টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে এন চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ ঘিরে তীব্র অন্দরের সংঘাত, সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ জানাল টাটা ট্রাস্টস

টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে এন চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ ঘিরে তীব্র অন্দরের সংঘাত, সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ জানাল টাটা ট্রাস্টস

টাটা শিল্পগোষ্ঠীর অন্দরে চলা ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বড় মোড়। গত অগস্টে পদত্যাগের ঘোষণা করলেও, আগামী পাঁচ বছরের জন্য এন চন্দ্রশেখরনকে ফের টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে পুনর্নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিল টাটা সন্সের বোর্ড। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বোর্ডের বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং চন্দ্রশেখরনও তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে স্বপদে বহাল থাকতে রাজি হয়েছেন বলে খবর। তবে এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়েছে টাটা ট্রাস্টস। বোর্ডের বৈঠকে একমাত্র নোয়েল টাটা এই পুনর্নিয়োগের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ায় দেশের অন্যতম বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল।

নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক ও টাটা ট্রাস্টসের আপত্তি

প্রায় সাড়ে ৩৮ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের টাটা গোষ্ঠীর মূল নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো টাটা সন্স, যার ৬৬ শতাংশ অংশীদারি রয়েছে টাটা ট্রাস্টসের হাতে। টিসিএস, টাটা মোটরস ও এয়ার ইন্ডিয়ার মতো ৩০টি সংস্থা নিয়ন্ত্রণকারী এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই মতবিরোধ চলছে।

  • পূর্বের পটভূমি: গত অগস্টে চন্দ্রশেখরন জানিয়েছিলেন, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর চেয়ারম্যান পদে থাকবেন না। এয়ার ইন্ডিয়ার লোকসান এবং টাটা সন্সকে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত (IPO) করা নিয়ে টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটার সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।
  • বোর্ডের বৈঠক ও বিরোধিতা: বৃহস্পতিবার টাটা সন্সের বোর্ড সভায় নোয়েলের আপত্তি উড়িয়ে চন্দ্রশেখরনকে পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়। এনআরসি-র সুপারিশ অনুযায়ী বোর্ডের অন্যান্য পাঁচ সদস্য— চন্দ্রশেখরন নিজে, বেণু শ্রীনিবাস, হরিশ মানওয়ানি, সৌরভ অগ্রবাল এবং অনিতা জর্জ এই পুনর্নিয়োগের পক্ষে ভোট দেন। একমাত্র টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা এর বিরোধিতা করেন।

‘অবৈধ’ দাবি টাটা ট্রাস্টসের ও শেয়ার বাজারে প্রভাব

বোর্ডের সিদ্ধান্তের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে টাটা ট্রাস্টস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, চন্দ্রশেখরনের ইস্তফা ঘোষণা একবার প্রকাশ্যে আসার পর তা আর প্রত্যাহার করা যায় না। এছাড়া, ট্রাস্টসের মতে, তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধিরা একমত না হলে এই নিয়োগ বিধিসম্মত নয়। এমনকি, এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের আইনি পরামর্শ বোর্ড বৈঠকে পেশ করতে চাওয়া হলেও তা গ্রাহ্য করা হয়নি বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশিকা মেনে টাটা সন্সকে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করার যে পদক্ষেপ চন্দ্রশেখরন শুরু করেছিলেন, নোয়েলের আপত্তি সত্ত্বেও বোর্ড সেই পথে হাঁটার পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এই টানাপড়েনের জেরে চেয়ারম্যান পদ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের সম্ভাবনার খবরে শেয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। টাটা কেমিক্যালসের শেয়ারের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ এবং টাটা স্টিলের শেয়ার দর ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.