এখানে প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে রচিত পেশাদার সংবাদ প্রতিবেদনটি নিচে দেওয়া হলো:

এখানে প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে রচিত পেশাদার সংবাদ প্রতিবেদনটি নিচে দেওয়া হলো:

রাজধানীতে কড়া পুলিশি প্রহরার মাঝেই ফের দিল্লির রাজপথে নামতে চলেছে বিরোধী শিবির। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণসহ একাধিক দাবিতে আজ, সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’।

পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সাংসদেরা যৌথভাবে মিছিল করে দেশের শীর্ষ আদালতের দিকে রওনা হবেন। এরপর ১০ জনের একটি প্রতিনিধিদল ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেবে। এই প্রতিনিধিদলে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিসহ রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়া প্রতিনিধিদলের বিশিষ্ট নেতাদের থাকার কথা রয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে জানিয়েছেন, বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বিরোধী প্রতিনিধিদের এই বৈঠক হতে পারে।

মূলত তিনটি প্রধান দাবিকে সামনে রেখে এই অভিযানের আয়োজন করা হয়েছে: ১. ‘ভোটচুরি’ বা নির্বাচনে জালিয়াতি বন্ধ করা, ২. এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা, এবং ৩. প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ।

রবিবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিয়ো বার্তায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, সোমবারের এই মিছিলে “গোটা ভারত” অংশ নেবে। রাজনৈতিক দল, লিঙ্গ, জাত, সম্প্রদায় বা রাজ্যের ভেদাভেদ ভুলে গণতন্ত্র ও সংবিধানে বিশ্বাসী সমস্ত যুব সম্প্রদায়, বিরোধী দল এবং নাগরিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মিছিলে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অন্য দিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-ও রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। যদিও সোমবারের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মিছিলে তারা সরাসরি যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা করা হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে দলের তরফে একটি বার্তা দিয়ে দিল্লির সমর্থকদের অবস্থান বজায় রাখতে এবং দিল্লিগামী ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শনিবার এই আন্দোলনের জেরে দিল্লিমুখী প্রায় ২৪০টি ট্রেন বাতিল করা হলেও রবিবার থেকে অধিকাংশ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

শনিবার দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে ব্যাপক ব্যারিকেড তৈরি, মধ্য দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ এবং মেট্রো ও রেল চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল পুলিশ। বহু প্রতিবাদীকে আটকও করা হয়। এর পরিপ্র্রেক্ষিতে রবিবার এক বিশেষ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়ে জানায়— শান্তিপূর্ণ এবং নিরস্ত্র প্রতিবাদের ক্ষেত্রে কাউকে বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। আদালত পুলিশি নিয়ম মেনে প্রতিবাদ চালানোর কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, ইন্টারনেট সচল রাখা এবং জনগণের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে যেখানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা বলবৎ নেই, সেখানে আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান এবং বিরোধী জোটের বড়সড় কর্মসূচির জোড়া চাপে সোমবার দিল্লি পুলিশের ভূমিকা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নতুন পরীক্ষার মুখে পড়তে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.