গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেন পেশাদার কাউন্টি ক্রিকেটার রবিন দাস। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এবং বর্তমানে ব্রিটিশ নাগরিক ২৪ বছর বয়সি এই ডানহাতি ব্যাটারের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর তাঁকে লন্ডন ক্রাউন কোর্টে হাজিরা দিতে হবে। এই ঘটনার পর তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ার ও কাউন্টি দলে খেলা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
লন্ডনের মেট্রোপলিটান পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ মার্চ লন্ডনের ব্রিক্সটন এলাকায় এক মহিলা রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২৭ অগস্ট তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি জামিন পেলেও চলতি বছরের জুলাই মাসে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেশ করা হয়।
এসেক্স কাউন্টি দলের হয়ে খেলা রবিন ৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ এবং ২৯টি লিস্ট এ ম্যাচ খেলেছেন। চলতি বছরের ২১ জুলাই ওয়ান ডে কাপে খেলে তিনি ২৯ রান করেছিলেন। এর ঠিক দু’দিন পর, অর্থাৎ ২৩ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের দুটি নির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। এরপর থেকেই তিনি আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নামেননি।
এসেক্স ক্লাবের প্রতিক্রিয়া ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
বৃহস্পতিবার গ্ল্যামারগনের বিরুদ্ধে এসেক্সের ম্যাচ থাকলেও তাতে রবিন দাসকে দলে রাখা হয়নি। তার আগেই ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। যদিও বিবৃতিতে সরাসরি ক্রিকেটারের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে জানানো হয় যে মাঠের বাইরের একটি ঘটনার জেরে তাদের দলের এক ক্রিকেটার সম্প্রতি আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। আইনি জটিলতা ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে ক্লাব ক্রিকেটে তাঁর ভবিষ্যৎ এখন গভীর সংকটে।
ক্রিকেট মহলে অতীতেও এমন নজির রয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে উরস্টারশায়ারের অলরাউন্ডার আলেক্স হেপবার্নের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সাজা খাটার পর তিনি ক্লাবে অনুশীলনে ফিরলেও আর পেশাদার ক্রিকেটে জায়গা পাননি। রবিন দাসের ক্ষেত্রেও আদালত কী সাজা ঘোষণা করে, এখন সেদিকেই সবার নজর রয়েছে।

