জাতীয় বা রাজ্যস্তরের দলের স্বীকৃতি না থাকা সত্ত্বেও গুজরাতের ছ’টি ‘অচেনা’ রাজনৈতিক দল ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে চমকপ্রদভাবে ১৭০০.৭৮ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে লাভ করেছে। বিবিসি হিন্দির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পাঁচ জাতীয় দলের সম্মিলিত আয়ের চেয়েও বেশি অনুদান নির্বাচন কমিশনের খাতায় রেজিস্টার্ড হলেও এই দলগুলি ন্যূনতম ভোট বা আসন না পাওয়ার কারণে ‘স্বীকৃত’ দলের মর্যাদা পায় না। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে বিজেপি বাদে দেশের অন্য পাঁচটি প্রধান জাতীয় দল— কংগ্রেস, সিপিএম, আপ, বিএসপি এবং ন্যাশনাল পিপল্স পার্টির সম্মিলিত মোট আয় ছিল ১,৪৮০.৪৩ কোটি টাকা। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই পাঁচটি জাতীয় দলের মোট আয়ের চেয়েও অনেক বেশি অর্থ অনুদান হিসেবে ঘরে তুলেছে গুজরাতের এই ছ’টি অখ্যাত রাজনৈতিক দল। যদিও দলগুলির বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আর্থিক অসদাচরণের অভিযোগ তোলা হয়নি, তবে নামমাত্র পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও এই বিপুল পরিমাণ অর্থপ্রাপ্তি যথেষ্ট অস্বাভাবিক বলে মনে করছে বিবিসি।
শীর্ষে আম জনমত পার্টি প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুদানপ্রাপ্ত এই ছ’টি দলের মধ্যে চারটিই আমদাবাদভিত্তিক। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সবচেয়ে বেশি অনুদান পেয়েছে ‘আম জনমত পার্টি’। ওই এক বছরে অনুদান বাবদ তাদের আয় হয়েছে ৬২০ কোটি টাকা, যেখানে তার আগের অর্থবর্ষে তারা পেয়েছিল ২১৬ কোটি টাকা। গত লোকসভা নির্বাচনে তারা মাত্র একটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। ২০২০ সালে পাটনায় গঠিত এই দলের প্রথম সভাপতি ছিলেন অনামিকা পাসওয়ান, যিনি বর্তমানে বিহার বিজেপির সহ-সভাপতি। তাঁর দাবি, দলটি আমদাবাদে স্থানান্তরিত হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেছেন।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ‘সত্যবাদী রক্ষক পার্টি’ ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ৩৩০.৫৫ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে। তারাও লোকসভা নির্বাচনে একটি আসনে লড়েছিল এবং প্রচার বাবদ ৮.৪৮ কোটি টাকা খরচ করার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজে ৩১৬ কোটি টাকা ব্যয়ের দাবি করেছে। এছাড়া তালিকায় থাকা বাকি দলগুলির মধ্যে—
- স্বতন্ত্রতা অভিব্যক্তি পার্টি: ২১৯.৬৯ কোটি টাকা
- নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি: ২০০.৬৯ কোটি টাকা
- ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল: ১৯১.৬১ কোটি টাকা
- গরিব কল্যাণ পার্টি: ১৩৮ কোটি টাকা
বন্ধ দফতর ও নিষ্ক্রিয় নেতৃত্ব বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দলগুলির বেশিরভাগেরই নির্দিষ্ট অফিস বা দফতর বন্ধ থাকে। যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বেশিরভাগ নেতার খোঁজ মেলেনি কিংবা তাঁরা মুখ খুলতে চাননি। গত লোকসভা নির্বাচনে এই ছ’টি দল মিলে মোটে ১৫ জন প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিল।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের খাতায় বর্তমানে প্রায় ২,৮০০টি এমন রাজনৈতিক দল রেজিস্টার্ড রয়েছে যাদের কোনো সরকারি স্বীকৃতি নেই। এর আগে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)-এর প্রতিবেদনেও এই ধরনের অস্বীকৃত দলগুলির আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল, যেখানে দেখা গিয়েছিল এই দলগুলির ৭৩ শতাংশই নিজেদের বার্ষিক আর্থিক হিসাব জমা বা প্রকাশ করেনি।

