দুর্গাপুজোয় শিয়ালদহ শাখায় রাতভর স্পেশাল লোকাল, দূরপাল্লার ট্রেনের সংখ্যা বাড়াল পূর্বরেল

দুর্গাপুজোয় শিয়ালদহ শাখায় রাতভর স্পেশাল লোকাল, দূরপাল্লার ট্রেনের সংখ্যা বাড়াল পূর্বরেল

আসন্ন দুর্গাপুজোয় মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দিতে এবং যাত্রা সুগম করতে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করল পূর্বরেল। সে লক্ষ্যে শিয়ালদহ শাখায় রাতভর লোকাল ট্রেন চলাচলের সুব্যবস্থা করার পাশাপাশি সার্বিক পরিষেবা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পূর্বরেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী থেকে ২১ অক্টোবর দশমী পর্যন্ত শিয়ালদহ শাখায় সর্বমোট ৫১টি বিশেষ (স্পেশাল) লোকাল ট্রেন পরিচালিত হবে। গত বছর এই স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা ছিল ৩১টি। এই ৫১টি ট্রেনের মধ্যে ৩৮টি ট্রেন চলবে গভীর রাতে এবং সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে ভিড় সামলাতে বাকি ১৩টি বাড়তি ট্রেন চালানো হবে।

এর পাশাপাশি, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া থেকে ১৫ অক্টোবর (পঞ্চমী) পর্যন্ত শিয়ালদহ–রানাঘাট–লালগোলা রুটে চারটি প্রাক-পুজো স্পেশাল ইএমইউ ট্রেন চলবে। পুজোর দিনগুলিতে দুপুর ২টোর পর থেকে শহরতলির সমস্ত মেমু (MEMU) ট্রেনকে প্রতিটি স্টেশনে স্টপেজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। কেবল লোকাল ট্রেনই নয়, দূরপাল্লার যাত্রীদের সুবিধার জন্য ১০ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে মোট ৮০টি বিশেষ দূরপাল্লার ট্রেন চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা বিগত বছরের (৫০টি) তুলনায় অনেকটাই বেশি।

যাত্রী ভিড় সামলাতে এবং অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে স্টেশনগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এজন্য সার্বক্ষণিকভাবে নজরদারির কাজে সচল থাকবে একটি ‘২৪ ঘণ্টার ওয়াররুম’। এছাড়া শিয়ালদহ, দমদম ও বালিগঞ্জের মতো প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে বাড়তি রেক, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র (মেডিক্যাল বুথ), তথ্যকেন্দ্র (হেল্প ডেসক) এবং অতিরিক্ত শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। ভিড় এড়াতে রানাঘাটে অস্থায়ী বুকিং ও এক্সিট কাউন্টার এবং ব্যারাকপুর স্টেশনে অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার চালু করা হয়েছে।

রেল পরিষেবা আরও সুগম করতে দিগনগর হল্ট হয়ে শান্তিপুর ও কৃষ্ণনগর সিটি জংশনের মধ্যে দৈনিক ট্রেন পরিষেবা এক জোড়ার পরিবর্তে বাড়িয়ে দু’জোড়া করা হয়েছে। যার মধ্যে সকালের আপ ট্রেনটি শান্তিপুর থেকে ৯টা ৩৪ মিনিটে ছেড়ে ১০টা ৭ মিনিটে কৃষ্ণনগর পৌঁছাবে এবং ফেরার ডাউনের ট্রেনটি কৃষ্ণনগর থেকে ১০টা ১৭ মিনিটে ছেড়ে ১০টা ৪৩ মিনিটে শান্তিপুর পৌঁছাবে। পরীক্ষামূলকভাবে শিয়ালদহ-বজবজ রুটে গভীর রাতেও ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; যেখানে শিয়ালদহ থেকে ডাউন ট্রেনটি রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে ছেড়ে ১১টা ৪৩ মিনিটে বজবজ পৌঁছাবে এবং বজবজ থেকে আপ ট্রেনটি রাত ১১টা ৫৪ মিনিটে ছেড়ে রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে শিয়ালদহ পৌঁছাবে। উপরন্তু, শিয়ালদহ–কৃষ্ণনগর সিটি জংশন শাখার বদকুল্লা স্টেশনে চারটি এসি ইএমইউ লোকাল ট্রেনের পরীক্ষামূলক স্টপেজ দেওয়ার কথা জানিয়েছে রেল।

যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য ও সুরক্ষা প্রসঙ্গে শিয়ালদহ বিভাগের বিভাগীয় রেলওয়ে পরিচালক (ডিআরএম) রাজীব সাক্সেনা জানান, দুর্গাপুজোয় প্রতিটি যাত্রীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করাই রেলের প্রধান লক্ষ্য। রাতভর ট্রেন পরিষেবা, ২৪ ঘণ্টার ওয়াররুমের নজরদারি এবং স্টেশনগুলিতে উন্নত পরিকাঠামোর সাহায্যে সমগ্র নেটওয়ার্ককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের যাত্রায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.