মেসির অনুষ্ঠানে প্রতারিত ৩৩ হাজার ফুটবলপ্রেমী টাকা ফেরত পাবেন, জাতীয় ক্রীড়া দিবসের অনুষ্ঠানে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

মেসির অনুষ্ঠানে প্রতারিত ৩৩ হাজার ফুটবলপ্রেমী টাকা ফেরত পাবেন, জাতীয় ক্রীড়া দিবসের অনুষ্ঠানে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

গত ডিসেম্বরে কলকাতায় লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার জেরে টিকিট কেটেও যাঁদের টাকা জলে গিয়েছিল, সেই ৩৩ হাজার প্রতারিত সমর্থকের অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করছে রাজ্য সরকার। শনিবার জাতীয় ক্রীড়া দিবসের এক অনুষ্ঠানে এই আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আর্থিক অনুদান সংক্রান্ত একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেছেন।

গত ডিসেম্বরে যুবভারতীতে লিয়োনেল মেসির উপস্থিতি ঘিরে চরম অব্যবস্থা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। মাঠে অতিরিক্ত মানুষের প্রবেশের কারণে মেসি এবং তাঁর দুই সঙ্গী লুই লুয়ারেস ও রদ্রিগো দি পল মাঠে ভিড়ের আড়ালে চলে যান এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। অতিরিক্ত টিকিটের দাম দিয়ে টিকিট কেনা সত্ত্বেও মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা বাইরে বিক্ষোভ দেখান এবং টিকিটের দাম ফেরতের দাবি জানান। ওই ঘটনার জেরে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং আয়োজক শতদ্রু দত্ত গ্রেফতার হন (বর্তমানে জামিনে মুক্ত)।

এ দিন সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের রাজ্যে মেসির মতো খেলায় কেলেঙ্কারি হয়েছে। ডেলিভারি বয়ের মতো ছেলেরা সারা বছরের জমানো টাকা খরচ করে চার, ছয় বা আট হাজার টাকার টিকিট কেটে প্রতারিত হয়েছে। ৩৩ হাজার প্রতারিত সমর্থকের টাকা যাতে ফেরত দেওয়া যায় বা ফেরত করানোর প্রক্রিয়া চালানো যায়, সেই চেষ্টা আমরা ভেতরে ভেতরে চালাচ্ছি।”

এ দিনের অনুষ্ঠানে ১৪৭ জন কৃতি ক্রীড়াবিদকে সংবর্ধনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে সোনা এবং মিক্সড ইভেন্টে ব্রোঞ্জজয়ী শুটার অভিনব সাউকে সর্বাধিক ২৬ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া অ্যাথলেটিক্সে তাহুরা খাতুনকে ১২.৫০ লক্ষ এবং জিমন্যাস্টিক্সে প্রণতি দাসসহ অন্যন্যদের ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বেশ কয়েকজনকে চাকরির নিয়োগপত্রও তুলে দেওয়া হয়।

রাজ্যে উপযুক্ত ক্রীড়াবিদ তৈরি না হওয়া নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অনুপ্রেরণা, সঠিক সহযোগিতা ও পরিকাঠামোর অভাবেই অলিম্পিক্স, এশিয়ান গেমস বা কমনওয়েলথ গেমসে বাংলার প্রতিনিধিত্ব প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমেছে, যেখানে প্রতিবেশী ওড়িশা বা ঝাড়খণ্ড এগিয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে ক্রীড়া দফতরে আগামী আট মাসের বাজেটে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভায় টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও জিম সহ আধুনিক মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার প্রথম ধাপে ১০০টি স্টেডিয়াম তৈরি হবে। পাশাপাশি জীর্ণ অরবিন্দ স্টেডিয়াম এবং অচল জেলা ও সাব-ডিভিশনাল ক্রীড়া সংস্থগুলিকে সচল করা হবে এবং জাতীয় স্তরের ক্লাবগুলিকে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের বরাদ্দ আনতে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এবং প্রধান সচিব অবনীন্দ্র সিনা সোমবার দিল্লি যাচ্ছেন। প্রাথমিক প্রতিশ্রুতির ১০০ কোটি টাকার পাশাপাশি দিল্লি থেকে যাতে আরও ১০০০ কোটি টাকা আনা যায়, সে বিষয়েও তিনি উদ্যোগ নেবেন। এ দিন কলকাতার দুই প্রধান দল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হালকা মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমার বাড়িতে দু’রকমই রয়েছে। আমি মোহনবাগান, আমার মা ইস্টবেঙ্গল।”

শনিবারের এই অনুষ্ঠানে বুলা চৌধুরী, জ্যোতির্ময়ী শিকদার, সোমা বিশ্বাস, মহম্মদ আলি কামার, দিব্যেন্দু বড়ুয়া এবং এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবের মতো বিশিষ্ট প্রাক্তনী ও ক্রীড়াব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.