যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেও এবিভিপি (ABVP) এবং এসএফআই (SFI)-এর মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠল। মঙ্গলবার দুই ছাত্র সংগঠনের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষই ক্যাম্পাসে বহিরাগত ঢোকানোর পালটা অভিযোগ তুলেছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ও দুই পক্ষের অভিযোগ
- এবিভিপির বক্তব্য: এবিভিপির কলকাতা মহানগর সম্পাদক স্বাধীন হালদারের দাবি, এ দিন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তাঁদের একটি কর্মসূচি ও বৈঠক চলছিল। সেই সময় ক্যাম্পাসের বাইরে এসএফআইয়ের সমাবেশ থেকে আচমকাই কিছু কর্মী-সমর্থক এবং বহিরাগতরা জোর করে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়েন। এর পরেই এবিভিপি সদস্যদের উপর হামলা চালানো হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
- এসএফআইয়ের বক্তব্য: অন্যদিকে, এসএফআইয়ের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সম্পাদক অমিতকুমার ঘোষ সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সে সময় ক্যাম্পাসের বাইরে তাঁদের সমাবেশ চলছিল এবং মিছিল করে রেজিস্ট্রারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকা সত্ত্বেও মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদ জানাতে গেলে এবিভিপি সদস্য ও সমর্থকরা তাঁদের উপর চড়াও হন।
এসএফআইয়ের আরও দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের জানিয়েছিলেন যে ক্যাম্পাসের ভেতরে এবিভিপির বৈঠক এবং বাইরে এসএফআইয়ের কর্মসূচি থাকায় সংঘর্ষ এড়াতেই গেট বন্ধ রাখা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁরা যৌথভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন। এই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাস জানান, দু’পক্ষের মধ্যেই স্লোগান-পালটা স্লোগান চলছিল। তিনি নিজে নিচে নেমে আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং দুই পক্ষই তাঁর কাছে পৃথকভাবে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।
যাদবপুরের ঘটনার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে ছাত্র মহলে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

