দীর্ঘদিনের ব্যবধানে ফের দামোদর নদে ইলিশ মাছের দেখা মিলল। পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে দামোদরে জাল ফেলেছিলেন এক স্থানীয় মৎস্যজীবী। জাল তুলতেই তার মধ্যে থেকে চকচক করে ওঠে রুপোলি ইলিশ। হঠাৎ দামোদরের মিষ্টি জলে ইলিশ পাওয়ার খবরে খুশির হাওয়া এলাকার মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।
দামোদরে ইলিশ উদ্ধারের ঘটনা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের বেলডাঙা এলাকার দামোদর নদে সকালে জাল ফেলে মাছ ধরতে নেমেছিলেন সনাতন সরকার নামের এক মৎস্যজীবী। কিছু সময় পর তিনি যখন জাল টেনে তীরে তোলেন, তখন দেখতে পান জালের মধ্যে দুটি ইলিশ মাছ আটকে রয়েছে।
কয়েক দিন ধরে চলা টানা বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন জলাধার থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়তে হচ্ছে, যার ফলে দামোদর নদের জলস্তর ও স্রোত অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই বর্ধিত জলের স্রোতেই ইলিশগুলি নদে চলে এসেছে। তবে জালে দুটি মাছ উঠলেও একটি মাছকে ধরে রাখতে সক্ষম হন মৎস্যজীবী, অন্যটি জলের টানে পালিয়ে যায়। একটিমাত্র মাছ ধরে রাখতে পারার আক্ষেপ থাকলেও দীর্ঘ দিন পর দামোদরে ইলিশের দেখা মেলায় খুশি সনাতন বাবু।
অতীতের স্মৃতি ও স্থানীয় কৌতূহল
এর আগে বছর দুয়েক আগে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর এলাকায় দামোদর নদে প্রায় এক দশক পর একটি ইলিশ মাছ ধরা পড়েছিল। সেবার প্রায় এক কেজি ওজনের সেই ইলিশটিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসাহ তৈরি হয়েছিল। নোনা জলের মাছ ইলিশ কীভাবে মিষ্টি জলের দামোদরে চলে এল, তা নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়েছিল। পরে সেই মাছ ২১০০ টাকা কেজি দরে এক স্থানীয় বাসিন্দা কিনে নেন।
পুনরায় দামোদর নদে ইলিশের এই উপস্থিতি বর্ধমানের মৎস্যজীবীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যেও বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে।

