মর্যাদাপূর্ণ আইএফএ শিল্ড (IFA Shield) ফাইনালের আগে জমজমাট কলকাতা ডার্বির আবহ। ডুরান্ড কাপের ফাইনালের মতো নাটকীয়তা এড়িয়ে এবার নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যেই জয়ের ফয়সালা করতে চান ইস্টবেঙ্গলের অভিজ্ঞ প্রধান শিক্ষক আন্তোনিয়ো লোপেজ় হাবাস। অন্যদিকে, ডুরান্ড ফাইনালের পরাজয়ের ক্ষত মুছে ট্রফি জিতে বদলা নিতে মরিয়া মোহনবাগানের গ্রিক কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস। বুধবার প্রেস কনফারেন্সে দু’দলের কোচের শক্ত অবস্থানে স্পষ্ট যে, কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এক টানটান লড়াই অপেক্ষা করছে।
ইস্টবেঙ্গল শিবির সূত্রে জানা গিয়েছে, ম্যাচ অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে টেনে নিয়ে যেতে একদমই নারাজ লাল-হলুদ কোচ। পুরো ৯০ মিনিট ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে ট্রফি জয়ের কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন হাবাস। তিনি বলেন, “সংগঠিত এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলাটাই সবচেয়ে জরুরি। ৯০ মিনিটের মধ্যে ম্যাচ শেষ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য, কারণ অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে যাওয়া দলের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।” ডুরান্ড কাপের ইতিহাস অতীত উল্লেখ করে হাবাস জানান, তাঁর দল ফাইনালের জন্য শতভাগ প্রস্তুত এবং এই ম্যাচের প্রেক্ষাপট আগের ম্যাচের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
জাতীয় দল থেকে ফেরা ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলার—প্রভসুখন সিংহ, আনোয়ার আলি ও এডমুন্ড লালরিনডিকাদের শারীরিক ও মানসিক স্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই প্রথম একাদশ সাজাবেন বলে জানান হাবাস। আন্তর্জাতিক ম্যাচের ধকল ও মানসিক চাপের বিষয়টি মাথায় রেখে অভিজ্ঞ এই স্প্যানিশ কোচ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দল নির্বাচন করতে চান।
অন্যদিকে, মোহনবাগান কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিসের সামনে এটি কার্যত এক বদলার ম্যাচ। সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল যেখানে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৭ গোল দিয়ে ফাইনালে উঠেছে, সেখানে মোহনবাগানকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আসতে হয়েছে পঞ্জাব এফসি-কে। তবে এসব পরিসংখ্যানে কান দিতে নারাজ বাগান কোচ। অতিরিক্ত চাপের কথা উড়িয়ে দিয়ে দিমপেরিস জানান, তিনি নিজের দলের পারফরম্যান্স ও কৌশলের ওপরই আলোকপাত করছেন।
ইস্টবেঙ্গলের এডমুন্ড ও ডেভিডের সাম্প্রতিক হ্যাটট্রিকের জবাব দিতে গিয়ে আত্মবিশ্বাসী দিমপেরিস স্মরণ করিয়ে দেন যে, তাঁর দলে মনবীর সিংহ, সাহাল আব্দুল সামাদ ও লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের মতো তারকা ফুটবলাররা রয়েছেন, যাঁদেরও এই মরসুমে হ্যাটট্রিকের নজির রয়েছে। সেমিফাইনালের ত্রুটি শুধরে ফাইনালে মোহনবাগান আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ইস্টবেঙ্গলের মতোই জাতীয় দল থেকে ফেরা মনবীর, সাহাল, আপুইয়া ও অনিরুদ্ধ থাপাদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সঠিক দল নামানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি। হাবাসের মতোই দিমপেরিসও টাইব্রেকারের ওপর নির্ভর না করে নির্ধারিত সময়েই জয় ছিনিয়ে নিতে চান।
বৃহস্পতিবার কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট থেকে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল মহাযুদ্ধ। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচারিত হবে ফ্যানকোড (FanCode) অ্যাপে।

