সৌদি আরবের দুই পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করল সে দেশের সরকার। অভিযোগের তির ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথির দিকে। সৌদি সরকারের দাবি, দু’টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেগুলিকে প্রতিহত করা হয়েছে। যদিও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ মক্কা, মদিনা-সহ একাধিক এলাকায় পড়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি। অন্য দিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে হুথি। তাদের বক্তব্য, অতীতে কখনও মক্কা ও মদিনাকে নিশানা করা হয়নি, বর্তমানেও এই দুই শহর তাদের হামলার লক্ষ্য নয়।
সৌদি সরকারের তরফে শনিবার জানানো হয়, মক্কা ও মদিনার পাশাপাশি জেদ্দা, তইফ এবং রাবিঘের মতো শহরেও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। সৌদির অভিযোগ, এই হামলার পিছনে রয়েছে হুথি। তবে হুথির তরফে পাল্টা বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তাদের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য মূলত সৌদির তেল পরিকাঠামো এবং সামরিক ঘাঁটিগুলি। কোনও অভিযান চালানো হলে তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়। মক্কা ও মদিনায় হামলার ক্ষেত্রে তেমন কোনও ঘোষণা করা হয়নি বলেও জানিয়েছে তারা।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে সৌদি আরব। সেই সূত্রেই দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে রিয়াধ। গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনীর ইরান আক্রমণের পর পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই আবহে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদির সংঘাতও ফের তীব্র হয়েছে। গত কয়েক মাসে সৌদির বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর এবং তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সৌদির অন্য কয়েকটি জায়গায় হামলার কথা অবশ্য স্বীকার করেছে হুথি। তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইয়ানবুর আরামকো তেল ঘাঁটি, রাবিঘের তেল শোধনাগার এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তবে এই হামলাগুলির সব ক’টির বিষয়ে সৌদি সরকারের তরফে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্য দিকে, ইয়ানবু এবং তইফের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি। শনিবার সকালে ইয়ানবু, তইফ, মক্কা ও জেদ্দায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে প্রায় ১০ মিনিট পরেই সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।
এ দিকে, ইয়েমেনের দক্ষিণের বন্দর শহর এডেনে উপকূলরক্ষীবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে শনিবার হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পিছনেও হুথির হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিমান চলাচলেও। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সৌদি আরবগামী একাধিক উড়ান বাতিল করেছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা। মক্কা ও মদিনায় হামলার অভিযোগ এবং তা নিয়ে হুথির অস্বীকার—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে দুই পবিত্র শহরে হামলার অভিযোগের বিষয়ে সৌদি ও হুথির বক্তব্যের মধ্যে এখনও স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।

