পুরুলিয়ায় হাড়হিম করা খুন: বস্তাবন্দি প্রেমিকার দেহ বাইকে চাপিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা ঘোরাঘুরি, শেষমেশ পুলিশের জালে প্রেমিক

পুরুলিয়ায় হাড়হিম করা খুন: বস্তাবন্দি প্রেমিকার দেহ বাইকে চাপিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা ঘোরাঘুরি, শেষমেশ পুলিশের জালে প্রেমিক

১২ সেপ্টেম্বর পুরুলিয়ায় প্রেমিকার নিথর দেহ বস্তাবন্দি করে বাইকে চাপিয়ে প্রমাণ লোপাট করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান অমিতকুমার মাহাতো নামের এক যুবক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনের পর প্রেমিকার দেহ বাইকে নিয়ে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ান ওই যুবক। তবে শেষরক্ষা হয়নি; গভীর রাতে বলরামপুর থানার পুলিশের তৎপরতায় তিনি হাতেনাতে ধরা পড়ে যান।

দীর্ঘক্ষণ ধরে দেহ নিয়ে ঘোরাঘুরি ও রুট

তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন অর্থাৎ গত শনিবার রাতে পুরুলিয়া শহরের মেস থেকে বেরিয়ে দুলমি হয়ে ১৮ নম্বর জাতীয় সড়কের বাইপাস রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন অমিত। সদ্যনির্মিত ওই বাইপাস রাস্তায় এখনও কোনো আলোর ব্যবস্থা নেই। এরপর পুরুলিয়া-রাঁচি ৩২ নম্বর রাজ্য সড়ক ধরে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন তিনি।

এরপর আবার সেই পথ ধরেই ফিরে এসে পুরুলিয়া মফস্সল থানার রুদড়া গ্রামের কাছে একটি পেট্রল পাম্পে বাইকে তেল ভরেন এবং ফের বাইপাসের রাস্তা ধরে বেরিয়ে যান। উল্লেখ্য, পুরুলিয়া-রাঁচি ৩২ নম্বর রাজ্য সড়ক ধরে কোটশিলা ও ঝালদা হয়ে বাঘমুন্ডি যাওয়া যায় (দূরত্ব প্রায় ৬৫-৭০ কিলোমিটার)। আবার উল্টো রাস্তা ধরে পুরুলিয়া শহর হয়েও বাঘমুন্ডি যাওয়া সম্ভব (দূরত্ব প্রায় ৫৮-৬০ কিলোমিটার)।

পুলিশের মনে প্রশ্ন জাগছে, অমিত কি প্রেমিকার গলাকাটা দেহ লোপাট করার জন্য কোনো নিরাপদ বা উপযুক্ত জায়গা খুঁজছিলেন, নাকি তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজছে পুলিশ।

খুনের টাইমলাইন ও তদন্তের অগ্রগতি

বন্ধুদের বয়ান অনুযায়ী, গত শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ খুনের ঘটনাটি ঘটে। অমিতের মেসের বন্ধুদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ তিনি ঘরে ছিলেন না; তার আগেই তিনি মেস থেকে বেরিয়ে যান বলে অনুমান পুলিশের। এরপর রাত প্রায় সোয়া বারোটা নাগাদ তিনি বলরামপুর পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। অর্থাৎ, এই দীর্ঘ সময়ে প্রেমিকার গলাকাটা দেহ বাইকে চাপিয়ে তিনি শহরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত চরকি পাক খেয়ে বেড়িয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এখনও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসেনি। ফলে মেয়েটির উপর কোনো শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত যুবক পুলিশকে জানিয়েছে যে, ত্রিকোণ প্রেমের জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই ধৃত যুবকের বাড়িতে তালা ঝুলছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.