চন্দ্রনাথ রথ খুন: সুপারি কিলারদের দিতে খরচ হয়েছিল দু’কোটি টাকা, চাঞ্চল্যকর দাবি শুভেন্দু অধিকারীর

চন্দ্রনাথ রথ খুন: সুপারি কিলারদের দিতে খরচ হয়েছিল দু’কোটি টাকা, চাঞ্চল্যকর দাবি শুভেন্দু অধিকারীর

নিজের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডে পূর্বের মতোই বড়সড় ‘ষড়যন্ত্রে’র তত্ত্ব সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার এ বিষয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বিস্ফোরক দাবি করেন যে, চন্দ্রনাথকে খুন করার জন্য মোট দু’কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, এই বিপুল পরিমাণ টাকা শুটার বা সুপারি কিলারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নেপথ্যে ‘ভাইপো গ্যাং’-এর হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মনোনয়ন জমা ও সিবিআই তদন্ত প্রসঙ্গে শুভেন্দু আসন্ন উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নিহত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। মঙ্গলবার হলদিয়া মহকুমাশাসকের দফতরে গিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন জমা দেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। দফতর থেকে বেরিয়েই তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেন।

শুভেন্দু জানান, এই খুনের নেপথ্যে আন্তঃরাজ্য যোগ থাকার কারণে বর্তমানে মামলার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে রয়েছে। তিনি বলেন, “চন্দ্রনাথকে খুন করার উদ্দেশ্যে শুটার এবং তাঁদের সুপারি যারা দিয়েছিল, এমন সাতজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আমার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য দু’কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। এই টাকা সরবরাহের কাজ করেছে ভাইপো গ্যাং।”

ডায়মন্ড হারবার যোগ এবং কল রেকর্ডের দাবি চন্দ্রনাথকে খুন করতে যাঁরা শুটারদের হাতে টাকা পৌঁছে দিয়েছিলেন, তাঁরা ডায়মন্ড হারবারের বাসিন্দা বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি তিনি তাঁদের কল রেকর্ডও শুনেছেন বলে জানান। শুভেন্দুর কথায়, “এর থেকে বেশি এই মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়। বাকি তদন্ত সিবিআই করছে। তারা সাতজনকে গ্রেফতার করেছে এবং চার্জশিটও জমা দিয়েছে। আমার পূর্ণ বিশ্বাস, এদের ফাঁসি হবে।”

উল্লেখ্য, সিবিআইয়ের দেওয়া চার্জশিটে যে সাতজনের নাম রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে সরাসরি তৃণমূলের কোনো যোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি। সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের মধ্যে দু’জন বাদে বাকিরা ভিন্‌রাজ্যের পেশাদার অপরাধী। ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে সাগর এবং সাহেব সোনকরকে গ্রেফতার করা হলেও তাঁরা কেউ ডায়মন্ড হারবারের বাসিন্দা নন, তবে তাঁরা চন্দ্রনাথের পূর্বপরিচিত ছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার এক কর্তা জানিয়েছেন, শুটার নিয়ে আসা থেকে শুরু করে রসদ সরবরাহ এবং রেকি করার মতো সমস্ত পরিকল্পনাতেই এঁরা যুক্ত ছিলেন।

হত্যার পটভূমি এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল। তার ঠিক দু’দিনের মাথায়, অর্থাৎ ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন শুভেন্দুর তৎকালীন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ। ঘটনার দিন গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন তিনি। বাইকে করে এসে আততায়ীরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। এই হামলায় চালকও জখম হন। রক্তাক্ত অবস্থায় চন্দ্রনাথকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সিবিআই তদন্তের দাবি তোলা হয়েছিল, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসে। প্রথমে রাজ্য পুলিশ ও পরবর্তীতে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এই ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও পরে তা সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। মঙ্গলবারে শুভেন্দু অধিকারীর এই চাঞ্চল্যকর দাবির পর শাসক দলের তরফে তাঁদের পূর্বের অবস্থান ও দাবির কথাই পুনরায় মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.