রুপালি পর্দার ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’ খ্যাত প্রখ্যাত অভিনেতা ও রাজনীতিক মিঠুন চক্রবর্তীকে রাজ্য সরকারের ‘ক্যাবিনেট মন্ত্রী’ বা পূর্ণমন্ত্রীর সমতুল্য পদমর্যাদা দেওয়া হলো। বুধবার রাজ্য সরকারের এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রবীণ এই তারকাকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রধান উপদেষ্টা (অ্যাডভাইজার) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালের স্বাক্ষর সংবলিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজ্যপালের নির্দেশক্রমে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হচ্ছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের এক সরকারি অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মিঠুন চক্রবর্তীর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। নিউটাউনে প্রস্তাবিত ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানেও তাঁকে উক্ত কেন্দ্রের উপদেষ্টা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সে সময়ই প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে জানানো হয়েছিল, অতি শীঘ্রই ‘মহাগুরু’কে আরও বড় প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী দায়িত্বে দেখা যাবে।
বর্তমানে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরটির দায়িত্ব রয়েছে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের হাতে। এই নতুন পদে অধিষ্ঠিত হয়ে মিঠুন চক্রবর্তী ঠিক কী কী নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও নীতিগত পরামর্শ সামলাবেন, তা নিয়ে রূপরেখা স্পষ্ট না হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ চলচ্চিত্র শিল্পের নানা গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে তাঁকে। এর পাশাপাশি, আসন্ন কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব পরিচালনা ও রূপায়ণে গঠিত উপদেষ্টা কমিটির শীর্ষ পদের দায়িত্বও ইতিপূর্বে তাঁর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, ২০২১ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন মিঠুন চক্রবর্তী। এর আগে তিনি অন্য একটি দল থেকে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সেই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। বিগত কয়েক বছরে একাধিক রাজনৈতিক মঞ্চে দলটির অন্যতম প্রধান ‘তারকা প্রচারক’ (স্টার ক্যাম্পেইনার) হিসেবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

