দিল্লির মেসবাড়ি বিপর্যয়: বিপদের দায় পিজি কর্তৃপক্ষের নয়, এমন মুচলেকায় সই করিয়েই চলত ছাত্রাবাস!

দিল্লির মেসবাড়ি বিপর্যয়: বিপদের দায় পিজি কর্তৃপক্ষের নয়, এমন মুচলেকায় সই করিয়েই চলত ছাত্রাবাস!

দিল্লির চাণক্যপুরী সংলগ্ন সত্য নিকেতনে পাঁচতলা ছাত্রাবাস বা মেসবাড়ি ভেঙে সাতজনের প্রাণহানির ঘটনার পর আবাসিকদের সই করানো একটি বিতর্কিত চুক্তিপত্র সামনে এসেছে। জানা গেছে, ওই বাড়িতে পেয়িং গেস্ট (পিজি) হিসেবে থাকার আগে আবাসিক ছাত্রদের একটি মুচলেকায় সই করতে হতো। সেই চুক্তিপত্রের একটি নির্দিষ্ট ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, সংশ্লিষ্ট আবাসিকের জীবন বা সম্পত্তির কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা ঝুঁকির কোনো দায়ভার পিজি কর্তৃপক্ষের নয়!

রবিবার ঘটা এই দুর্ঘটনার পর চুক্তির এই শর্তটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। এই অনিয়ম ও অবহেলার জবাবদিহির মুখে পড়তে হতো ভবনটির মালিক হরিরাম বনসলকে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক থাকলেও, পুলিশের জারি করা লুকআউট নোটিসের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত রাজস্থান থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর জখম অবস্থায় আরও কয়েকজন দিল্লির এইমস ট্রমা কেয়ারে চিকিৎসাধীন।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সত্য নিকেতন এলাকায় আবাসনের তীব্র সংকটের সুযোগ নিয়ে গড়ে উঠেছিল এই পিজিগুলি। পুরসভার খাতায় বসতবাড়ি হিসেবে নথিভুক্ত ৫০ বছরের পুরনো ওই বাড়িটির মূলত দোতলা পর্যন্ত অনুমোদিত নকশা থাকলেও, বেআইনিভাবে আরও তিনটি তলা বাড়ানো হয়েছিল। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঝুঁকিপূর্ণ বহুতলে স্বতন্ত্র ঘরের বদলে শয্যাপিছু চড়া মূল্যে ভাড়া নেওয়া হতো। একতলা থেকে শুরু করে ওপরের তলার শয্যাপ্রতি মাসিক ভাড়া ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পর্যাপ্ত হস্টেলের অভাবের সুযোগ নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের চরম অসহায়তাকে পুঁজি করে এভাবেই নিরাপত্তা বিপন্ন করে রমরমিয়ে অবৈধ ছাত্রাবাস ব্যবসা চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.