বিরোধীদের রামধনু জোট ভারতীয় গণতন্ত্রের অগ্নিপরীক্ষা

আমাদের দেশে জোট রাজনীতির ইতিহাস অতি প্রাচীন। তালিকোটার প্রান্তরে দক্ষিণ ভারতে ভারতীয় সভ্যতা সংস্কৃতির একমাত্র রক্ষক বিজয়নগর সাম্রাজ্যকে ধ্বংস করেছিল বিজাপুর, আহম্মদনগর, গােলকুণ্ডা, বেরার ও বিদর এই পাঁচ মুসলমান রাজ্যের জোট। জোট রাজনীতির খেলায় সেদিন দাক্ষিণাত্যে ধ্বংস হয়েছিল জাতীয় সভ্যতা, লাভবান হয়েছিল ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত বিদেশি স্বার্থ। স্বার্থের প্রয়ােজনে জোট গঠন সহজে হলেও আদর্শের খাতিরে, দেশরক্ষার জন্য, জোট গঠন কোনাে এক অজ্ঞাত কারণে হয়নি অত সহজে। খারাপ লােকেরা স্বার্থন্বেষী জোট গঠন করতে পারলেও, ভালাে লােকেরা আদর্শের খাতিরে জোট গড়তে পারেননি সঠিক সময়ে। তাই দেখা যায় বহিরাগত মুসলমানরা জোটবদ্ধভাবে বিজয়নগর ধ্বংসের সমকালেই মােঘল শাসনের বিরুদ্ধে জোট গড়তে ব্যর্থ হন রাজপুত রাজারা। মিরজাফর এবং ইংরেজ সহজেই জোট গড়ে দেশের শাসনক্ষমতা দখল করে, কিন্তু দেশের স্বাধীনতার জন্য হাজার প্রয়ােজনেও জোটবদ্ধ হতে ব্যর্থ হন গান্ধীজী এবং নেতাজী।

স্বাধীনতার পরেও আমাদের দেশে জোট রাজনীতি নিয়ে পরীক্ষা হয়েছে প্রচুর। একথা ঠিক যে জোটবদ্ধ হওয়া বা না হওয়ার ওপর রাষ্ট্রের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ধারিত হয়। স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচনে শাসকদল কংগ্রেস পেয়েছিল ৪৫ শতাংশ ভােট এবং ৭৪ শতাংশ আসন, অন্যদিকে বহুধাবিভক্ত বিরােধী দলগুলি এবং নির্দল প্রার্থীরা পেয়েছিল ৫৪ শতাংশ ভােট এবং মাত্র ২৫ শতাংশ আসন। অধিক ভােট পেয়েও কম আসন পাওয়ার হাত থেকে মুক্তি পেতে বিরােধী দলগুলি পরবর্তী নির্বাচনসমূহে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করার পরিকল্পনা করে। জোটবদ্ধ হবার প্রস্তুতি হিসেবে তারা তৎকালীন পার্লামেন্টে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে বিরােধী দলনেতা হিসেবে মনােনীত করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শ্যামাপ্রসাদের নিজের দল জনসঙ্ঘ ১ শতাংশেরও কম আসন পেয়েছিল (মাত্র তিনটি), কিন্তু শ্যামাপ্রসাদের যােগ্যতা দেখে তাকে বিরােধী দলনেতা মনােনীত করেছিলেন তৎকালীন বিরােধী দলের তাবৎ নেতারা। নিঃসন্দেহে এই জোট ছিল আদর্শের দ্বারা গঠিত। শ্যামাপ্রসাদের অকালমৃত্যুতে এই জোট গঠন প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়। যদি তা না হতাে, যদি ১৯৫৭ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত এই জোট বজায় থাকতাে, তাহলে ১৯৫৭-তেই নেহরু গদিচ্যুত হতেন। ভারতীয় রাজনীতিতে জোট রাজনীতির দ্বিতীয় পরীক্ষা হয়েছিল সত্তরের দশকে। ১৯৭৭-এ এমার্জেন্সির কালাে যুগের অবসানের পর লােকসভা নির্বাচনে বিরােধী দলগুলি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। সেই ঐক্য ছিল ইন্দিরা গান্ধীর একনায়কত্বের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপ্রেমী রাজনৈতিক দলগুলির জোট। সেই দলগুলির নিজেদের মতাদর্শের মধ্যে ভিন্নতা ছিল, কিন্তু এমার্জেন্সির একনায়কত্বের অবসান কল্পে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তারা একমত ছিল, ভােট ময়দানে ইন্দিরা গান্ধীর একনায়কতন্ত্রী সরকারকে পর্যুদস্ত করেছিল, একনায়কত্বের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে তারা সক্ষম হয়েছিল। স্বাধীন ভারতের প্রথম জোট সরকার গড়তে সক্ষম হয়েছিল তারা। বিভিন্ন দলের দ্বারা গঠিত সেই সরকারের মন্ত্রীসভায় ছিলেন অনেক লব্ধ প্রতিষ্ঠ ব্যক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষায় স্বর্ণপদক পাওয়া প্রতাপচন্দ্র চন্দ্র ছিলেন সেই সরকারের শিক্ষামন্ত্রী। গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করা এবং এরকম একটি মণিমাণিক্য-খচিত মন্ত্রীমণ্ডলী গঠন করা সেই জোটও কিন্তু দেশকে স্থায়ী সরকার উপহার দিতে পারেনি। ১৯৭৭-এ গঠিত সরকার ১৯৮০-তেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল। সরকার পতনের একটাই কারণ, সরকারটি ছিল জোট সরকার।

ভারতের জাতীয় রাজনীতিক্ষেত্রে এর পরে জোট-রাজনীতির তৃতীয় পরীক্ষা হয়েছিল প্রায় এক দশক পরে, ১৯৮৯ সালে, রাজীব গান্ধীর বােফর্সদুর্নীতির বিরুদ্ধে বিরােধী দলগুলি জোট গড়েছিল। তারাও নিজেদের মতাদর্শের ভিন্নতা ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল দুর্নীতিবিরােধী লড়াইয়ে। কিন্তু নির্বাচনী যুদ্ধে জয়ী হলেও নির্বাচন পরবর্তী যুগে সরকার চালানাের সময় তারা নিজেদের ঐক্য বজায় রাখতে পারেনি দীর্ঘদিন। জোট সরকারের পতন হয়েছিল একবছর শেষ হবার পূর্বেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সেই জোটের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক বিজেপি মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেনি যাতে মন্ত্রীপদ নিয়ে বিবাদের জেরে জোটে সমস্যা সৃষ্টি না হয়, তবুও শেষরক্ষা হয়নি। এরপর, নব্বইয়ের দশকে ভারতীয় রাজনীতিক্ষেত্রে জোট মন্ত্রীসভার পরীক্ষাগার হয়ে উঠেছিল। চন্দ্রশেকর, দেবগৌড়া, গুজরালের নেতৃত্বে একের পর এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা গঠিত হয়েছিল। কোনােটিই বর্ষপূরণে সক্ষম হয়নি। এই জোট জোট খেলা সমকালীন অর্থনীতিকে আহত করেছিল চরমভাবে। ভিপি সিংহ, চন্দ্রশেখর জমানার পর ভারতীয় অর্থনীতি দাঁড়িয়ে ছিল খাদের কিনারায়। দেশের অর্থনীতিকে বাঁচানাের জন্য এসময় দেশের সােনা বন্ধক রাখতে হয়েছিল বিদেশের কাছে। আর দেবগৌড়া-গুজরাল জমানার পর দেশের অর্থনীতিতে সঞ্চিত ছিল রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি ঋণ।

দেবেগৌড়া-গুজরাল জমানার পর ভারতবর্ষ প্রত্যক্ষ করেছিল অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে দু’দফায় এনডিএ জোট সরকারের শাসন। এই সময় বহুদিন পরে ভারতবাসী পেয়েছিল একটি স্থায়ী সরকার। অতীতের জোট সরকারগুলির পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রথম এনডিএ সরকারের অকালমৃত্যু হলেও দ্বিতীয় এনডিএ সরকার তাদের পুরাে সময় সরকার রক্ষা করতে পেরেছিল। জোট সরকার হওয়া সত্ত্বেও তাদের পুরাে সময় সরকার রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল শুধুমাত্র জোট গঠনকারী দলগুলির মধ্যে একটি দল অধিক শক্তিশালী ছিল এবং তারা জোটের নিউক্লিয়াস হিসেবে কাজ করেছিল এবং সেই জোট সরকারের অন্তর্ভুক্ত দলগুলির একটি ন্যূনতম সাধারণ কর্মসূচি ছিল এবং মতাদর্শগত ভাবে কিছুটা হলেও একতা ছিল বলে।

পশ্চিমবঙ্গও দীর্ঘদিন ধরে জোট রাজনীতির পরীক্ষাগার। ষাটের দশকের শেষের দিকে অজয় মুখার্জির নেতৃত্বে বাংলা কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই, আরএসপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, এসইউসি প্রভৃতি দলকে নিয়ে গঠিত হয় জোট সরকার। অজয় মুখার্জির মতাে মুখ্যমন্ত্রী, প্রফুল্ল ঘােষের মতাে কৃষিমন্ত্রী, জ্যোতি ভট্টাচার্যের মতাে শিক্ষামন্ত্রী পেয়েও সেই সরকার দু’বারের চেষ্টায় একবারও বর্ষপূর্তি করতে পারেনি। পরবর্তীকালে একই পরীক্ষাগারে জোট সরকার গঠনের পরীক্ষা দিয়েছিল বামফ্রন্ট। সম্পূর্ণ অযােগ্য ও নীতিহীন লােকেদের দ্বারা চালিত হলেও সেই জোট সরকার স্থায়িত্বের দিক দিয়ে রেকর্ড করতে পেরেছিল শুধুমাত্র জোটের একটি বড়াে দল এককেন্দ্রিকভাবে জোটটি চালিয়েছিল বলে।

স্বাধীন ভারতে জোট রাজনীতি নিয়ে যেটুকু পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে তার নির্যাস আমাদের এটুকুই শিক্ষা দেয় যে, একটি জোট সরকার তখনই স্থায়ী হয় যখন জোট গঠনকারী দলগুলির মধ্যে একটি আদর্শগত মিল এবং পারস্পরিক ঐক্যভাব থাকে। অথবা জোট গঠনকারী দলগুলির মধ্যে কোনও একটি দল অধিক শক্তিশালী হয় এবং তারা জোটের নিউক্লিয়াস হিসেবে কাজ করে, যদি কোনও একজন সর্বজনমান্য নেতা তাদের নেতৃত্ব দেন যাকে জোট গঠনকারী দলগুলি সবাই মান্য করে।

দেখা যাক বর্তমানে মােদীবিরােধী জোট স্থাপনের কুশীবল যারা অতীতে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন ছিল? জোটের তথাকথিত বড়দা কংগ্রেসের সদ্যপ্রাক্তন সভানেত্রী সােনিয়া গান্ধী জোটের অন্যতম নির্ভরযােগ্য শরিক বহুজন সমাজ পার্টির মায়াবতী সম্বন্ধে ২০০২ সালে বলেছিলেন— ‘The most corrupted lady of India’। এখন অবশ্য কোনও এক অজ্ঞাত কারণে সােনিয়া গান্ধী এই Corrupted lady-র corruption চর্মচক্ষে দেখতে পান না। অবশ্য জোট -রাজনীতির বাধ্য-বাধকতায় দৃষ্টিশক্তি কম হওয়ার অসুখে সােনিয়া গান্ধী একা আক্রান্ত নন, এই ছোঁয়াচে রােগের হাত থেকে মায়াবতীও মুক্তি পাননি। ১৯৯৫ সালে মুলায়ম সিংহ যাদবের সমাজবাদী পার্টির বিরুদ্ধে তাঁকে হত্যার চেষ্টার অভিযােগ আনা মায়াবতী এখন সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট গড়ার সময় সেইসব অভিযােগের কথা বেমালুম ভুলে গেছেন। ২০০৭ সালে উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে সমাজবাদী পার্টির বিরুদ্ধে তিনি গুন্ডামির অভিযােগ তুলেছিলেন। স্লোগান দিয়েছিলেন— ‘চড় গুন্ডাকে ছাতি পর, মােহর লাগা দে হাতি পর’। সেই সমাজবাদী পার্টির সঙ্গেই আজ একসঙ্গে মােদী বিরােধিতায় গলা চড়ানােয় কম যান না। কংগ্রেসের এমার্জেন্সির বিরুদ্ধে জয়প্রকাশ নারায়ণের আন্দোলনে যােগ দিয়ে জয় প্রকাশ নারায়ণের দয়ায় নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু করতে পারা লালুপ্রসাদ যাদব (ইন্দিরা গান্ধী প্রবর্তিত মিসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতে যিনি নিজের বড়াে মেয়ের নাম রেখেছিলেন মিসা) এখন সােনিয়া-রাহুল গান্ধী ভজনায় এবং জয়প্রকাশ নমারায়ণের স্নেহধন্য সংগঠন আর এস এস-এর নিন্দায় পঞ্চমুখ। জোটের স্বার্থে সিপিএমের পিনারই বিজয়ন, কংগ্রেসের সােনিয়া গান্ধী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি এখন প্রায়ই একসঙ্গে মঞ্চ ভাগ করেন। কে জানে তখন তাদের মনে পড়ে কিনা যে এই সােনিয়া গান্ধীর পূর্বসূরি জওহরলাল নেহরু একদা পিনারই বিজয়নের পূর্বসূরি নাম্বুদিরিপাদের নির্বাচিত সরকারকে ৩৫৬ ধারা প্রয়ােগ করে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ফেলে দিয়েছিলেন। বিধাতার কী অদ্ভুত পরিহাস, তখন গােটা দেশের সমস্ত রাজনীতিবিদদের মধ্যে একমাত্র যিনি নির্বান্ধব নাম্বুদিরিপাদের পাশে ছিলেন সেই স্বাতন্ত্রবীর সাভারকারের নিন্দা না করে আজকের কমিউনিস্টরা জলগ্রহণ করেন না। অবশ্য প্রয়ােজন মিটে যাওয়ার পর সাহায্যকারীর কথা বিস্মৃত হওয়ার অসুখে যে শুধু কমিউনিস্টরা আক্রান্ত তা নয়। ত্রয়ীর আরেক অংশীদার মমতা ব্যানার্জিরও এখন এ কথা মনে পড়ে না যে এই কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই একদা তার উত্থান এবং সেই সংগ্রামের সময় আজকের শত্রু বিজেপিই ছিল তার একমাত্র সাহায্যকারী। এখন সকলেই উৎসুক একটি বিশেষ দৃশ্য দেখার জন্য। জোট করে ভােটে লড়ার তাগিদে কবে তৃণমূল কংগ্রেসের উপেন বিশ্বাস এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের লালুপ্রসাদ যাদব একই মঞ্চে পাশাপাশি অবতীর্ণ হন।

জোটগঠনকারী দলগুলির মধ্যে এমন কোনও দল কি আছে যে দলটি অন্য দলগুলির চেয়ে আয়তনে বড়াে এবং তার কর্তৃত্ব জোটের অন্য দলগুলি মেনে নেবে? বর্তমান লােকসভা সদস্যের সংখ্যা যদি মাপকাঠি হয় তাহলে দেখা যাচ্ছে যে জোটগঠনকারী দলগুলাের মধ্যে প্রথম তিনটি বড়াে দল কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং তেলেগু দেশম প্রায় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। ৩৪ থেকে ৪৩-এর মধ্যেই সকলের অবস্থান। আগামী লােকসভা নির্বাচনে আসন সংখ্যার কিছু পরিবর্তন তাে অবশ্যই হবে। কিন্তু কোনও একটি দলকে যদি জোটের নিউক্লিয়াস হিসেবে একক কর্তৃত্ব বজায় রাখতে হয় তাহলে সেই দলকে একাই অন্তত দুশাের কাছাকাছি আসন দখল করতে হবে। অর্থাৎ উপরিউক্ত দলগুলির মধ্যে কোনও একটি দলকে নিজের গতবারের আসনের ৪০০ শতাংশ আসন এবারে দখল করতে হবে। একথা বলতে কোনও দ্বিধা নেই যে নির্বাচনী পার্টিগণিতে তা সম্ভব নয়।

এমন কোনও ব্যক্তি কি বর্তমান জাতীয় রাজনীতিতে আছেন যিনি সকল দলমতের এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এই সমস্ত দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন এবং যার নেতৃত্ব বিনা প্রশ্নে মেনে নেবে সব কটি দল ? কোনও একজনের নেতৃত্ব তাে দুরের কথা বর্তমানে বিরােধী দলসমূহের জোটে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর সংখ্যা এক ডজনের চেয়েও বেশি। কোনও একটি বিশেষ বিষয়কে নিয়ে কি বিরােধীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে? উত্তরে বলা যায়, কোনও একটি বিশেষ বিষয় তাে দূরে কথা বিরােধীদের মধ্যে কোনও অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচিও গৃহীত হয়নি। তা সত্ত্বেও জোট হয়। নির্বাচনে জোটই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। একক শক্তিতে বলবান কোনও একটি দলের পুরাে সময়কাল নিরঙ্কুশ শাসন না খণ্ড – বিখণ্ড বহুদলের জোট সরকারের খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা স্বল্পকালীন শাসন কোনটা দেশের পক্ষে বেশি গ্রহণযােগ্য— সে সম্বন্ধে সাতষট্টি বছরের অভিন্ন গণতন্ত্রের চালিকাশক্তি ভােটদাতারা যথেষ্টই ওয়াকিবহাল।

অম্লানকুসুম ঘোষ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.