এশিয়ান গেমস খেলতে গিয়ে জাপানে চরম অব্যবস্থাপনার মুখে পড়তে হলো ভারতীয় শিবিরকে। নিয়মমাফিক পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ভারতীয় প্রতিনিধি দলকে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এই দেরি হয়েছে। এর পাশাপাশি, হকির একটি ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর মতো গুরুতর ভুলেও তীব্র কূটনৈতিক ও ক্রীড়াগত বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পতাকা উত্তোলনে ভারতের পাঁচ ঘণ্টার অপেক্ষা
বহুপাক্ষিক এই প্রতিযোগিতায় নিয়ম অনুযায়ী গেমস শুরুর এক দিন আগে বিভিন্ন দেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ‘গার্ডেন পায়ার’-এ ভারতের পতাকা তোলার কথা ছিল। ভারতের পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইয়েমেন, উত্তর কোরিয়া, প্যালেস্তাইন, চিনা তাইপেই এবং টিমর লেস্টের প্রতিনিধিরাও। ভারতীয় দলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন শেফ দ্য মিশন সহদেব যাদব এবং চার জন ডেপুটি শেফ দ্য মিশন।
প্রাথমিকভাবে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে সামান্য দেরি হচ্ছে এবং ১৫ মিনিটের মধ্যে সমস্যা মিটিয়ে ফেলা হবে। কিন্তু সময় গড়াতে থাকলেও অনুষ্ঠানের দেখা মিলছিল না। পরবর্তীতে জানানো হয়, অলিম্পিক্স কাউন্সিল অফ এশিয়া (OCA) এবং আয়োজক কমিটির পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝির জন্যই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং প্রধান অতিথি দেরিতে আসার কারণেই এই বিলম্ব। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটা করেননি বলে জানানো হয়।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর অতিষ্ঠ হয়ে অনেক দেশের প্রতিনিধিরাই অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান। শেষ পর্যন্ত ভারতের পক্ষে ডেপুটি শেফ দ্য মিশন অঞ্জলি ভগবত এবং প্রাক্তন রিলে দৌড়বিদ লিজো ডেভিড থোট্টান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এই অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শেফ দ্য মিশন সহদেব যাদব বলেন, “জীবনে কোনো দিন এই জিনিস দেখিনি।”
দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত বিতর্ক
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জাপানে আর এক বড় বিপত্তি ঘটে হকি মাঠে। শুক্রবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে নেমেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় দক্ষিণ কোরিয়ার বদলে ভুলবশত উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়ে দেওয়া হয়।
গান শেষ হওয়ার পর আয়োজকেরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং পরে দক্ষিণ কোরিয়ার আসল জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। তবে সময়ের অভাব থাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীনই দুই দেশের খেলোয়াড়দের একে অপরের সঙ্গে হাত মেলানোর অনুরোধ জানানো হয়। উল্লেখ্য, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হলেও দুই কোরিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত বৈরী। এই গুরুতর ভুতির জেরে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হতে পারে বলে খবর।

