গুজরাতে কংগ্রেসের হার নিয়ে রাহুলকে শাহের কটাক্ষ, ‘এসআইআর-কেই দায়ী করবেন?’

গুজরাতে কংগ্রেসের হার নিয়ে রাহুলকে শাহের কটাক্ষ, ‘এসআইআর-কেই দায়ী করবেন?’

জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করছেন তিনি। মঙ্গলবার দিল্লিতে নিজের বাসভবনে বিরোধী নেতাদের নিয়ে বৈঠকের পর মোদী সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন রাহুল। আর সেই দিনই গুজরাতের পুরনির্বাচনে কংগ্রেসের পরাজয় নিয়ে তাঁকে পাল্টা আক্রমণ করলেন শাহ। তাঁর প্রশ্ন, ভোটে হারলেই কি কংগ্রেস এসআইআর (ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন)-কে দায়ী করবে? একই সঙ্গে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের জন্যও রাহুলকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

গুজরাতের গাঁধীনগর-সহ একাধিক পুরসভার নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যকে হাতিয়ার করেই রাহুলকে আক্রমণ করেছেন শাহ। গাঁধীনগর পুরসভার ৪৪টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। ওই পুরসভা শাহের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ঠারা ও ওখা পুরসভাতেও নিজেদের দখল বজায় রেখেছে গেরুয়া শিবির।

এই ফলাফলকে বিজেপির প্রতি ভোটারদের আস্থার প্রতিফলন বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘গুজরাতে বিজেপির এই বিপুল জয় আসলে ভোটারদের মানসিকতা তুলে ধরেছে। শুধু গুজরাত নয়, গোটা দেশের ভোটারই এখন নরেন্দ্র মোদীর পিছনে কঠিন শিলার মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে।’’

‘৪১ বছরে গাঁধীনগরে একটি ভোটও জেতেনি কংগ্রেস’

গাঁধীনগরে বিজেপির ভোটের হার বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে শাহ বলেন, গত নির্বাচনের তুলনায় সেখানে বিজেপির ভোট বেড়েছে ১০ শতাংশ। তাঁর দাবি, গত ৪১ বছরে গাঁধীনগরে কংগ্রেস একটিও নির্বাচনে জিততে পারেনি।

রাহুলকে সরাসরি আক্রমণ করে শাহের প্রশ্ন, গুজরাতের পুরনির্বাচনে কংগ্রেসের এই পরাজয়ের জন্যও কি এসআইআর-কে দায়ী করা হবে? বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তাকেও কি খারিজ করবেন রাহুল? শাহের বক্তব্য, কংগ্রেসের উচিত নিজেদের ব্যর্থতা নিয়ে আত্মসমীক্ষা করা।

তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের পর থেকে দেশে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু রাহুল গান্ধী রাজনীতিতে আসার পর থেকেই কংগ্রেস নির্বাচনে পরাজয়ের মুখ দেখছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে উপনির্বাচনেও কংগ্রেস জিততে পারেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন নিয়ে কটাক্ষ

রাহুলকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলেও আক্রমণ করেছেন শাহ। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজয়ের দায় এড়াতে এসআইআর-কে হাতিয়ার করছেন কংগ্রেস নেতা। আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য পরাজয়ের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত কংগ্রেসের। রাহুলের নেতৃত্বে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ধারাবাহিক ব্যর্থতা নিয়েই শাহ এই কটাক্ষ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

রাহুলের নেতৃত্বে বিরোধী জোটের আন্দোলনকেও কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মঙ্গলবার রাহুলের বাসভবনে চা-চক্রের পর বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জারি রাখার ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে রাহুল জানিয়েছিলেন, তাঁদের ঘিরে ‘জাল গুটিয়ে আসছে’।

সেই প্রসঙ্গেই শাহ বলেন, ‘‘দেশের মানুষের কণ্ঠ আসলে রয়েছে মাঠে, খামারে, গ্রামে, পাহাড়ে, জঙ্গলে। সেখানে কংগ্রেসের পৌঁছোনোর ক্ষমতা নেই। এই নেতিবাচক রাজনীতি তাদের কোনও সুবিধা করে দেবে না।’’

রাহুলকে নিশানা পীযূষ গোয়লেরও

রাহুল গান্ধীকে মঙ্গলবার আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়লও। তাঁর দাবি, রাহুল নিজেই কংগ্রেসের কাছে সবচেয়ে বড় ‘বিপদের লক্ষণ’।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কংগ্রেসের প্রশ্ন তোলার সমালোচনা করে গোয়ল অতীতে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান ও পদক্ষেপের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর কটাক্ষ, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও অতীতে নিজেদের কর্মকাণ্ডের কথা ভুলে গিয়েছে কংগ্রেস।

এক দিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন, অন্য দিকে গুজরাতের পুরনির্বাচনে বিজেপির সাফল্যকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.