রাজ্যের তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে সমবায় সমিতিগুলি সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সমবায় সমিতিগুলোকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং মহিলা ক্ষমতায়নের প্রধান ভিত হিসাবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে সরকারি কর্মসূচি সেরে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে পৌঁছোন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মহিলা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন তিনি। সংস্থার ডিরেক্টর সঞ্চিতা দত্ত এবং সম্পাদক কৃষ্ণা বসুকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেন্দু জানান, এই সংস্থায় ২৩ হাজার মহিলা সদস্যের যুক্ত থাকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং বর্ষাকাল না হলে কাছারি ময়দানে বিশাল সমাবেশ করা সম্ভব হতো।
সংস্থার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সমবায় সমিতিগুলোর উন্নতি মানেই অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নতি, অথচ গত ১৫ বছরে রাজ্যের সমস্ত সমবায় চরম অবহেলার শিকার হয়েছে। রাজ্যের প্রায় ৬ হাজার সমবায়ের মধ্যে ২ হাজার সমবায়ই আজ নিষ্ক্রিয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন সরকারকে নিশানা করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটা সত্যি যে, পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরে সমবায় আন্দোলন অবহেলিত হয়েছে। ওই সরকারে কিছুটা সময় আমিও ছিলাম। কিন্তু কী করবেন! সকলেই তো সেখানে ল্যাম্পপোস্ট ছিল। পোস্ট তো একটাই।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘বোঝালেও বুঝত না। কিছু বললেই বলত, ‘আমি তো সব জানি’। আমি বলি, ‘না, আমি কিছু জানি। অনেক কিছুই শিখছি।’’’
অনুষ্ঠানে প্রয়াত প্রাক্তন সমবায় মন্ত্রী সরল দেবের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি জানান, ৩৫ বছর আগে রোপণ করা সেই ছোট বীজটি আজ একটি প্রকাণ্ড বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের ‘চরৈবেতি চরৈবেতি’ মন্ত্রকে পাথেয় করে আগামী দিনে এই মহিলা পরিচালিত সমবায় আরও বিশাল মহীরুহে পরিণত হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য খাদ্য এবং সমবায় দফতরের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া এবং জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া। মহিলা পরিচালিত এই সমবায় সংস্থার দীর্ঘ পথচলাকে রাজ্যের সমবায় আন্দোলনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে শুভেন্দু নির্দেশ দেন যে এই সমিতিকে গোটা জেলায় ছড়িয়ে দিতে হবে। সমবায়কে বিকল্প অর্থনীতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন যে মহিলা পরিচালিত সমবায় সুরক্ষিত থাকার অর্থই হলো মহিলা ক্ষমতায়নকে আরও সুদৃঢ় করা।

