পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি ভারতকে মেনে চলতে হবে বলে সোমবার রায় দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত। একইসঙ্গে, জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তওয়াড় জেলার রতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ কাটছাঁট করার জন্যও নয়াদিল্লিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি একতরফাভাবে বাতিল বা স্থগিত করার কোনো আইনি ক্ষমতা ভারতের নেই এবং দু’দেশের মধ্যে চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর রয়েছে।
আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায় ঘোষণার পরই তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, আদালতের রায়ের কোনো প্রভাব ভারত সরকারের পদক্ষেপের ওপর পড়বে না এবং সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই রাখা হবে। বিশ্বব্যাঙ্ক কর্তৃক নিযুক্ত এক নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে হিমালয় অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সিন্ধু জলচুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করার প্রস্তাবও ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি, আন্তর্জাতিক ওই আদালতের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নরেন্দ্র মোদী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, অবৈধভাবে গঠিত ওই সংস্থার মন্তব্যের কোনো মূল্য নেই।
উল্লেখ্য, গত বছর এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসবাদী হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রেখেছিল ভারত সরকার। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর আমলে ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই সিন্ধু জলচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, পূর্বমুখী শতদ্রু, বিপাশা ও ইরাবতীর জলের ওপর ভারতের অধিকার রয়েছে এবং পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তার জলের নিয়ন্ত্রক পাকিস্তান। চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিমমুখী নদীগুলির জল কৃষি বা পানীয় জলের প্রকল্পে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ হলেও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে তা ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে ভারতের। তবে কিশনগঙ্গা এবং রতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করে ভারত জল আটকে দিচ্ছে—এই অভিযোগে ২০১৬ সালে দ্য হেগের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল পাকিস্তান। যদিও সে সময়ও আদালতের সুপারিশ মানতে অস্বীকার করেছিল ভারত।

