আমেরিকা থেকে জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পরিকল্পনা ভারতের, দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় জোর

আমেরিকা থেকে জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পরিকল্পনা ভারতের, দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় জোর

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের থেকে মানববাহী বা ‘ম্যান-পোর্টেবল’ জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক (ট্যাঙ্ক ধ্বংসকারী) ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ের পরিকল্পনা করছে ভারত। সেই সঙ্গে দুই দেশ যৌথভাবে এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সম্ভাবনার দিকটিও খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বর্তমানে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলেই মত তাঁর।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মিত্রতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ের বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও প্রথমদিকে ওয়াশিংটন তা বিক্রিতে ইচ্ছুক ছিল না। দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সেই প্রতিবন্ধকতা দূর হয়েছে।

গত বছর ৩১ অক্টোবর কুয়ালা লামপুরে আসিয়ান প্রতিরক্ষা সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং মার্কিন যুদ্ধসচিব পিট হেগসেথের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি লেনদেনের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত ওই দশ বছরের চুক্তিরই একটি অংশ হিসেবে এই জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চলেছে ভারত।

মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রস্তুতকারক সংস্থা রেথিয়ন টেকনোলজিস (প্রাক্তন ম্যারিয়েটা) এবং লকহিড মার্টিনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র সামান্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই একজনমাত্র সেনা জওয়ান ব্যবহার করতে পারেন। প্রায় ২৩ কেজি ওজনের এই অস্ত্রটি কাঁধে রেখে নিখুঁত নিশানায় ছোড়া যায়, যার লঞ্চারের ওজন প্রায় ৬.৪ কেজি। প্রায় চার কিলোমিটার পাল্লার এই ‘ট্যাঙ্কার কিলার’ ক্ষেপণাস্ত্রটি সাড়ে আট কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম এবং এটি ধীর গতিতে ওড়া হেলিকপ্টার ধ্বংস করতেও সমানভাবে পটু। কাঁধে রেখে ছোড়ার পর প্রায় ১৫০ মিটার উঁচুতে উঠে সরাসরি উপর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে এটি। পনেরো সেকেন্ডেরও কম সময়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক মূল্য প্রায় দু’লক্ষ মার্কিন ডলার। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় অস্ত্রভাণ্ডারে এই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়া দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.