মুসলমানদের একটি পৃথক জাতি বলে উল্লেখ করেছেন এমন ব্যক্তিকে আপনারা চিনেনিন

‘ মুসলিম হৈ হম, ওয়তন হৈ সারা জহাঁ হামার ‘ অর্থাৎ আমরা মুসলমান, সারা পৃথিবী হল আমাদের দেশ এই গানটা তিনি রচনা করেন ।

কিন্তু এই গানের চর্চা খুবই কম হয়। বৃটেনে থাকতেই তিনি সর্বপ্রথম রাজনীতির সংস্পর্শে আসেন। ১৯০৬ সালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হবার পরপরই তিনি তাতে যোগ দেন। দলের বৃটিশ চ্যাপ্টারের এক্সিকিউটিভ কমিটিতে নির্বাচিত হন তিনি সৈয়দ হাসান বিলগামী এবং সৈয়দ আমির আলির সাথে তিনি সাব-কমিটির সদস্য হিসেবে মুসলিম লীগের খসড়া সংবিধান প্রস্তুত করেন।

এর পর ১৯২৬ সালে তিনি লাহোরের মুসলিম লীগের পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন। ধর্মভিত্তিক জাতির অস্তিত্ব স্বীকার করে বিশ্বের কোন খণ্ডকে সেই জাতির স্বতন্ত্র দেশরূপে চিহ্নিত করার প্রয়াস অবশ্যই সংকীর্ণতাকে আহ্বান করে। তিনি মুসলিম লীগের সভাপতি রূপে সেই অনুদার মনোভাবই ব্যক্ত করেছিল। ১৯৩০ শে ইলাহাবাদ অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে তিনি সভাপতিত্ব করেছিলেন এবং বক্তৃতাতেই বলেছিলেন :”আমরা হলাম ৭কোটি মানু্ষ ভারতবর্ষের অন্য সমস্ত মানুষদের চেয়ে আমরা বেশি সমগোত্রীয় বস্তুত ভারতবর্ষের মুসলমানরাই একমাত্র জনগোষ্ঠী যাদের যাদের সম্পর্কে আধুনিক অর্থে ” জাতি “শব্দ প্রয়োগ যায়। হিন্দুরা যদিও প্রায় সব বিষয়ে আমাদের থেকে এগিয়ে তবু একটি জাতির পক্ষে প্রয়োজনীয় সমগোত্রীয়তা তাঁরা অর্জন করতে পারেনি । ইসলামের দান হিসাবে আমরা পেয়েছি । সুতরাং মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের জন্য মুসলমানদের দাবি সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত । তিনি কখন মুসলমানদের একটি পৃথক জাতি বলে উল্লেখ করেছেন আবার তাঁদের কখন তাঁদের একটি সম্প্রদায় বলে চিহ্নিত করেছিলেন। বিশেষত অন্য ধর্মা​​বলম্বী মানু্ষরা যে ধর্মগোষ্ঠী , জাতি নয় এ কথাই তিনি মনে করেছিলেন।

তিনি মনে করতেন সংখ্যালঘু মুসলমানরা চিরকাল সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের শাসনাধীন থাকবে । তাঁর প্রধান লক্ষ্যই ছিল হিন্দুপ্রধান্য থেকে মুসলমানদের মুক্ত রাখা । এই মনোভাব নিয়ে তিনি তিনি জিন্না কে উৎসাহিত হবার জন্য পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেছিলেন ” ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি যে কোন রাজনৈতিক সংগঠন যদি সাধারণ মুসলমানদের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি না দেয় তা হলে সেই সংগঠন মুসলিম জনগণকে আকৃষ্ট করতে পারবে না । (এটা বর্তমান সময়ের হিন্দুত্ব নিয়ে কাজ করছে যে সব সংগঠন কাজ করছে তাঁদের ক্ষেত্রে এই উক্তিটি খুবই বাস্তবসম্মত ও গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি )।তাঁর এই ধরনের প্রস্তাব থেকে বোঝা যায় যে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রতি তাঁর খুবই ভালোবাসা ছিল । মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের কথা রহমত আলি , আগা খাঁ এবং তিনি ছাড়া কেউ কেউ বলেছিলেন । ১৯১৭ সালে স্টকহলমে আবদুল জব্বর এবং আবদুল সত্তার নামে দুজন ব্যক্তি একটি ভারতীয় ফেডারেশন গঠনের কথা বলেছিলেন। হিন্দি হৈ হম, হিন্দুস্তা হামারা এই কথা বলার সাথে সাথে বিশ্বজনীন ইসলামিক জত্যাভিমানের মানসিকতাও তাঁর কবিতাগুলোতে প্রবল ভাবেছিল । কোরানের নির্দেশের নতুন ব্যখ্যা করে লেখা তাঁর ” শিকওয়া , শমা ঔর শায়র , সিসিলি , ফাতিমা “কবিতা গুলি মুসলিম যুবমানস কে উদ্দীপ্ত করেছিল।

লেখনিতে যে ইসলামী পুনর্জাগরণের আওয়াজ উঠেছিল তা সমসাময়িক অনেক ব্যক্তি ও আন্দোলনকে সাংঘাতিকভাবে প্রভাবিত করেছে। তার দর্শনে প্রভাবিত হয়েছিলেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ যিনি পাকিস্তানের কায়েদে আজম।

তার ইসলামী পুনর্জাগরণের চেতনাকে সারা জীবনের তরে জীবনোদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করে একটি পুনর্জাগরণী দলের জন্ম দেন তার স্নেহধন্য সৈয়দ আবুল আ’লা মওদুদি। যার প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী পাক-ভারত উপমহাদেশে ইসলামী পুনর্জাগরণের স্বপ্ন দেখেছিল। তিনি শিয়া চিন্তানায়কদেরকেও প্রভাবিত করেছিলেন। ইরানের ইসলামী বিপ্লবের চিন্তানায়ক ড. আলি শরিয়তি ও তাঁর দ্বারা সাংঘাতিক প্রভাবিত ছিলেন ।

নামটা উল্লেখ করলাম না ব্যক্তিটা কে আপনারা বুঝেই নিন ছবি তো দিয়েই দিলাম ওনার ।

সৌমেন ভৌমিক

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.