শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচে অপরাজিত ১১৫ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেললেন তরুণ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ধ্রুব জুরেল। অর্ধশতরান পূরণের পর স্যালুট জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি, শতরানের পর নিজের হাতের বিশেষ ট্যাটু প্রদর্শন করে সকলের নজর কেড়ে নেন তিনি। দিনের খেলা শেষে সেই ট্যাটুর নেপথ্য কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ভারতের এই উদীয়মান ক্রিকেটার।
ট্যাটুর নেপথ্যের গল্প ও পরিবারের অবদান
ধ্রুব জুরেলের বাঁ হাতের পেশিতে খোদাই করা রয়েছে ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’ স্লোগানটি। এই বিশেষ ট্যাটু সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, তাঁর ঠাকুরদা একজন কৃষক ছিলেন এবং তাঁর বাবা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে দেশের সেবা করেছেন। নিজের পরিবারের এই পটভূমিকে স্মরণ করে জুরেল বলেন, “আমি নিজের শিকড় কখনও ভুলতে চাই না। এই শতরান ও উচ্ছ্বাস সম্পূর্ণভাবে তাঁদের জন্যই।”
মাত্র ২৫ বছর বয়সি উত্তরপ্রদেশের এই ক্রিকেটার তাঁর কাতারির ১২ নম্বর টেস্ট ম্যাচেই কেরিয়ারের দ্বিতীয় শতরানটি তুলে নিলেন এবং ক্রমশ ভারতের টেস্ট দলে নিজের জায়গা পাকা করে নিচ্ছেন। শতরানের পর তিনি জার্সির হাতা গুটিয়ে ক্যামেরার সামনে সেই ট্যাটুটি প্রদর্শন করেন।
ঋষভ পন্থের প্রশংসা ও দলের ভূমিকা
ম্যাচে ঋষভ পন্থ ব্যাট করার সময় হাতে চোট পাওয়ায় তিনি উইকেটরক্ষার দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। ফলে দীর্ঘক্ষণ ব্যাট করার পরেও শ্রীলঙ্কার ইনিংসে উইকেটের পিছনে নিরলস দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে জুরেলকে। দলের সিনিয়র সতীর্থ পন্থের প্রশংসা করে জুরেল জানান, “পন্থ একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়। যেকোনো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে কীভাবে খেলা উচিত, সেই বিষয়ে আমি ওর কাছ থেকেই পরামর্শ নিই।”
নিজের ব্যাটিং ও ইনিংস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জুরেল বলেন, “সাধারণত আমি ওপরের দিকে ব্যাট করি এবং বড় জুটি গড়ার দিকেই আমার মূল নজর থাকে। দেশের হয়ে মাঠে নামলে একটা আলাদা অনুভূতি কাজ করে। আজ হয়তো আমি ১০০ রান করেছি, তবে কাল আমাকে আবার শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে।” শতরান নিয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসে ভাসতে নারাজ তিনি, বরং নিজের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরই জোর দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, কলম্বোয় ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের শেষে প্রথম ইনিংসে ভারত ৫০৩ রান তোলার পর, শ্রীলঙ্কা মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে চাপে রয়েছে। দলের সামগ্রিক সাফল্যের পাশাপাশি ধ্রুব জুরেলের এই দায়িত্বশীল ইনিংস ভারতীয় দলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছে।

