দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডুসা) নির্বাচনে ফের নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখল আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। কেন্দ্রীয় প্যানেলের মোট চারটি পদের মধ্যে তিনটি পদেই জয়লাভ করেছে তারা। জয়ী হয়েছে সভাপতি, সম্পাদক এবং যুগ্ম সম্পাদকের পদে। গত বছরের নির্বাচনেও এই তিন আসনে জয়ী হয়েছিল এবিভিপি।
নির্বাচনের ফলাফল ও ভোটের পরিসংখ্যান
শনিবার সকাল আটটা থেকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ক্যাম্পাসের ইউনিভার্সিটি স্পোর্টস স্টেডিয়ামের মাল্টিপারপাস হলে ভোটগণনা শুরু হয়। এবিভিপি, কংগ্রেসের ছাত্রশাখা এনএসইউ (NSUI) এবং বামপন্থী জোট (আইসা-এসএফআই)-এর পাশাপাশি নির্দল প্রার্থীরাও এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কেন্দ্রীয় প্যানেলের চারটি পদের জন্য মোট ২০ জন প্রার্থী লড়াইয়ে ছিলেন। উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর একটা এবং দুপুর তিনটে থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়েছিল। মোট ১.৫১ লক্ষ পড়ুয়া ভোটারের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন ৪০.৪৬ শতাংশ।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী জয়ী প্রার্থীরা হলেন:
- সভাপতি পদ: এবিভিপি-র যশ দাবাস ২৪,৫৭৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনএসইউ-এর বিজয়শঙ্কর মীনা পান ২২,৫২৩ ভোট। হাড্ডাহাড্ডি এই লড়াইয়ে দু’হাজারের কিছু বেশি ভোটে পরাস্ত হন এনএসইউ প্রার্থী।
- সম্পাদক পদ: বিদ্যার্থী পরিষদের রিয়া ছাওড়ি ২১,৬৫০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
- যুগ্ম সম্পাদক পদ: এবিভিপি-র লক্ষ্য রাজ সিংহ ১৬,৬১৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
- সহ-সভাপতি পদ: এই পদে জয়ী হয়েছেন দীপাংশু শোকিন। অতীতে এনএসইউ-এর সদস্য থাকলেও এ বারের নির্বাচনে তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া
এ বারের নির্বাচনে কংগ্রেসের ছাত্রশাখা এনএসইউ কেন্দ্রীয় প্যানেলের কোনো আসনেই জয়লাভ করতে পারেনি, তবে সভাপতি পদে তারা এবিভিপি প্রার্থীকে তীব্র টক্কর দেয়। সাম্প্রতিক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনের পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এর আগে ২০২৫ সালের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সভাপতি, সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদে এবিভিপি এবং সহ-সভাপতি পদে এনএসইউ জয়ী হয়েছিল। এ বারের ফলাফলে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন লড়াইয়ে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখল বিদ্যার্থী পরিষদই।

