ওমিক্রনের প্রভাব কেটে গেলে মরশুমি সর্দি-কাশির মতো হয়ে যাবে করোনা? কী বলছে WHO?

ওমিক্রনের পর কী হবে? করোনাভাইরাস কি মরশুমি ফ্লু’তে পরিণত হচ্ছে? যত দিন যাচ্ছে, এমনই সব প্রশ্ন উঠে আসছে। কিন্তু সেইসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা বলে জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। বিশ্বের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের তরফে জানানো হয়েছে, ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে যেরকম স্বচ্ছ ধারণা আছে বিশেষজ্ঞদের, তা এখনও করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ এবং করোনা বিষয়ক টেকনিকাল লিড মারিয়া ভ্যান কেরখোভ বলেন, ‘ভাইরাসের চরিত্র এখনও পালটাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে নয়া (করোনা) ভ্যারিয়েন্ট কীরকম হবে? ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে যেমন ধারণা আছে, তা (করোনার) ক্ষেত্রে নেই আমাদের।’ সঙ্গে তিনি জানান আগামিদিনে করোনার রূপ কেমন হতে চলেছে, তা বোঝার জন্য আরও তথ্যের প্রয়োজন আছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের করোনা বিষয়ক টেকনিকাল লিডের কথায়, ‘করোনাভাইরাস এখনও মরশুমি হয়নি। এই ভাইরাস অন্যরকমভাবে পালটে যায়।’ট্রেন্ডিং স্টোরিজ

এমনিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনায় নয়া ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে আক্রান্তের হদিশ পাওয়ার পর বিশেষজ্ঞদের একাংশ দাবি করেন, এটাই যে করোনার শেষ প্রজাতি নয়, তা কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ লিওনার্দো মার্তিনেজ বলেছেন, ‘ওমিক্রন যত দ্রুত ছাড়াচ্ছে, তাতে মিউটেশনের সুযোগ আরও বাড়ছে। যা আরও বেশি সংখ্যক প্রজাতির করোনাভাইরাস আসার পথ প্রশস্ত করছে।’

তবে ওমিক্রনের পরবর্তী কোনও করোনাভাইরাস প্রজাতি কীরকম চরিত্রের হবে বা কীরকমভাবে সংক্রমণ বাড়বে, তা নিয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানাতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের একাংশের বক্তব্য, ওমিক্রনের থেকেও পরবর্তী করোনার প্রজাতির ফলে অসুস্থতার মাত্রা কম হবে কিনা বা যে টিকা আছে, তা কার্যকরী হবে কিনা, তা নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা নেই। ওমিক্রনে যেহেতু অসুস্থতার তীব্রতা কম, তা দেখে অনেকের আবার আশা, করোনাভাইরাস ধীরে ধীরে মামুলি সর্দি-কাশির মতো হয়ে উঠবে। সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া না হলেও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ক্রমশ যে কোনও ভাইরাসের ভয়াবহতা হ্রাস পাবে, এমন কোনও কথা ছিল। সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে না। 

টিকাকরণের আর্জি

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকাকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্বে প্রথম যখন করোনার ঢেউ আছড়ে পড়েছিল, তখন কোনও টিকা ছিল না। মানুষের শরীরেও কোনও রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা তৈরি হয়নি। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও গড়ে উঠেছে মানুষের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.