্ধারকরা কেউই প্রাচীন শহরগুলিতে তাদের সমস্যার সঠিক ভাবে সমাধান করতে এগিয়ে আসেনি। অর্থনৈতিক উদারীকরণের পরে শহরগুলিতে অন্যভাবে নজর দেওয়া শুরু হয়েছে। আগামী দশকগুলিতে অনেক শহর যেমন বিকশিত হয়ে উঠে আসবে তেমনি আবার অনেকগুলি তাদের গৌরব হারাবে। যদি ইতিহাসের দিকে তাকানো যায় তবে দেখা যাবে মানুষের সভ্যতা নগর বা শহরের ভাঙা-গড়া নিয়েই এগিয়েছে। আর মানব সভ্যতা তখনই সামনের দিকে এগিয়েছে যখন তার শহর সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয়েছে।  

দেশের কতগুলি ঐতিহ্যবাহী প্রচীন শহরকে তাই মোদি সরকার উন্নয়ন ও পরিবর্ধনের কাজে সামিল করে তার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে হাত লাগিয়েছে। তেমনই একটি শহর গয়া। গয়া বিহারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং মগধ বিভাগের রাজধানী। মোদি সরকারের জাতীয় ঐতিহ্যপূর্ণ শহর উন্নয়ন কর্মসূচীর Heritage City Development and Augmentation Yojana (HRIDAY) প্রকল্পের অধীনে তার রূপান্তর হয়েছে। উল্লেখ্য HRIDAY প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ১২টি শহর আজমীর, অমরাবতী, অমৃতসর, বাদামী, দ্বারকা, গয়া, কঞ্চীপুরম, মথুরা, পুরি, বারানসী, ভেলানকান্নি ও ওয়ারেঙ্গাল কে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের পুনরূদ্ধারের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার।

গয়া হিন্দু, জৈন, ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। রামায়ণে এবং মহাভারত এর উল্লেখ করা হয়েছে। এই সেই স্থান যেখানে বুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করেন বোধি বৃক্ষের গোড়ায় তেমন ভগবান রাম পিতা দশরথকে পিন্ড দান করেন। এটি বৌদ্ধধর্মের চারটি পবিত্র জায়গার একটি আর এখানেই মহাবোধি মন্দির কমপ্লেক্স অবস্থিত। ২০১৫ সালে HRIDAY প্রকল্পের অধীনে ৪০.০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয় গয়ার উন্নয়নে।

রাজ্য সরকারগুলিকেও ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির জন্য তহবিল বরাদ্দ করতে বলা হয়েছে। “আইকন সাইট ডেভেলপমেন্ট স্কিম” এর অধীনে, কেন্দ্রীয় সরকার তার কর্পোরেট গলিকে নির্বাচিত সাইটগুলির উন্নয়ন এবং সৌন্দর্যের জন্য বরাদ্দ করেছে। এই প্রকল্প গুলি ঐ জায়গার প্রশাসনের অধীনে থাকলেও তার খরচ বহন করবে কর্পোরেশন গুলি। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড গয়ার বিষ্ণুপাদ ও সূর্যকুন্ডের উন্নয়ন এবং সৌন্দর্যায়নের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। গয়ার পুর কমিশনার বিজয় কুমার বলেন আমরা একটি প্রকল্প প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠিয়েছি। 

ভারতের জন্য, ২১ শতক হবে নগরায়নের শতাব্দী। কম উৎপাদনশীলতার জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত। তাই গ্রামের মানুষের একটা বড় অংশ কৃষি ও ছোট ব্যবসার মাধ্যমে টিকে থাকতে পারছেনা।নতুন নতুন সুযোগের সন্ধানে মানুষ দ্রুতগতিতে গ্রাম থেকে শহরগুলিতে চলে আসছে। শিক্ষা, চাকরি, তথ্য এবং সামাজিক ক্ষমতায়নের ভালো মানের জন্যই নগরমুখী হচ্ছে মানুষ। ভারত, চীন, এবং ব্রাজিলের মতো বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলিতে তাই দ্রুত নগরায়ণ চলছে।  

মোদি সরকার দ্বারা চালু করা নগরোন্নয়ন প্রকল্পগুলির একটি হল স্মার্ট সিটি মিশন। এর অধীনে ভারত জুড়ে ১০০ টি শহরকে প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষমতায়নের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। আরেকটি প্রকল্প হল হাউজিং ফর অল যা ২০২২ সালের মধ্যে কম আয়যোগ্য দুর্বল শ্রেণীর মানুষের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেবে। শহরগুলিতে বর্জ্য নিষ্কাসন এবং জল সরবরাহের পরিকাঠামো নির্মানে ২০১৫ সালে মোদী সরকার কর্তৃক অটল মিশন ফর রেজুভেনেশন এন্ড আরবান ট্রান্সফরমেশন (এ এম আর ইউ টি) চালু হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামোর সাথে সজ্জিত শহুরে এলাকায় বাস করার জন্য ভারতীয়দের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দেখা গেছে। নগর কেন্দ্রীকতার সূচকীয় বৃদ্ধি ভারতীয় সভ্যতার পুন:বিকাশের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অতীতে এই সভ্যতা অনেক উত্থান এবং পতন দেখেছে আর প্রত্যাশিত ভাবে ভবিষ্যতেও একই হবে। আশা করা যায় বর্তমানের নগরায়নের এই বৃদ্ধি দীর্ঘ সময় ধরে চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.