কংগ্রেস (Congress) এবং তাঁদের সমর্থক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে করা মন্তব্যের পর বেজায় চটে রয়েছে। তাঁরা ওই মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করার একটাও সুযোগ দাব দিতে চায়নি। কিন্তু সমস্যা হল, একদিকে রাহুল গান্ধী যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ এনে যাচ্ছে, তখন সেগুলোর বিরোধিতা করার জন্য তাঁরা মুখ খুলছে না। আর প্রধানমন্ত্রী মোদী রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তাঁরা রে রে করে তেড়ে আসছে। দিন কয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজীব গান্ধীকে ১ নং দুর্নীতিবাজ বলে ওনার মুখোশ খুলে দিয়েছিল। আর এই কারণেই কংগ্রেস চরম চটে গেছিল।

কংগ্রেস সমর্থিত বাম, স্বঘোষিত উদারবাদীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওই মন্তব্যের পর রাজীব গান্ধীকে বাঁচানোর খুব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওই বয়ানের পর দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষক সার্বজনীন ভাবে বয়ান জারি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্তব্যকে অপমানজনক এবং অসত্য বলে নিন্দা করে।

শিক্ষকেরা লেখেন, ‘নরেন্দ্র মোদী স্বর্গীয় রাজীব গান্ধীর ব্যাপারে অপমানজনক এবং অসত্য মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী পদের সন্মানহানি করেছে। রাজীব গান্ধী রাষ্ট্রের সেবার জন্য সর্বোচ্চ বলিদান দিয়েছিলেন।” দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই বয়ান সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং কংগ্রেসের মুখপাত্রের মত বয়ান। এরা তাঁরাই যারা বলতেন, গণতান্ত্রিক দেশে কেউই সমালোচনা থেকে বাঁচতে পারেনা। আর এখন তাঁরাই এই গণতান্ত্রিক দেশে রাজীব গান্ধীর সমালোচনা শুনতে নারাজ। দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই বয়ান সামনে আসার পর কংগ্রেসও কোমর বেঁধে নেমে পড়ে।

দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষকরা কংগ্রেসকে সমর্থন করার পর শিক্ষক মহল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অপমানজনক এবং অসত্য বয়ান দেওয়ার জন্য দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২১ জন শিক্ষক একটি চিঠি জারি করে কংগ্রেসকে একহাতে নেন। শুধু দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ই না, দিল্লীর অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও রাহুল গান্ধীর আর কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান শুরু করে দেয়। আর তারসাথেই শিক্ষকেরা রাজীব গান্ধীর শাসনকালে হওয়া প্রতিরক্ষা খাতে দুর্নীতিকে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য মোদী সরকারের প্রশংসাও করেন।

ওই ১২১ জন শিক্ষক একটি চিঠি জারি করে লেখেন, রাজীব গান্ধী ভারতকে সন্মানিত করতে পারে। আর ওনার পরিবারের সদস্যরা বড়বড় সন্মানিয় পদ দখল করে থাকতে পারেন। কিন্তু দুর্নীতিতে ওনার যোগদান নিয়ে সমালোচনা করতে কেউ বাঁধা দিতে পারেনা। ওই শিক্ষকেরা লেখেন, ‘কংগ্রেস সেই দল যারা ১৯৮৪ সালে শিখেদের নরসংহার করার সমর্থন করেছিল। আর এরাই বোফোর্স দুর্নীতি করেছিল। আর সেখান থেকেই এই দুর্নীতির পথ চলা শুরু হয়, যেটার আগাগোড়াই নেতৃত্বে ছিল কংগ্রেসের সরকার। ২জি, কোল গেট, সিডাব্লিউজি আর স্করপিয়ন সাবমেরিন এর মত দুর্নীতিতে সরাসরি রাহুল গান্ধী জড়িত। আর এগুলো সব বোফোর্স পরম্পরার অধীনেই হয়েছে।”

শিক্ষকেরা আরও লেখেন, ‘এরপর রিমোর্ট চালিত মনমোহন সিং এর ইউপিএ সরকার এলো। ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা কাণ্ডের মূল দোষী ওয়ারেন অ্যান্ডারসনকে বাঁচানোর কাজ এরাই করল। এরপর রিমোর্ট নিয়ন্ত্রিত সরকার দ্বারা গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ কাত্রোচ্চি মামার হাত ধরে এরাই আবার নতুন করে দুর্নীতি শুরু করল। আর এই করেই কংগ্রেস দল প্রতিটি দুর্নীতিতে নিজের নাম তুলে ফেলল।” এই ভাবেই ডিইউ এর শিক্ষকেরা কংগ্রেসকে বড়সড় ঝটকা দিয়ে সত্যকে সামনে আনে। আর শিক্ষকদের এই বয়ানের পর কংগ্রেসের তরফ থেকে এখনো কোন প্রতিক্রিয়া জারি হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.